ওসির সঙ্গে থানায় যাবজ্জীবন সাজার আসামি, নানা আলোচনা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সাজা পাওয়া মনোয়ারুল হাসান রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আসামি মনোয়ারুল হাসান রাসেল ওরফে চিট রাসেল। সম্প্রতি তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানা থেকে ঘুরে আসেন। এ নিয়ে জেলায় নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার আঁচুয়া তালতলা গ্রামের রাসেল এলাকায় শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। রায়ের দিন তিনি আদালতে হাজির হননি। পরে আদালত তাঁকে দণ্ড দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এরপর রাসেল আত্মসমর্পণ করেননি। আদালত থেকে জামিনও পাননি। এরই মধ্যে গত ১৯ জুলাই তিনি গোদাগাড়ী থানায় যান। থানা সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই আঁচুয়া তালতলা গ্রামে রাসেলের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ১১ জুলাই রাসেলের ভাতিজা রাকিবুর হাসান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। আসামিদের রিমান্ড অবস্থায় ১৯ জুলাই থানায় যান রাসেল। তিনি চট্টগ্রামের মামলায় পলাতক অবস্থায় দেখা করেন ওসি আতিকুর রহমানের সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে চুরির ঘটনা নিয়ে আলাপ করেন এবং সেদিনই পল্টন থানার বিচারাধীন ওই মামলার জামিনের কাগজ জমা দিয়ে আসেন রাসেল।

নিয়ম অনুযায়ী, গোদাগাড়ীর কেউ পলাতক থাকলে, দেশের যে কোনো আদালতে দণ্ডিত হলে তাঁর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এই থানায় আসবে। বর্তমানে সাজাপ্রাপ্তদের ওয়ারেন্ট অফিসার থানার এসআই নুরুল ইসলাম। আর বিচারাধীন মামলার ওয়ারেন্ট অফিসার এসআই নাজমুল ইসলাম। এই পুলিশ কর্মকর্তা রাসেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা পল্টন থানার একটি মামলার জামিনের কাগজ পেয়েছেন গত ১৯ জুলাই। তবে সাজাপ্রাপ্ত মামলার জামিনের কোনো কাগজ পাননি এসআই নুরুল ইসলাম।

নথিপত্রে দেখা যায়, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ২০১৯ সালের মাদক মামলার রায় হয় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি। এতে রাসেলের যাবজ্জীবন হলেও, আরেক আসামি জামাল উদ্দিন বেকসুর খালাস পান। তিনি রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪ এর বিচারক আফরোজা জেসমিন কলি মাদক কারবারি রাসেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্ত কারও সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয় আমার পড়ছে না।’ ওয়ারেন্ট অফিসার এসআই নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘রাসেলের বিরুদ্ধে পল্টন থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ১৯ জুলাই এই মামলার জামিনের কাগজ পেয়েছি। সাজাপ্রাপ্ত মামলার বিষয় জানি না।’

এসআই নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এগুলো অফিসিয়াল বিষয়। আমি কোনো তথ্য দিতে পারব না। কথাও বলব না।’

জানা যায়, সংসার চালাতে এক সময় বাসের হেলপারি করতেন রাসেল। চট্টগ্রামের ওই মামলার রায়ের নথিতেও তাঁর নামের সঙ্গে চিট রাসেল লেখা আছে। হেরোইন ও ইয়াবার কারবার করে তিনি এখন বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক। রাজশাহী শহরে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। দামি ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য সম্পদও রয়েছে।

২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর রাতে রাজশাহী নগরের উপশহর এলাকায় পুলিশ রাসেলের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৮৮০ পিস ইয়াবা, রাসেল ও তাঁর স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা এলাকায় প্রায় ৬০ হাজার ইয়াবা, একটি ট্রাকসহ রাসেল র‌্যাবের হাতে আটক হন।

এ ব্যাপারে রাসেলের নম্বরে একাধিকবার কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।

গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থসংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, গোদাগাড়ীর মাদক কারবারিরা অনেক প্রভাবশালী। দুই হাতে টাকা উড়িয়ে তারা সবকিছু ম্যানেজ করেন। এজন্য দিনের পর দিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও চাপা থাকে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত