সজল মিত্র রিচার্ড

বাংলাদেশ ক্রিকেটের আকাশে আবারও নির্বাচন নামের এক ভোর ফুটছে। অথচ এই ভোরের আলোয় ঝলমল করছে না কোনো নতুন সূর্য; বরং ধোঁয়াটে এক কুয়াশা, যেখানে আলোও যেন পথ হারায়।
বিসিবি নির্বাচন ২০২৫—এই নামের মধ্যেই এক সময় ছিল আশার ঝলক, পরিবর্তনের ডাক, তরুণ প্রজন্মের প্রতীক্ষা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নির্বাচন যেন রূপ নিয়েছে এক অনিবার্য নাটকের, যার মঞ্চে সত্য, ন্যায় আর গণতন্ত্রের চরিত্রগুলো ক্রমশ পেছনে সরে গেছে।
মোট ১৫৬ জন ভোটারের এই নির্বাচনে ভোটপ্রক্রিয়া দুটি ধারায় বিভক্ত—সরাসরি ভোট ৯৮ জনের, আর ই-ব্যালটের মাধ্যমে ৫৮ জনের। সংখ্যার দিক থেকে সবকিছুই যেন ঠিকঠাক। কিন্তু সংখ্যার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক অজানা অস্বস্তি, এক অমীমাংসিত প্রশ্নমালা। গণতন্ত্রের এ আয়োজন কি সত্যিই মুক্ত? নাকি এটি কেবলই এক ছায়ানাট্য, যেখানে ফলাফল আগেই লেখা থাকে ক্ষমতার দপ্তরে?
ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভোটের চিত্রে দেখা যায়, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলো—যাদের ভোট সংখ্যা ৩৫, তার মধ্যে ১৯ জনই ই-ব্যালটে ভোট দেবেন। ক্লাব ক্যাটাগরিতে ৭৬ জন ভোটার, তার ৩৪ জনও ই-ব্যালটের মাধ্যমে। আর বিশেষ সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সার্ভিসেস দলের ৪৫ ভোটের মধ্যে মাত্র ৫টি ই-ব্যালট। এই ভারসাম্যহীনতা নিজেই এক প্রশ্ন তোলে—কেন ই-ব্যালটের অনুপাত এক জায়গায় বেশি, অন্যত্র এত কম? প্রযুক্তির অজুহাতে নিয়ন্ত্রণের সূক্ষ্ম নকশা কি আঁকা হচ্ছে? গণতন্ত্রের পরিধান কি আবারও ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের মলাটে জড়ানো?
এই নির্বাচনের ছায়া আরও গাঢ় করেছে তামিম ইকবালের হঠাৎ সরে দাঁড়ানো। এক সময়ের অধিনায়ক, দেশের ক্রিকেটের মুখ, আজ যেন এক নীরব প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর সরে দাঁড়ানো শুধু একটি প্রার্থী কমে যাওয়ার ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট রাজনীতির মুখোশ উন্মোচনের ইঙ্গিত। তামিম হয়তো ব্যাট নামিয়ে রেখেছেন, কিন্তু তাঁর নীরবতা বলছে বহু কথা। হয়তো তিনি বুঝেছেন, মাঠের ক্রিকেটে ব্যাট দিয়ে যেমন লড়াই করা যায়, বোর্ডরুমের রাজনীতিতে সেখানে শব্দগুলোই হয়ে ওঠে অস্ত্র—আর তিনি আর সেই খেলায় অংশ নিতে চাননি।
আরও বিতর্ক তৈরি করেছে আসিফ ও তামিমের কথার সংঘাত। প্রকাশ্যে উচ্চারিত হয়েছে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, অভিমান আর অপমানের ধারালো সংলাপ। এই দ্বন্দ্ব কেবল দুই ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আসলে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নৈতিক ক্ষয়কে উন্মোচন করেছে। যেখানে একদা বন্ধুত্ব ও ক্রিকেটীয় সহমর্মিতার বন্ধন ছিল, সেখানে এখন আছে ক্ষমতার ছায়া, দ্বন্দ্বের কুয়াশা, আর এক ধরনের গভীর ক্লান্তি। ক্রিকেটের শুদ্ধতা, যে শুদ্ধতা একদিন মাঠে বাংলার প্রাণ হয়ে বাজত, তা আজ রাজনীতির গন্ধে মলিন।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—১৫টি ক্লাব নিয়ে বিতর্ক। এ যেন এক প্রহেলিকা, এক রহস্যনাটক। কে আসল ভোটার, কার অধিকার বৈধ, কে অদৃশ্য প্রভাবের ছায়ায়—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলছে না কারও মুখে। যেভাবে হঠাৎ কিছু ক্লাবের ভোটাধিকার নিয়ে ওঠে গুঞ্জন, সেভাবেই আবার নীরবতা নেমে আসে। প্রশাসনিক প্রভাব, সরকারি ইঙ্গিত, কিংবা বোর্ডের গোপন খাতায় অদৃশ্য কলমের আঁচড়—সবকিছুই যেন এই নির্বাচনের শরীরে এক ধরনের দগদগে ঘা হয়ে আছে।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যে অভিযোগ ভাসছে বাতাসে, তা হলো—সরকারি হস্তক্ষেপের স্পষ্ট উপস্থিতি। প্রশাসনিক নির্দেশ, রাজনৈতিক আনুগত্য, এবং এক ধরনের ‘নির্ধারিত ফলাফলের’ আভাস অনেক আগেই ছড়িয়ে পড়েছে ক্রিকেট মহলে। বিসিবি নির্বাচন আজ কেবল একটি ক্রীড়া সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নয়; এটি এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রক্ষেপণ ক্ষেত্র। যেখানে ক্রিকেটার, কোচ, কর্মকর্তা—সবাই এক এক করে হারিয়ে যাচ্ছেন এক অদৃশ্য কাঠামোর ভেতর। ক্রিকেট আর ক্রিকেট থাকছে না; এটি পরিণত হচ্ছে রাজনৈতিক আনুগত্যের এক প্রতীকী মঞ্চে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই সব কিছুর ভেতর ক্রিকেট কোথায়? মাঠের নীল আকাশ, সবুজ ঘাস, মেঘের নিচে তরুণ বোলারের স্বপ্ন—এই সব কি কেবলই সাজানো গল্প হয়ে গেল?
বিসিবির এই নির্বাচন যেন এক আয়না, যেখানে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা যায়। যে দেশে ক্ষমতা মানে কেন্দ্রায়ন, যেখানে মতের ভিন্নতা মানেই বিচ্ছিন্নতা—সেই দেশেই ক্রিকেটের গণতন্ত্র আর টিকে থাকবে কীভাবে?
বাংলাদেশের ক্রিকেট এক সময় ছিল মানুষকে এক করার ভাষা। হার বা জয়ের মধ্যেও ছিল ঐক্য, ছিল আবেগের এক অভিন্ন রং। আজ সেই রং ধূসর। আজ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগেই জয়ী কে, পরাজিত কে—সবাই জানে। অথচ নির্বাচন হচ্ছে, ব্যালট পড়ছে, গণনা চলছে। যেন এক রাষ্ট্রীয় রীতির আনুষ্ঠানিকতা, যেখানে বাস্তবতার চেয়ে প্রতীকের মূল্যই বেশি।
এই নির্বাচনের গল্প এক অর্থে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আত্মজীবনীও বটে। এখানে আছে অগ্রগতি ও অবক্ষয়ের সমান্তরাল ধারা। একদিকে কোটি টাকার বাজেট, আলো ঝলমলে স্টেডিয়াম, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি; অন্যদিকে আছে অন্তর্দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার দখলদারি, আর ক্রিকেটীয় নৈতিকতার ক্ষয়। বোর্ড যেন এখন এক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিরূপ, যেখানে খেলাধুলা নয়, বরং ক্ষমতার রাজনীতি শাসন করছে প্রতিটি কোণ।
তবুও আশার আলো নিভে যায়নি পুরোপুরি। ক্রিকেটের মাটিতে এখনো কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে, যাদের চোখে জ্বলে অন্য এক স্বপ্ন। তারা এখনো বিশ্বাস করে, ক্রিকেট কেবল খেলা নয়—এটি স্বাধীনতার আরেক রূপ, মানুষের আত্মার প্রতিধ্বনি। হয়তো একদিন তারা নতুন আলো নিয়ে ফিরবে, ভাঙবে এই রাজনৈতিক চক্র, ফিরিয়ে আনবে সেই নির্ভেজাল ক্রিকেটীয় চেতনা, যেটি একসময় এই দেশের প্রাণ ছিল।
কিন্তু আজ, নির্বাচনের আগের এই রাতে, বিসিবির ভবন ঘিরে বাতাস ভারী। আলো ঝলমলে লবি, নীরব ফোনালাপ, অদৃশ্য চুক্তি—সবকিছু মিলে এক রহস্যময় দৃশ্যপট। ক্রিকেটের পবিত্র মঞ্চে রাজনীতি নাচছে উল্লাসে, আর ক্রিকেটাররা দাঁড়িয়ে আছে ছায়ার ভেতর।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে হয়তো এই নির্বাচনও কেবল একটি তারিখ হয়ে থাকবে। কিন্তু এর ভেতরের গল্প, এর অপ্রকাশিত বেদনা, এর অভিমান আর ক্ষোভ—এসবই একদিন আমাদের জানিয়ে দেবে, ক্রিকেটের মাঠ শুধু খেলার মাঠ নয়, এটি সময়ের আয়না। সেখানে আমরা যেমন খেলি, তেমনই প্রতিফলিত হয় আমাদের জাতির চরিত্র।
আজকের এই নির্বাচনে সেই চরিত্র এক অদ্ভুত আলোছায়ায় ঢাকা। সংখ্যার হিসাব বলবে—মোট ভোটার ১৫৬, সরাসরি ভোট ৯৮, ই-ব্যালট ৫৮। কিন্তু ইতিহাসের হিসাব বলবে—এই ১৫৬ সংখ্যার পেছনে হারিয়ে গেছে নির্বাচনী আনন্দের যাত্রা।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের আকাশে আবারও নির্বাচন নামের এক ভোর ফুটছে। অথচ এই ভোরের আলোয় ঝলমল করছে না কোনো নতুন সূর্য; বরং ধোঁয়াটে এক কুয়াশা, যেখানে আলোও যেন পথ হারায়।
বিসিবি নির্বাচন ২০২৫—এই নামের মধ্যেই এক সময় ছিল আশার ঝলক, পরিবর্তনের ডাক, তরুণ প্রজন্মের প্রতীক্ষা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নির্বাচন যেন রূপ নিয়েছে এক অনিবার্য নাটকের, যার মঞ্চে সত্য, ন্যায় আর গণতন্ত্রের চরিত্রগুলো ক্রমশ পেছনে সরে গেছে।
মোট ১৫৬ জন ভোটারের এই নির্বাচনে ভোটপ্রক্রিয়া দুটি ধারায় বিভক্ত—সরাসরি ভোট ৯৮ জনের, আর ই-ব্যালটের মাধ্যমে ৫৮ জনের। সংখ্যার দিক থেকে সবকিছুই যেন ঠিকঠাক। কিন্তু সংখ্যার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক অজানা অস্বস্তি, এক অমীমাংসিত প্রশ্নমালা। গণতন্ত্রের এ আয়োজন কি সত্যিই মুক্ত? নাকি এটি কেবলই এক ছায়ানাট্য, যেখানে ফলাফল আগেই লেখা থাকে ক্ষমতার দপ্তরে?
ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভোটের চিত্রে দেখা যায়, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলো—যাদের ভোট সংখ্যা ৩৫, তার মধ্যে ১৯ জনই ই-ব্যালটে ভোট দেবেন। ক্লাব ক্যাটাগরিতে ৭৬ জন ভোটার, তার ৩৪ জনও ই-ব্যালটের মাধ্যমে। আর বিশেষ সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সার্ভিসেস দলের ৪৫ ভোটের মধ্যে মাত্র ৫টি ই-ব্যালট। এই ভারসাম্যহীনতা নিজেই এক প্রশ্ন তোলে—কেন ই-ব্যালটের অনুপাত এক জায়গায় বেশি, অন্যত্র এত কম? প্রযুক্তির অজুহাতে নিয়ন্ত্রণের সূক্ষ্ম নকশা কি আঁকা হচ্ছে? গণতন্ত্রের পরিধান কি আবারও ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের মলাটে জড়ানো?
এই নির্বাচনের ছায়া আরও গাঢ় করেছে তামিম ইকবালের হঠাৎ সরে দাঁড়ানো। এক সময়ের অধিনায়ক, দেশের ক্রিকেটের মুখ, আজ যেন এক নীরব প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর সরে দাঁড়ানো শুধু একটি প্রার্থী কমে যাওয়ার ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট রাজনীতির মুখোশ উন্মোচনের ইঙ্গিত। তামিম হয়তো ব্যাট নামিয়ে রেখেছেন, কিন্তু তাঁর নীরবতা বলছে বহু কথা। হয়তো তিনি বুঝেছেন, মাঠের ক্রিকেটে ব্যাট দিয়ে যেমন লড়াই করা যায়, বোর্ডরুমের রাজনীতিতে সেখানে শব্দগুলোই হয়ে ওঠে অস্ত্র—আর তিনি আর সেই খেলায় অংশ নিতে চাননি।
আরও বিতর্ক তৈরি করেছে আসিফ ও তামিমের কথার সংঘাত। প্রকাশ্যে উচ্চারিত হয়েছে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, অভিমান আর অপমানের ধারালো সংলাপ। এই দ্বন্দ্ব কেবল দুই ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আসলে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নৈতিক ক্ষয়কে উন্মোচন করেছে। যেখানে একদা বন্ধুত্ব ও ক্রিকেটীয় সহমর্মিতার বন্ধন ছিল, সেখানে এখন আছে ক্ষমতার ছায়া, দ্বন্দ্বের কুয়াশা, আর এক ধরনের গভীর ক্লান্তি। ক্রিকেটের শুদ্ধতা, যে শুদ্ধতা একদিন মাঠে বাংলার প্রাণ হয়ে বাজত, তা আজ রাজনীতির গন্ধে মলিন।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—১৫টি ক্লাব নিয়ে বিতর্ক। এ যেন এক প্রহেলিকা, এক রহস্যনাটক। কে আসল ভোটার, কার অধিকার বৈধ, কে অদৃশ্য প্রভাবের ছায়ায়—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলছে না কারও মুখে। যেভাবে হঠাৎ কিছু ক্লাবের ভোটাধিকার নিয়ে ওঠে গুঞ্জন, সেভাবেই আবার নীরবতা নেমে আসে। প্রশাসনিক প্রভাব, সরকারি ইঙ্গিত, কিংবা বোর্ডের গোপন খাতায় অদৃশ্য কলমের আঁচড়—সবকিছুই যেন এই নির্বাচনের শরীরে এক ধরনের দগদগে ঘা হয়ে আছে।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যে অভিযোগ ভাসছে বাতাসে, তা হলো—সরকারি হস্তক্ষেপের স্পষ্ট উপস্থিতি। প্রশাসনিক নির্দেশ, রাজনৈতিক আনুগত্য, এবং এক ধরনের ‘নির্ধারিত ফলাফলের’ আভাস অনেক আগেই ছড়িয়ে পড়েছে ক্রিকেট মহলে। বিসিবি নির্বাচন আজ কেবল একটি ক্রীড়া সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নয়; এটি এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রক্ষেপণ ক্ষেত্র। যেখানে ক্রিকেটার, কোচ, কর্মকর্তা—সবাই এক এক করে হারিয়ে যাচ্ছেন এক অদৃশ্য কাঠামোর ভেতর। ক্রিকেট আর ক্রিকেট থাকছে না; এটি পরিণত হচ্ছে রাজনৈতিক আনুগত্যের এক প্রতীকী মঞ্চে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই সব কিছুর ভেতর ক্রিকেট কোথায়? মাঠের নীল আকাশ, সবুজ ঘাস, মেঘের নিচে তরুণ বোলারের স্বপ্ন—এই সব কি কেবলই সাজানো গল্প হয়ে গেল?
বিসিবির এই নির্বাচন যেন এক আয়না, যেখানে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা যায়। যে দেশে ক্ষমতা মানে কেন্দ্রায়ন, যেখানে মতের ভিন্নতা মানেই বিচ্ছিন্নতা—সেই দেশেই ক্রিকেটের গণতন্ত্র আর টিকে থাকবে কীভাবে?
