পাকিস্তানে অধিকারকর্মীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
স্ট্রিম ডেস্ক

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বিক্ষোভের সময় দেশটির আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে ও তাঁর এক সহকর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এ রায় দেন। খবর রয়টার্সের।
গত সোমবার (২২ জুন) কোয়েটার সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, মাহরাং বেলুচ এবং বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটির (বিওয়াইসি) নেতা সিবগাতুল্লাহ ‘হত্যা ও সন্ত্রাসবাদ’-এর অভিযোগে দোষী।
আদালতের মতে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মাহরাং বিক্ষোভকারীদের উসকে দিয়ে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালাতে উৎসাহিত করেছিলেন। প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ অভিযোগকে সমর্থন করেছে বলেও আদালত উল্লেখ করেন।
তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন মাহরাং বেলুচের আইনজীবী ইসরার জাট্টাক। তিনি জানিয়েছেন, বেলুচিস্তান হাইকোর্টে এ রায় চ্যালেঞ্জ করা হবে।
২০২৫ সালের মার্চ থেকে আটক থাকা মাহরাং বেলুচ বেলুচিস্তানে গুম, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ছিলেন। এ কারণে তিনি দেশ-বিদেশে পরিচিতি লাভ করেন।
এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কারাগার থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা বিচারকার্য বর্জন করেন। ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, মাহরাং বেলুচ ও সিবগাতুল্লাহর বিরুদ্ধে দেওয়া এ সাজা বেলুচ জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে বেলুচিস্তান সরকারের দাবি, বিচারপ্রক্রিয়া ছিল সুষ্ঠু এবং আইনের আওতায় পরিচালিত। প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেন, গওয়াদার শহরে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সিপাহী সাব্বির বেলুচের জন্য এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আড়ালে যারা সহিংসতা ছড়ায় এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করে, তারা সন্ত্রাসবাদের সহায়তাকারী।
.png)





-7bb02b-256x144.webp)
