স্ট্রিম প্রতিবেদক

মব সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘সরকার মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে।’
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মব সহিংসতা এখন বাংলাদেশের একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। এই প্রবণতা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে তা নির্বাচনী সহিংসতাকেও উসকে দিতে পারে।’
তার মত, এক্ষেত্রে সরকারেরও দায় আছে। সরকার শুরু থেকে মব সহিংসতা প্রতিরোধে তৎপরতা দেখাতে পারেনি।
মব ভায়োলেন্সের উৎপত্তি নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশে মব সহিংসতা শুরু হয়েছে সরকারের ভেতর থেকে। দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে প্রথম মবের উৎপত্তি হয়েছিল। সরকারের বাইরের শক্তি যারা এখন মব করছে, তারা ক্ষমতায়িত হয়েছে সচিবালয়ে মব সৃষ্টির পরে। এর ফলে সরকারের নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।’
তার ভাষায়, নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার ঝুঁকি শুধু ভোটের দিনেই নয়, আজকে থেকে শুরু করে ভোটের পরের সময়েও বিদ্যমান থাকতে পারে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্মের অপব্যবহার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে দেখছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার যে প্রবণতা ঐতিহাসিকভাবে ছিল, তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে অর্থ, পেশি ও ধর্ম—এই তিন শক্তির অপব্যবহার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এসব শক্তির প্রভাব যদি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়বে। এসব অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু নির্বাচন নয়, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পুরো প্রক্রিয়াই ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
তাঁর মতে, নির্বাচন কার্যক্রম চলমান থাকলেও প্রকৃত অর্থে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি। এসব অনিয়মের ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এদিকে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়হীনতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্রগুলোর একটি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, সিদ্ধান্তহীনতা এবং কখনো কখনো নির্লিপ্ততার কারণে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধে যেসব প্রতিষ্ঠান দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সুস্পষ্ট কৌশল না থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।’
এ সময়ে তিনি গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে সহিংসতা ও অপরাধসংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য থাকার কথা থাকলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। যদি গোয়েন্দা তথ্য যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ করা হতো, তাহলে নির্বাচনী সহিংসতা ও মব সন্ত্রাস অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল।’
সব উদ্বেগের মাঝেও নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দেননি ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করি, সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নির্বাচন গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর জন্য সরকারকে এখনই আরও সক্রিয়, দৃঢ় ও সমন্বিত ভূমিকা নিতে হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্র সংস্কারের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছে, তা পর্যাপ্ত শক্তিশালী নয়। ভবিষ্যতে এই ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার যে ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। কিছু অগ্রগতি থাকলেও অর্জনের তুলনায় ঘাটতি ও পথভ্রষ্ট হওয়ার উপাদানগুলো বেশি দৃশ্যমান।’
এ সময়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিচার, নির্বাচন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু সিদ্ধান্ত ও অবকাঠামো তৈরি হলেও তা টেকসই হয়নি। বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে যতটা শক্ত ভিত্তি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি।’
টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও ঐকমত্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হলেও মৌলিক বিষয়ে দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে জুলাই সনদ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অনীহা শুরু থেকেই প্রতিকূলতা তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখতে চায় জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ কারণে ঐকমত্য কমিশনে জনগণের কাছে জবাবদিহি সরকারব্যবস্থার জন্য যে পদ্ধতিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি ছিল।’
এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুপারিশগুলোর প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর অনাগ্রহের কারণেই “নোট অব ডিসেন্ট” তৈরি হয়েছে, যা সনদকে দুর্বল করেছে।’
তবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্টের মৌলিক কনসেপ্ট ধারণ করলে আপত্তি থাকলেও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য বা সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটিই বাস্তবায়ন হবে। এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার রীতি বিশ্বব্যাপী প্রচলিত আছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমনটি হবে কিনা, সেটি দেখার বিষয়। গণভোটের রায় হ্যাঁ- এর পক্ষে গেলে সেক্ষেত্রে যারা সরকারে যাবে, তাদের সদিচ্ছার ওপর সংস্কার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।’
উপদেষ্টা পরিষদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের অঙ্গীকার এখনো বাস্তবায়ন না হওয়াকে ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও সুশাসনের অঙ্গীকার করা সরকার নিজেই সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক নজির।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিচার, সংস্কার, নির্বাচন, রাষ্ট্র পরিচালনা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও অংশীজনের ভূমিকা নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত গবেষণা চালায় টিআইবি। গবেষণা প্রতিবেদনে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, জুলাই যোদ্ধাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, রাষ্ট্র সংস্কারসহ ১৮টি পদক্ষেপের অগ্রগতি-ঘাটতি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও কৌঁসুলিদের নিয়োগে বিতর্ক এবং বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়রানি দেখা গেছে।
এছাড়া, গুমসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে র্যাব বিলুপ্তি ও গোয়েন্দা বাহিনীর সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

মব সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘সরকার মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে।’
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মব সহিংসতা এখন বাংলাদেশের একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। এই প্রবণতা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে তা নির্বাচনী সহিংসতাকেও উসকে দিতে পারে।’
তার মত, এক্ষেত্রে সরকারেরও দায় আছে। সরকার শুরু থেকে মব সহিংসতা প্রতিরোধে তৎপরতা দেখাতে পারেনি।
মব ভায়োলেন্সের উৎপত্তি নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশে মব সহিংসতা শুরু হয়েছে সরকারের ভেতর থেকে। দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে প্রথম মবের উৎপত্তি হয়েছিল। সরকারের বাইরের শক্তি যারা এখন মব করছে, তারা ক্ষমতায়িত হয়েছে সচিবালয়ে মব সৃষ্টির পরে। এর ফলে সরকারের নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।’
তার ভাষায়, নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার ঝুঁকি শুধু ভোটের দিনেই নয়, আজকে থেকে শুরু করে ভোটের পরের সময়েও বিদ্যমান থাকতে পারে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্মের অপব্যবহার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে দেখছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার যে প্রবণতা ঐতিহাসিকভাবে ছিল, তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে অর্থ, পেশি ও ধর্ম—এই তিন শক্তির অপব্যবহার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এসব শক্তির প্রভাব যদি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়বে। এসব অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শুধু নির্বাচন নয়, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পুরো প্রক্রিয়াই ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
তাঁর মতে, নির্বাচন কার্যক্রম চলমান থাকলেও প্রকৃত অর্থে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি। এসব অনিয়মের ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এদিকে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়হীনতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্রগুলোর একটি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, সিদ্ধান্তহীনতা এবং কখনো কখনো নির্লিপ্ততার কারণে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধে যেসব প্রতিষ্ঠান দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সুস্পষ্ট কৌশল না থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।’
এ সময়ে তিনি গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে সহিংসতা ও অপরাধসংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য থাকার কথা থাকলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। যদি গোয়েন্দা তথ্য যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ করা হতো, তাহলে নির্বাচনী সহিংসতা ও মব সন্ত্রাস অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল।’
সব উদ্বেগের মাঝেও নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করে দেননি ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করি, সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নির্বাচন গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর জন্য সরকারকে এখনই আরও সক্রিয়, দৃঢ় ও সমন্বিত ভূমিকা নিতে হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্র সংস্কারের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছে, তা পর্যাপ্ত শক্তিশালী নয়। ভবিষ্যতে এই ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার যে ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। কিছু অগ্রগতি থাকলেও অর্জনের তুলনায় ঘাটতি ও পথভ্রষ্ট হওয়ার উপাদানগুলো বেশি দৃশ্যমান।’
এ সময়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিচার, নির্বাচন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু সিদ্ধান্ত ও অবকাঠামো তৈরি হলেও তা টেকসই হয়নি। বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে যতটা শক্ত ভিত্তি তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি।’
টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও ঐকমত্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হলেও মৌলিক বিষয়ে দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে জুলাই সনদ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অনীহা শুরু থেকেই প্রতিকূলতা তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখতে চায় জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ কারণে ঐকমত্য কমিশনে জনগণের কাছে জবাবদিহি সরকারব্যবস্থার জন্য যে পদ্ধতিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি ছিল।’
এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুপারিশগুলোর প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর অনাগ্রহের কারণেই “নোট অব ডিসেন্ট” তৈরি হয়েছে, যা সনদকে দুর্বল করেছে।’
তবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্টের মৌলিক কনসেপ্ট ধারণ করলে আপত্তি থাকলেও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য বা সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটিই বাস্তবায়ন হবে। এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার রীতি বিশ্বব্যাপী প্রচলিত আছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমনটি হবে কিনা, সেটি দেখার বিষয়। গণভোটের রায় হ্যাঁ- এর পক্ষে গেলে সেক্ষেত্রে যারা সরকারে যাবে, তাদের সদিচ্ছার ওপর সংস্কার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।’
উপদেষ্টা পরিষদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের অঙ্গীকার এখনো বাস্তবায়ন না হওয়াকে ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও সুশাসনের অঙ্গীকার করা সরকার নিজেই সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক নজির।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিচার, সংস্কার, নির্বাচন, রাষ্ট্র পরিচালনা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও অংশীজনের ভূমিকা নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত গবেষণা চালায় টিআইবি। গবেষণা প্রতিবেদনে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, জুলাই যোদ্ধাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, রাষ্ট্র সংস্কারসহ ১৮টি পদক্ষেপের অগ্রগতি-ঘাটতি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও কৌঁসুলিদের নিয়োগে বিতর্ক এবং বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়রানি দেখা গেছে।
এছাড়া, গুমসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে র্যাব বিলুপ্তি ও গোয়েন্দা বাহিনীর সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
৭ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান। এ দিন তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
৭ ঘণ্টা আগে
শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারত, ভুটান, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁরা নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
৭ ঘণ্টা আগে
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৫০ নেতা শপথ নেন। এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পিএস-এপিএস নিয়োগ করা হয়।
৮ ঘণ্টা আগে