জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

নোয়াখালীতে চর দখল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৫

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নোয়াখালী

দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছাতে দেরি হয়। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলায় চর দখলকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। নিহত বাড়তে পারে বলে পুলিশের আশঙ্কা।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ নিহতদের মধ্যে একজনের নাম-পরিচয় জানাতে পেরেছে। তাঁর নাম আলাউদ্দিন (৪০)। তিনি একটি পক্ষের নেতা ছিলেন এবং উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের ছেরাং বাড়ির মহিউদ্দিনের ছেলে। নিহত অন্যদের মধ্যে কোপা সামছু বাহিনীর প্রধান সামছুর ছেলে মোবারক হোসেনও রয়েছেন। নিহত অপর তিনজন হলেন- আবুল হাশেম, হক সাব ও কামাল উদ্দিন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার জাগলার চরের জমি এখন পর্যন্ত কাউকে বন্দোবস্ত দেয়নি সরকার। কিন্তু ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের সামছু উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ‘কোপা সামছু বাহিনী’ জাগলার চরের বেশকিছু জমি বিক্রি করে। এরপর সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী এই চরের জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আলাউদ্দিন বাহিনীও আরও বেশি দামে কিছু জমি বিক্রি করে। এরপর দুটি গ্রুপ আলাদা আলাদা ভাবে চরের জমি বিক্রির চেষ্টা চালায়।

অভিযোগ রয়েছে, চর দখলে যুক্ত আলাউদ্দিন সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার ও বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠ। এই নেতারা কোপা সামছু বানিহীকে চর থেকে বিতাড়িত করে চরের জমি দখলে নিতে আলাউদ্দিনের বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত করে। এ নিয়ে দুটি গ্রুপ একাধিকবার বিরোধে জড়ায়।

আজ সকাল ১০টার দিকে চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা সামছু ও আলাউদ্দিন গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এতে বিরোধী পক্ষের ছোড়া গুলিতে আলাউদ্দিনসহ ৪জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। আর চারজনের মরদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিমের মুঠোফোনে একাধিক কল করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আর নিজাম মেম্বার ও বিএনপি নেতা নবীর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘একটি মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। চারটি মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত