জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

চুয়াডাঙ্গায় দুদিন ধরে বইছে শৈত্যপ্রবাহ, মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ৫৯
চুয়াডাঙ্গায় দুদিন ধরে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। স্ট্রিম ছবি

চুয়াডাঙ্গায় পর পর দুদিন ধরে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ায় শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এর আগে সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই হিসাবে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে টানা দুদিন ধরে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এতে হাড়কাঁপানো শীতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে দুর্ভোগ।

প্রসঙ্গত, সাধারণত আবহাওয়াবিদরা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরে থাকেন। আর ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি পর্যন্ত মাঝারি, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি পর্যন্ত তীব্র এবং এর নিচের তাপমাত্রাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।

আজ সকালের দিকে চুয়াডাঙ্গা শহর ঘুরে দেখা গেছে, ভোরে চারপাশে হালকা কুয়াশা। তবে কয়েক দিন ধরে সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। গত তিন দিন সূর্যের দেখা না মেলায় উত্তরের দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়েছে কয়েক গুণ। আজ বুধবার সকালে সূর্যের দেখা মিললেও তাপমাত্রা কম রয়েছে। সূর্যের আলো কম এবং হিমেল বাতাসের কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।

শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ। কাজ নেই, উপার্জন কমে গেছে। কৃষকরাও দুশ্চিন্তায় আছেন, ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তবে সকালের দিকে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই বোরো মৌসুমের বীজতলায় পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন অনেকে। কাজের সন্ধানে গ্রাম থেকে শহরে এলেও তীব্র শীতের কারণে অনেকেই কাজ পাচ্ছেন না। কাজ না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে।

সকালে কুয়াশা ও শীত থাকায় সড়কে মানুষের চলাচল কমে গেছে। ফলে ভ্যান ও রিকশাচালকেরা যাত্রী পাচ্ছেন না। এতে তাঁদের দুর্ভোগও বাড়ছে। শীত থেকে বাঁচতে অনেকেই মোটা গরম পোশাক কিনতে ভিড় করছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

তীব্র শীতের কারণে রোগবালাইও বেড়েছে। ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে।

সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের মাঠে ফসলে কাজ করতে এসে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় প্রচণ্ড শীত। মাঠে কাজ করা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট গরিব মানুষের। এমন ঠান্ডায় ধানের জমিতে নামা যাচ্ছে না। এই শীত থেকে বাঁচার জন্য সারাদিনই মানুষ আগুন পোহাচ্ছে। রোদ উঠলেও শীতের তীব্রতা কমছে না।’

অফিসে যাওয়ার পথে এক কর্মজীবী নারী মনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘এই প্রচণ্ড শীতে মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে। মানুষ সকাল, সন্ধ্যা ও রাতে ঠিকভাবে বের হতে পারছে না। বিশেষ করে যাদের ঘরে ছোট শিশু আছে, তারা খুব কষ্টে আছে। এখন শিশুদের শীতজনিত রোগ বেশি দেখা যাচ্ছে। আর যারা খেটে খাওয়া মানুষ, তারা বাইরে বের হতে পারছে না। কাজকর্মও ঠিকভাবে করতে পারছে না। ফলে এই শীতে সবাই দুর্ভোগে আছে।’

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে এখন মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে। তবে এ অবস্থা আরও দুই থেকে তিন দিন থাকতে পারে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত