আমীন আল রশীদ

জুলাই জাতীয় সনদে বাংলাদেশে একটি দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা থাকবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষের (জাতীয় সংসদ) নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্য নির্বাচিত হবেন। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী বিএনপি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু তারা ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে নয়, বরং জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের ১০০ আসন বণ্টনের পক্ষে। সুতরাং সংবিধান সংস্কার পরিষদে যদি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব ওঠে, তাহলে সেটি শুরুতেই জটিলতায় পড়বে। বিশেষ করে কোন পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের সদস্য নিয়োগ করা হবে, সেই প্রশ্নে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের কাছে বিরোধী দলের সদস্যদের কণ্ঠ ম্লান হয়ে যেতে পারে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা তথা উচ্চকক্ষ গঠন আদৌ প্রয়োজন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তবে এটাও ঠিক যে সংসদকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা তথা আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের লাগাম টানার উপায় কী—তা নিয়েও আলোচনার অবকাশ রয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্য নির্বাচিত হবেন বলার পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে শপথ গ্রহণের তারিখ হতে ৫ (পাঁচ) বছর। তবে কোনো কারণে নিম্নকক্ষ ভেঙে গেলে উচ্চকক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। তালিকায় কমপক্ষে ১০ (দশ) শতাংশ নারী প্রার্থী থাকতে হবে।
উচ্চকক্ষের দায়িত্ব ও ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষের প্রস্তাবিত আইন প্রণয়নের বিষয়টি উচ্চকক্ষ পর্যালোচনা করবে। উচ্চকক্ষের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না; তবে কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন প্রণয়নের জন্য নিম্নকক্ষ বরাবর প্রস্তাব করতে পারবে। নিম্নকক্ষে পাসকৃত অর্থবিল এবং আস্থা ভোট ব্যতীত সকল বিল উচ্চকক্ষে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল স্থায়ীভাবে আটকে রাখতে পারবে না। উচ্চকক্ষ কোনো বিল সর্বোচ্চ ২ (দুই) মাসের বেশি আটকে রাখলে তা উচ্চকক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত বলে বিবেচিত হবে।
আরও বলা হয়েছে, যদি উচ্চকক্ষ কোনো বিল অনুমোদন করে সেক্ষেত্রে উভয় কক্ষ কর্তৃক পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। যেক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ সংশোধনের সুপারিশসহ বিল পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্নকক্ষে পাঠাবে সেক্ষেত্রে নিম্নকক্ষ উচ্চকক্ষের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। উচ্চকক্ষ থেকে ফেরত পাঠানো বিল যদি নিম্নকক্ষের অধিবেশনে আবারও পাস হয়, তবে উচ্চকক্ষের অনুমোদন ছাড়াই বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য প্রেরিত হবে।
উচ্চকক্ষ গঠনের মূল উদ্দেশ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধানে যেমন খুশি তেমন পরিবর্তনের প্রবণতা বন্ধ করা। জুলাই সনদে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত যেকোনো বিল উচ্চকক্ষের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করতে হবে। অর্থাৎ সংবিধান সংশোধন করতে হলে আইনসভার উভয়কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠত সদস্যের মতামত লাগবে।
ভোট প্রাপ্তির অনুপাতে তথা পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের এই প্রস্তাবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নেয়া ২৪টি দল একমত হয়েছে। তবে বিএনপিসহ ৬টি রাজনৈতিক দল (বিএনপি, ১২ দলীয় জোট, এনডিএম, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ) এতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের প্রস্তাব দিয়েছে। আর লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এই মুহূর্তে বাংলাদেশে উচ্চকক্ষ প্রয়োজন নেই বলে মতামত দিয়েছে।
যেহেতু গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হয়েছে, অতএব জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংসদ সদস্যরা প্রথম ১৮০ দিন একইসাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেই পরিষদে জুলাই সনদে বর্ণিত প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতে এগুলো গৃহীত বা বাতিল হবে। সেই ধারাবাহিকতায় উচ্চকক্ষের বিষয়েও আশা করা যায় একটি প্রস্তাব উঠবে। তখন এই প্রস্তাবের ওপর সদস্যরা নিজেদের মতামত দেবেন। হয়তো বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হবে। সেই আলোচায় ভোটের অনুপাতে এবং আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের একশো সদস্য নিয়োগের বিষয়ে প্রত্যেকে তাদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। পরে স্পিকার বিষয়টি ভোটে দিলে সংখ্যারিষ্ঠ সদস্যরা যে পদ্ধতির পক্ষে হ্যাঁ বলবেন, সেটিই পাস হবে। সংসদে ও সংবিধান সংস্কার পরিষদে বিএনপি যেহেতু দুই তৃতীয়াংশ আসনে থাকবে, অতএব আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের সদস্য বণ্টনের পক্ষেই হয়তো তাদের সদস্যরা ভোট দেবেন। কিন্তু সমালোচনা হলো এই যে যদি আসনের বিপরীতেই উচ্চকক্ষের সদস্য বণ্টন করা হয়, তাহলে সেটি গণতান্ত্রিক হবে কি না?
