স্ট্রিম প্রতিবেদক

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, যারাই ক্ষমতায় আসেন তারাই সাংবাদিক নিবর্তনের মানসিকতা মনে পোষণ করেন। একারণে যারা রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ হবে না।
আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ কথা বলেছেন মো. আসাদুজ্জামান।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ শীর্ষক ওই সম্মেলনের একটি সেশনে আলোচক ছিলেন তিনি। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত তিন দিনের ওই সম্মেলনে ৮৫টি দেশের দুই শর বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। আজ সোমবার এ আয়োজনের সমাপনী দিন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘১৮৬০ সাল থেকে পেনাল কোডে নিবর্তনমূলক আইনি ব্যবস্থা আছে। একজন সাংবাদিককে ধরার জন্য তখন থেকে পেনাল কোডে মামলা করার সুযোগ আছে। কিন্তু এটায় তাৎক্ষণিক খুব দ্রুত প্রয়োগ করা যায় না বলে আলোচিত হয় না। নিবর্তনমূলক আরো কালো আইন রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন। এ আইনে প্রি-জুডিশিয়াল অ্যাক্টের এক সংজ্ঞায় পাবলিক অ্যান্ড সেফটির কথা বলা আছে। এগুলো পাওয়া গেলে এটি প্রি-জুডিশিয়াল অ্যাক্ট হবে।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, যারা রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত শুধুমাত্র ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে কোনো সমাধান হবে বলে আমি মনে করি না।
মো. আসাদুজ্জামান এসময় বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আপনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কথা বাদ দেন, রাষ্ট্র ইচ্ছা করলে বিশেষ ক্ষমতা আইন নিয়ে এসে একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার ও হয়রানি করতে পারবে। ১৯৭৫ সালে প্রথম এ আইনে সাংবাদিক নিবর্তনের শিকার হন। উইকলি হলিডের এডিটর এনায়েতুল্লাহ খানকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার করা হয়। তারপর একই আইনে মুখপাত্র নামে একটি পত্রিকার সাংবাদিক ফায়জুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এভাবেই দেশে সাংবাদিক নিবর্তন শুরু হলো। ১৯৭৫ সালেই পাঁচটা পত্রিকাকে শোকজ করা হয়, সরকারের বিরুদ্ধে কেন রিপোর্ট করা হলো এ নিয়ে। বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬, ১৭ ও ১৮ এই তিনটা ধারা প্রয়োগ করা হলো। ১৯৯১ সালে এই তিনটা ধারাকে বিলুপ্ত করা হয়েছে, এখন আর নাই।’
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে হলে সব রকম নিবর্তনমূলক আইন থেকে সরকারকে ফিরে আসতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীতে যারাই নির্বাচিত হয়ে সরকারে যাবেন আশা করবো, তারা ডিএসএতে ফিরে যেতে চাইবেন না। কিন্তু যারাই ক্ষমতায় আসেন তারাই সাংবাদিক নিবর্তনের মানসিকতা মনে পোষণ করেন।’
এসময় তিনি আরো বলেন, ‘২০০৬ সালের আইসিটি আইনটা কিন্তু এখনও আছে। শুধু ৫৬ ধারাসহ কয়েকটা ধারা বাতিল করা হয়েছে, এই কারণে এই আইনটা আর আলোচনাতেই আসে না। এই আইনে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তৎকালীন সম্পাদক ও নির্বাহী পরিচালক আদিলুর রহমান খান এবং নাসিরুদ্দিন এলান প্রথম শিকার হন, এটির প্রথম আইনজীবী আমার হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। আইসিটি আইন নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় সেটি সংশোধন করে দেওয়া হয় ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট। এটা আইসিটি আইনের ৫৬ ধারারও বাবা। ৫৬ ধারার বাবাকে নিয়ে এসে গোটা জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হলো। এই আইনে লেখক মুশতাককে সহ্য হলো না। জীবিত গ্রেফতার হয়ে মৃত অবস্থায় তাঁকে বের হতে হলো। আমরা এই সমস্ত নিবর্তন এবং নির্যাতনমূলক আইন, যে আইন সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করে ও কলমকে থামিয়ে দেয় আমরা সেই আইনের বিলুপ্তি চাই।’
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের কাছে আশা করবো, আগামীতে তারা এইসব আইন বিলুপ্ত করবেন। একই সময়ে সাংবাদিকদের কাছেও অনুরোধ থাকবে, আপনারা এমন একটা আইনের ধারণা দেন যা নাগরিকদেরও নিরাপত্তা দেবে, সাংবাদিকদেরও কাজে ব্যাঘাত ঘটাবে না। নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, যারাই ক্ষমতায় আসেন তারাই সাংবাদিক নিবর্তনের মানসিকতা মনে পোষণ করেন। একারণে যারা রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ হবে না।
আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ কথা বলেছেন মো. আসাদুজ্জামান।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ শীর্ষক ওই সম্মেলনের একটি সেশনে আলোচক ছিলেন তিনি। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত তিন দিনের ওই সম্মেলনে ৮৫টি দেশের দুই শর বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। আজ সোমবার এ আয়োজনের সমাপনী দিন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘১৮৬০ সাল থেকে পেনাল কোডে নিবর্তনমূলক আইনি ব্যবস্থা আছে। একজন সাংবাদিককে ধরার জন্য তখন থেকে পেনাল কোডে মামলা করার সুযোগ আছে। কিন্তু এটায় তাৎক্ষণিক খুব দ্রুত প্রয়োগ করা যায় না বলে আলোচিত হয় না। নিবর্তনমূলক আরো কালো আইন রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন। এ আইনে প্রি-জুডিশিয়াল অ্যাক্টের এক সংজ্ঞায় পাবলিক অ্যান্ড সেফটির কথা বলা আছে। এগুলো পাওয়া গেলে এটি প্রি-জুডিশিয়াল অ্যাক্ট হবে।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, যারা রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত শুধুমাত্র ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে কোনো সমাধান হবে বলে আমি মনে করি না।
মো. আসাদুজ্জামান এসময় বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আপনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কথা বাদ দেন, রাষ্ট্র ইচ্ছা করলে বিশেষ ক্ষমতা আইন নিয়ে এসে একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার ও হয়রানি করতে পারবে। ১৯৭৫ সালে প্রথম এ আইনে সাংবাদিক নিবর্তনের শিকার হন। উইকলি হলিডের এডিটর এনায়েতুল্লাহ খানকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার করা হয়। তারপর একই আইনে মুখপাত্র নামে একটি পত্রিকার সাংবাদিক ফায়জুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এভাবেই দেশে সাংবাদিক নিবর্তন শুরু হলো। ১৯৭৫ সালেই পাঁচটা পত্রিকাকে শোকজ করা হয়, সরকারের বিরুদ্ধে কেন রিপোর্ট করা হলো এ নিয়ে। বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬, ১৭ ও ১৮ এই তিনটা ধারা প্রয়োগ করা হলো। ১৯৯১ সালে এই তিনটা ধারাকে বিলুপ্ত করা হয়েছে, এখন আর নাই।’
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে হলে সব রকম নিবর্তনমূলক আইন থেকে সরকারকে ফিরে আসতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীতে যারাই নির্বাচিত হয়ে সরকারে যাবেন আশা করবো, তারা ডিএসএতে ফিরে যেতে চাইবেন না। কিন্তু যারাই ক্ষমতায় আসেন তারাই সাংবাদিক নিবর্তনের মানসিকতা মনে পোষণ করেন।’
এসময় তিনি আরো বলেন, ‘২০০৬ সালের আইসিটি আইনটা কিন্তু এখনও আছে। শুধু ৫৬ ধারাসহ কয়েকটা ধারা বাতিল করা হয়েছে, এই কারণে এই আইনটা আর আলোচনাতেই আসে না। এই আইনে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তৎকালীন সম্পাদক ও নির্বাহী পরিচালক আদিলুর রহমান খান এবং নাসিরুদ্দিন এলান প্রথম শিকার হন, এটির প্রথম আইনজীবী আমার হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। আইসিটি আইন নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় সেটি সংশোধন করে দেওয়া হয় ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট। এটা আইসিটি আইনের ৫৬ ধারারও বাবা। ৫৬ ধারার বাবাকে নিয়ে এসে গোটা জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হলো। এই আইনে লেখক মুশতাককে সহ্য হলো না। জীবিত গ্রেফতার হয়ে মৃত অবস্থায় তাঁকে বের হতে হলো। আমরা এই সমস্ত নিবর্তন এবং নির্যাতনমূলক আইন, যে আইন সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করে ও কলমকে থামিয়ে দেয় আমরা সেই আইনের বিলুপ্তি চাই।’
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের কাছে আশা করবো, আগামীতে তারা এইসব আইন বিলুপ্ত করবেন। একই সময়ে সাংবাদিকদের কাছেও অনুরোধ থাকবে, আপনারা এমন একটা আইনের ধারণা দেন যা নাগরিকদেরও নিরাপত্তা দেবে, সাংবাদিকদেরও কাজে ব্যাঘাত ঘটাবে না। নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান। এ দিন তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
৩ ঘণ্টা আগে
শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারত, ভুটান, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁরা নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৫০ নেতা শপথ নেন। এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পিএস-এপিএস নিয়োগ করা হয়।
৪ ঘণ্টা আগে