বাংলাদেশের ক্রিকেট এক সময় ছিল মানুষকে এক করার ভাষা। হার বা জয়ের মধ্যেও ছিল ঐক্য, ছিল আবেগের এক অভিন্ন রং। আজ সেই রং ধূসর। আজ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগেই জয়ী কে, পরাজিত কে—সবাই জানে। অথচ নির্বাচন হচ্ছে, ব্যালট পড়ছে, গণনা চলছে। যেন এক রাষ্ট্রীয় রীতির আনুষ্ঠানিকতা, যেখানে বাস্তবতার চেয়ে প্রতীকের মূল্যই বেশি।
এই নির্বাচনের গল্প এক অর্থে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আত্মজীবনীও বটে। এখানে আছে অগ্রগতি ও অবক্ষয়ের সমান্তরাল ধারা। একদিকে কোটি টাকার বাজেট, আলো ঝলমলে স্টেডিয়াম, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি; অন্যদিকে আছে অন্তর্দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার দখলদারি, আর ক্রিকেটীয় নৈতিকতার ক্ষয়। বোর্ড যেন এখন এক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিরূপ, যেখানে খেলাধুলা নয়, বরং ক্ষমতার রাজনীতি শাসন করছে প্রতিটি কোণ।
তবুও আশার আলো নিভে যায়নি পুরোপুরি। ক্রিকেটের মাটিতে এখনো কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে, যাদের চোখে জ্বলে অন্য এক স্বপ্ন। তারা এখনো বিশ্বাস করে, ক্রিকেট কেবল খেলা নয়—এটি স্বাধীনতার আরেক রূপ, মানুষের আত্মার প্রতিধ্বনি। হয়তো একদিন তারা নতুন আলো নিয়ে ফিরবে, ভাঙবে এই রাজনৈতিক চক্র, ফিরিয়ে আনবে সেই নির্ভেজাল ক্রিকেটীয় চেতনা, যেটি একসময় এই দেশের প্রাণ ছিল।
কিন্তু আজ, নির্বাচনের আগের এই রাতে, বিসিবির ভবন ঘিরে বাতাস ভারী। আলো ঝলমলে লবি, নীরব ফোনালাপ, অদৃশ্য চুক্তি—সবকিছু মিলে এক রহস্যময় দৃশ্যপট। ক্রিকেটের পবিত্র মঞ্চে রাজনীতি নাচছে উল্লাসে, আর ক্রিকেটাররা দাঁড়িয়ে আছে ছায়ার ভেতর।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে হয়তো এই নির্বাচনও কেবল একটি তারিখ হয়ে থাকবে। কিন্তু এর ভেতরের গল্প, এর অপ্রকাশিত বেদনা, এর অভিমান আর ক্ষোভ—এসবই একদিন আমাদের জানিয়ে দেবে, ক্রিকেটের মাঠ শুধু খেলার মাঠ নয়, এটি সময়ের আয়না। সেখানে আমরা যেমন খেলি, তেমনই প্রতিফলিত হয় আমাদের জাতির চরিত্র।
আজকের এই নির্বাচনে সেই চরিত্র এক অদ্ভুত আলোছায়ায় ঢাকা। সংখ্যার হিসাব বলবে—মোট ভোটার ১৫৬, সরাসরি ভোট ৯৮, ই-ব্যালট ৫৮। কিন্তু ইতিহাসের হিসাব বলবে—এই ১৫৬ সংখ্যার পেছনে হারিয়ে গেছে নির্বাচনী আনন্দের যাত্রা।

দীর্ঘ অচলায়তন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নানা সংকট, মতবিরোধ ও আস্থাহীনতার আবহ পেরিয়ে এই নির্বাচন ছিল রাষ্ট্র ও রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত।
১৩ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করতে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে এই জয় যেমন বিপুল প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে, তেমনই তৈরি করেছে এক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
২ দিন আগে
এখন মানুষের প্রত্যাশা বা এক্সপেকটেশন অনেক বেশি। এই সরকারের কাছে মানুষ অনেক কিছু আশা করবে। আর এখানেই বিপদ। সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা এই প্রত্যাশাগুলো শুনতে পাচ্ছে এবং তাদের কাজে তার প্রতিফলন আছে। অতিরিক্ত প্রত্যাশার বিপদ হলো, আপনি যখন ডেলিভার করতে পারবেন না, তখন জনপ্রিয়তা খুব দ্রুত পড়ে যায়।
২ দিন আগে
ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন তৈরি করা গেলে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে। যদি সরকার শুরুতেই এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে।
২ দিন আগে