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এসব আসনে বিএনপি যে ভোট পেয়েছে, তাতে ভোটের হার বিবেচনায় উচ্চকক্ষ গঠিত হলে তাতে বিএনপি অর্ধেক তথা ৫০টি আসন পাবে। বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটের হার ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। সেই হিসাবে তারা পাবে ৩২টি। খেলাফত মজলিসের প্রাপ্ত ভোটের হার ২.০৯ শতাংশ। অতএব উচ্চকক্ষে তারা আসন পাবে ৩টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২-৩টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ৩টি আসন পাবে। যেসব দল এক শতাংশের কম ভোট পেয়েছে, তাদের কোনো প্রতিনিধি উচ্চকক্ষে থাকবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে মোট ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এসব প্রার্থী জোটবদ্ধ হলে ভোটের হিসাবে তারাও ৬টি আসন পেতে পারেন।
অন্যদিকে বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী জাতীয় সংসদে প্রাপ্ত আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করা হলে বিএনপি পাবে ৬৯টি। জামায়াত যেহেতু ৬২টি আসনে জয়ী হয়েছে, অতএব তারা পাবে ২৩টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২-৩টি আর এনসিপি যেহেতু ৬টি আসনে জয়ী হয়েছে, অতএব উচ্চকক্ষে তারা পাবে ২টি আসন। তার মানে বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠিত হলে তাদের আসন সংখ্যা বেশি হবে। আর জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রস্তাব অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠিত হলে জামায়াত ও অন্যান্য দলের আসন বাড়বে।
এবার আসা যাক উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তার প্রশ্নে। উচ্চকক্ষ গঠনের প্রয়োজন সম্পর্কে বলা হয়, এর মাধ্যমে আইনসভার নিম্নকক্ষ তথা জাতীয় সংসদ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যাতে যেকোনো আইন পাস বা সংবিধান সংশোধন করতে না পারে। অর্থাৎ একটি চেক অ্যান্ড ব্যালান্স তথা ভারসাম্য তৈরির জন্য এই ব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সংসদ নিজেই যদি শক্তিশালী হয়, যদি সংসদ সদস্যরা কথা বলা, মতামত প্রদান ও ভোটদানের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকেন, তাহলে সংসদ যা খুশি করতে পারে না।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ-সদস্য যদি নিজের দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেন তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। এই বিধানটি সংসদ সদস্যদের কণ্ঠরোধ করে বলে অভিযোগ থাকলেও সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোটদান বলতে কী বুঝায়—সেটি পরিষ্কার নয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এটিই বলা হচ্ছে যে, ৭০ অনুচ্ছেদ মানে সংসদে দলের সব সিদ্ধান্তের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। বস্তুত এটি ৭০ অনুচ্ছেদের একধরনের অপব্যাখ্যা এবং এই ব্যাখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্যদের মনে একধরনের ভীতি তৈরি করে রাখা, যাতে তারা দল ও সংসদ নেতার প্রতি শত ভাগ অনুগত থাকেন। যাতে তারা মন খুলে কথা বলতে না পারেন।
৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বছরের বছর ধরে এই ভীতি থাকার আরেকটি কারণ, এই অনুচ্ছেদটি পরীক্ষিত নয়। অর্থাৎ কোনো বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় কারো সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়েছে এমন কোনো উদাহরণ তৈরি হয়নি। আবার কোনো সংসদ সদস্য সাহস করে বিপক্ষে ভোট দিয়ে দৃষ্টান্তও স্থাপন করেননি। যদি কেউ এরকম একটি সাহস করতেন এবং যদি সত্যিই তার সদস্যপদ বাতিল হতো, তখন তিনি আদালতের কাছে এর প্রতিকার চাইতে পারতেন। তখন আদালত হয়তো এর একটা ফয়সালা করতেন।
এরকম বাস্তবতায় ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবও করা হয়েছে জুলাই সনদে। সেখানে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের সদস্যরা কেবল অর্থবিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতি অনুগত থাকবেন। অন্য যেকোনো বিষয়ে তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। বিএনপিও এই প্রস্তাবের সাথে একমত। সুতরাং এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, সংসদে এমপিরা যদি স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন, বিশেষ করে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া সর্বক্ষেত্রে নিজেদের মতামত ও ভিন্নতম দিতে পারেন; এমনকি তারা যদি বিলের ওপর সংশোধনী বা নাকচ করারও প্রস্তাব দিতে পারেন, তাহলে সংসদ চাইলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যেকোনো গণবিরোধী আইন বা সংবিধানে ইচ্ছামতো সংশোধন বা পরিবর্তন আনতে পারবে না। অর্থাৎ সংসদ নিজেই যদি শক্তিশালী হয়, সংসদ সদস্যরা যদি দুটি ব্যতিক্রম বাদে সর্বক্ষেত্রে কথা বলার ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকেন, তাহলে আর উচ্চকক্ষের প্রয়োজন নেই।
কিন্তু তারপরও কেন উচ্চকক্ষের প্রস্তাব করা হলো? অনেকে মনে করেন, সিভিল সোসাইটি তথা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বিশেষ করে এনজিও ব্যক্তিত্ব এবং বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশকে আইনসভার সদস্য করার জন্যই উচ্চকক্ষের ধারণাটি নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দলীয় প্রভাবমুক্ত একাডেমিশিয়ান বা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সেখানে জায়গা পাবেন না। বরং উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার জন্য সিভিল সোসাইটির মানুষদের মধ্যে দলবাজির প্রতিযোগিতা শুরু হবে। আবার উচ্চকক্ষেও যদি সব রাজনৈতিক দল থেকে নেয়া হয়, তাহলে উচ্চকক্ষের লক্ষ্য উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
এই মুহূর্তে আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করতে হলে উচ্চকক্ষের জন্য সংসদের আসন বিন্যাস পরিবর্তন করতে হবে। অধিবেশন কক্ষ বাড়াতে হবে। সেখানে অনেক অর্থ খরচ হবে। দ্বিতীয়ত, উচ্চকক্ষে ১০০ সদস্য নিয়োগ মানে ১০০টি অফিস। এত লোকের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়ার মতো অর্থনৈতিক অবস্থা এ মুহূর্তে দেশের আছে কি না, সেটি বড় প্রশ্ন। বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে অর্থনীতি যে ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে, তাতে অর্থনীতিকে স্বাভাবিক ও সুস্থির ধারায় ফেরানোই নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। সবদিক বিবেচনা করে এই মুহূর্তে উচ্চকক্ষ গঠনের মতো বিলাসিতা বাংলাদেশে প্রয়োজন কি না—সেটি নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার।
আমীন আল রশীদ: সাংবাদিক ও লেখক

জুলাই জাতীয় সনদে বাংলাদেশে একটি দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা থাকবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষের (জাতীয় সংসদ) নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্য নির্বাচিত হবেন। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী বিএনপি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু তারা ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে নয়, বরং জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের ১০০ আসন বণ্টনের পক্ষে। সুতরাং সংবিধান সংস্কার পরিষদে যদি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব ওঠে, তাহলে সেটি শুরুতেই জটিলতায় পড়বে। বিশেষ করে কোন পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের সদস্য নিয়োগ করা হবে, সেই প্রশ্নে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের কাছে বিরোধী দলের সদস্যদের কণ্ঠ ম্লান হয়ে যেতে পারে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা তথা উচ্চকক্ষ গঠন আদৌ প্রয়োজন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তবে এটাও ঠিক যে সংসদকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা তথা আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের লাগাম টানার উপায় কী—তা নিয়েও আলোচনার অবকাশ রয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্য নির্বাচিত হবেন বলার পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে শপথ গ্রহণের তারিখ হতে ৫ (পাঁচ) বছর। তবে কোনো কারণে নিম্নকক্ষ ভেঙে গেলে উচ্চকক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। তালিকায় কমপক্ষে ১০ (দশ) শতাংশ নারী প্রার্থী থাকতে হবে।
উচ্চকক্ষের দায়িত্ব ও ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষের প্রস্তাবিত আইন প্রণয়নের বিষয়টি উচ্চকক্ষ পর্যালোচনা করবে। উচ্চকক্ষের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না; তবে কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন প্রণয়নের জন্য নিম্নকক্ষ বরাবর প্রস্তাব করতে পারবে। নিম্নকক্ষে পাসকৃত অর্থবিল এবং আস্থা ভোট ব্যতীত সকল বিল উচ্চকক্ষে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল স্থায়ীভাবে আটকে রাখতে পারবে না। উচ্চকক্ষ কোনো বিল সর্বোচ্চ ২ (দুই) মাসের বেশি আটকে রাখলে তা উচ্চকক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত বলে বিবেচিত হবে।
আরও বলা হয়েছে, যদি উচ্চকক্ষ কোনো বিল অনুমোদন করে সেক্ষেত্রে উভয় কক্ষ কর্তৃক পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। যেক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ সংশোধনের সুপারিশসহ বিল পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্নকক্ষে পাঠাবে সেক্ষেত্রে নিম্নকক্ষ উচ্চকক্ষের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। উচ্চকক্ষ থেকে ফেরত পাঠানো বিল যদি নিম্নকক্ষের অধিবেশনে আবারও পাস হয়, তবে উচ্চকক্ষের অনুমোদন ছাড়াই বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য প্রেরিত হবে।
উচ্চকক্ষ গঠনের মূল উদ্দেশ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধানে যেমন খুশি তেমন পরিবর্তনের প্রবণতা বন্ধ করা। জুলাই সনদে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত যেকোনো বিল উচ্চকক্ষের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করতে হবে। অর্থাৎ সংবিধান সংশোধন করতে হলে আইনসভার উভয়কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠত সদস্যের মতামত লাগবে।
ভোট প্রাপ্তির অনুপাতে তথা পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের এই প্রস্তাবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নেয়া ২৪টি দল একমত হয়েছে। তবে বিএনপিসহ ৬টি রাজনৈতিক দল (বিএনপি, ১২ দলীয় জোট, এনডিএম, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ) এতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের প্রস্তাব দিয়েছে। আর লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এই মুহূর্তে বাংলাদেশে উচ্চকক্ষ প্রয়োজন নেই বলে মতামত দিয়েছে।
যেহেতু গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হয়েছে, অতএব জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংসদ সদস্যরা প্রথম ১৮০ দিন একইসাথে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেই পরিষদে জুলাই সনদে বর্ণিত প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতে এগুলো গৃহীত বা বাতিল হবে। সেই ধারাবাহিকতায় উচ্চকক্ষের বিষয়েও আশা করা যায় একটি প্রস্তাব উঠবে। তখন এই প্রস্তাবের ওপর সদস্যরা নিজেদের মতামত দেবেন। হয়তো বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হবে। সেই আলোচায় ভোটের অনুপাতে এবং আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের একশো সদস্য নিয়োগের বিষয়ে প্রত্যেকে তাদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। পরে স্পিকার বিষয়টি ভোটে দিলে সংখ্যারিষ্ঠ সদস্যরা যে পদ্ধতির পক্ষে হ্যাঁ বলবেন, সেটিই পাস হবে। সংসদে ও সংবিধান সংস্কার পরিষদে বিএনপি যেহেতু দুই তৃতীয়াংশ আসনে থাকবে, অতএব আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষের সদস্য বণ্টনের পক্ষেই হয়তো তাদের সদস্যরা ভোট দেবেন। কিন্তু সমালোচনা হলো এই যে যদি আসনের বিপরীতেই উচ্চকক্ষের সদস্য বণ্টন করা হয়, তাহলে সেটি গণতান্ত্রিক হবে কি না?
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এসব আসনে বিএনপি যে ভোট পেয়েছে, তাতে ভোটের হার বিবেচনায় উচ্চকক্ষ গঠিত হলে তাতে বিএনপি অর্ধেক তথা ৫০টি আসন পাবে। বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটের হার ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। সেই হিসাবে তারা পাবে ৩২টি। খেলাফত মজলিসের প্রাপ্ত ভোটের হার ২.০৯ শতাংশ। অতএব উচ্চকক্ষে তারা আসন পাবে ৩টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২-৩টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ৩টি আসন পাবে। যেসব দল এক শতাংশের কম ভোট পেয়েছে, তাদের কোনো প্রতিনিধি উচ্চকক্ষে থাকবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে মোট ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এসব প্রার্থী জোটবদ্ধ হলে ভোটের হিসাবে তারাও ৬টি আসন পেতে পারেন।
অন্যদিকে বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী জাতীয় সংসদে প্রাপ্ত আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করা হলে বিএনপি পাবে ৬৯টি। জামায়াত যেহেতু ৬২টি আসনে জয়ী হয়েছে, অতএব তারা পাবে ২৩টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২-৩টি আর এনসিপি যেহেতু ৬টি আসনে জয়ী হয়েছে, অতএব উচ্চকক্ষে তারা পাবে ২টি আসন। তার মানে বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠিত হলে তাদের আসন সংখ্যা বেশি হবে। আর জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রস্তাব অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠিত হলে জামায়াত ও অন্যান্য দলের আসন বাড়বে।
এবার আসা যাক উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তার প্রশ্নে। উচ্চকক্ষ গঠনের প্রয়োজন সম্পর্কে বলা হয়, এর মাধ্যমে আইনসভার নিম্নকক্ষ তথা জাতীয় সংসদ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যাতে যেকোনো আইন পাস বা সংবিধান সংশোধন করতে না পারে। অর্থাৎ একটি চেক অ্যান্ড ব্যালান্স তথা ভারসাম্য তৈরির জন্য এই ব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সংসদ নিজেই যদি শক্তিশালী হয়, যদি সংসদ সদস্যরা কথা বলা, মতামত প্রদান ও ভোটদানের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকেন, তাহলে সংসদ যা খুশি করতে পারে না।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ-সদস্য যদি নিজের দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেন তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। এই বিধানটি সংসদ সদস্যদের কণ্ঠরোধ করে বলে অভিযোগ থাকলেও সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোটদান বলতে কী বুঝায়—সেটি পরিষ্কার নয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এটিই বলা হচ্ছে যে, ৭০ অনুচ্ছেদ মানে সংসদে দলের সব সিদ্ধান্তের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। বস্তুত এটি ৭০ অনুচ্ছেদের একধরনের অপব্যাখ্যা এবং এই ব্যাখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্যদের মনে একধরনের ভীতি তৈরি করে রাখা, যাতে তারা দল ও সংসদ নেতার প্রতি শত ভাগ অনুগত থাকেন। যাতে তারা মন খুলে কথা বলতে না পারেন।
৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বছরের বছর ধরে এই ভীতি থাকার আরেকটি কারণ, এই অনুচ্ছেদটি পরীক্ষিত নয়। অর্থাৎ কোনো বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় কারো সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়েছে এমন কোনো উদাহরণ তৈরি হয়নি। আবার কোনো সংসদ সদস্য সাহস করে বিপক্ষে ভোট দিয়ে দৃষ্টান্তও স্থাপন করেননি। যদি কেউ এরকম একটি সাহস করতেন এবং যদি সত্যিই তার সদস্যপদ বাতিল হতো, তখন তিনি আদালতের কাছে এর প্রতিকার চাইতে পারতেন। তখন আদালত হয়তো এর একটা ফয়সালা করতেন।
এরকম বাস্তবতায় ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবও করা হয়েছে জুলাই সনদে। সেখানে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের সদস্যরা কেবল অর্থবিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতি অনুগত থাকবেন। অন্য যেকোনো বিষয়ে তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। বিএনপিও এই প্রস্তাবের সাথে একমত। সুতরাং এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, সংসদে এমপিরা যদি স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন, বিশেষ করে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া সর্বক্ষেত্রে নিজেদের মতামত ও ভিন্নতম দিতে পারেন; এমনকি তারা যদি বিলের ওপর সংশোধনী বা নাকচ করারও প্রস্তাব দিতে পারেন, তাহলে সংসদ চাইলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যেকোনো গণবিরোধী আইন বা সংবিধানে ইচ্ছামতো সংশোধন বা পরিবর্তন আনতে পারবে না। অর্থাৎ সংসদ নিজেই যদি শক্তিশালী হয়, সংসদ সদস্যরা যদি দুটি ব্যতিক্রম বাদে সর্বক্ষেত্রে কথা বলার ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকেন, তাহলে আর উচ্চকক্ষের প্রয়োজন নেই।
কিন্তু তারপরও কেন উচ্চকক্ষের প্রস্তাব করা হলো? অনেকে মনে করেন, সিভিল সোসাইটি তথা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বিশেষ করে এনজিও ব্যক্তিত্ব এবং বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশকে আইনসভার সদস্য করার জন্যই উচ্চকক্ষের ধারণাটি নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দলীয় প্রভাবমুক্ত একাডেমিশিয়ান বা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সেখানে জায়গা পাবেন না। বরং উচ্চকক্ষের সদস্য হওয়ার জন্য সিভিল সোসাইটির মানুষদের মধ্যে দলবাজির প্রতিযোগিতা শুরু হবে। আবার উচ্চকক্ষেও যদি সব রাজনৈতিক দল থেকে নেয়া হয়, তাহলে উচ্চকক্ষের লক্ষ্য উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
এই মুহূর্তে আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করতে হলে উচ্চকক্ষের জন্য সংসদের আসন বিন্যাস পরিবর্তন করতে হবে। অধিবেশন কক্ষ বাড়াতে হবে। সেখানে অনেক অর্থ খরচ হবে। দ্বিতীয়ত, উচ্চকক্ষে ১০০ সদস্য নিয়োগ মানে ১০০টি অফিস। এত লোকের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়ার মতো অর্থনৈতিক অবস্থা এ মুহূর্তে দেশের আছে কি না, সেটি বড় প্রশ্ন। বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে অর্থনীতি যে ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে, তাতে অর্থনীতিকে স্বাভাবিক ও সুস্থির ধারায় ফেরানোই নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। সবদিক বিবেচনা করে এই মুহূর্তে উচ্চকক্ষ গঠনের মতো বিলাসিতা বাংলাদেশে প্রয়োজন কি না—সেটি নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার।
আমীন আল রশীদ: সাংবাদিক ও লেখক

বাংলাদেশে দুর্নীতি নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে আলোচনা, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং নীতিগত বিতর্ক—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে একটি বহুল ব্যবহৃত সংজ্ঞা প্রায় অচল সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, ‘দুর্নীতি মানে ব্যক্তিগত লাভের জন্য অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার’।
৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে বর্তমানে ৭ কোটিরও বেশি মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়, যা প্রযুক্তির এক বিশাল জয়যাত্রা। কিন্তু এই অগ্রগতির সমান্তরালে হানা দিয়েছে ‘ডিপফেক’ নামক এক ভয়ংকর ডিজিটাল আতঙ্ক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা বিকৃত কনটেন্ট এখন সুস্থ রাজনীতির জন্য প্রধান অন্তরায়।
১৭ ঘণ্টা আগে
আগামী এক দশকে অর্থনীতিতে যে কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে, তা নিশ্চিতভাবেই সাম্প্রতিক অতীতের যেকোনো ঘটনার চেয়ে নাটকীয় হবে। অনেকেই ভাবছেন এআই শুধু কাজের ধরন বদলাবে; কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, এটি ব্যবসার পুরো দৃশ্যপটকেই নতুন করে সাজাবে।
১৭ ঘণ্টা আগে
মাত্র ৩ জন নারী মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। একটি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়া সত্ত্বেও কেবিনেটে তাদের এই নগণ্য উপস্থিতি প্রতিনিধিত্বমূলক নয়। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
১ দিন আগে