স্ট্রিম ডেস্ক

দুটি হাতের মধ্যে আমরা ডানহাতকেই বেশি এগিয়ে রাখি তাই না! ডান হাতই যেন সঠিক। বাম হাত দিয়ে কাউকে কোনো কিছু দিলেই তো মা দিতো বকা! তবে কেউ কেউ আমাদের আশপাশে ছিল যাঁরা বাম হাতে লিখতেন বা কাজ করতেন। আমরা ডানহাতিরা অবাকও হতাম আর কত রকম প্রশ্নও করতাম! তবে এও যে এক প্রতিভা তা ক্রমশ টের পেলাম যখন আমাদের ব্যাচে প্রথম হওয়া নিলুফারই ছিল বাঁহাতি।
শুধু নিলুফার নয়, বিশ্বে আরও অনেক মানুষ আছেন যারা বাম হাতে লেখেন। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০-১২ শতাংশ মানুষ বাঁহাতি। ডানহাতিদের তুলনায় তাদের সংখ্যা কম। কিন্তু বাঁহাতিদের সাফল্য কম নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাঁহাতিদের মস্তিষ্কের গঠন ডানহাতিদের থেকে কিছুটা ভিন্ন হয়। এটি তাদের মধ্যে কিছু বিশেষ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে। যেমন, বাঁহাতিরা প্রায়ই সৃজনশীল কাজে বেশি পারদর্শী হয়।

শিল্পকলা, সঙ্গীত এবং খেলাধুলাতে তাদের ভালো করতে দেখা যায়। যেমন ধরুন, বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, বিল গেটস, বারাক ওবামা, এবং ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকার। এই তালিকায় আছেন গায়ক জাস্টিন বিবার, লেডি গাগাসহ আরও অনেকেই। গাড়ি চালাতেও বাঁহাতিরা বেশ দক্ষ। ৪৭ শতাংশ ডানহাতি গাড়ি চালানোতে প্রথমবারে পাশ করলেও বাঁহাতিদের সংখ্যাই কিন্তু এগিয়ে। ৫৭ শতাংশ বাঁহাতিরা গাড়ি চালানোতে প্রথমবারেই পাস করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিসিনপ্লাসের গবেষণা মতে, শিশুর হাতের প্রভাবশালী দিক নির্ধারণ শুরু হয় ১০ থেকে ১৮ মাসে এবং তিন বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। প্রথমে দুই হাতই নানা কাজ করে, পরে একটি প্রভাবশালী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, একক কোনো জিন নয়, বরং একাধিক জেনেটিক প্রভাব ও অভ্যাস একসঙ্গে ভূমিকা রাখে। গর্ভে থাকতেই হাতের পছন্দের ইঙ্গিত মেলে। আল্ট্রাসাউন্ডে দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার ৪–৫ মাসে প্রায় ৯০ শতাংশ ভ্রূণ ডান হাতের বুড়ো আঙুল চোষে, ১০ শতাংশ বাঁ হাতের এবং ১০ সপ্তাহেই ৮৫ শতাংশ ভ্রূণ ডান হাত বেশি নাড়ায়। এসব প্রবণতা জন্মের পরেও প্রায় একই থাকে।
মার্কিন গবেষক ড. ক্রিস ম্যাকম্যানাসের মতে, দুই বাঁহাতি অভিভাবকের সন্তান বাঁহাতি হওয়ার সম্ভাবনা তিনগুণ বেশি হলেও, প্রায় ৭৫ শতাংশ ডানহাতি হয়। অর্থাৎ, বংশগতির পাশাপাশি ভাগ্যের বড় ভূমিকা আছে। নির্দিষ্ট কোনো জিন নয়, বরং অনেক ছোট প্রভাব তৈরি করে এমন জিনও একত্রে এই বৈশিষ্ট্য গঠন করে। এটি উচ্চতা বা বুদ্ধিমত্তার মতোই জটিল বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত।

বেলফাস্টের কুইন্স ইউনিভার্সিটির গবেষক পিটার হেপার গর্ভস্থ শিশুদের নড়াচড়া নিয়ে আল্ট্রাসাউন্ডে গবেষণা করে চমকপ্রদ তথ্য পান। তিনি লক্ষ্য করেন, প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে ৯টি গর্ভেই ডান হাতের আঙুল চুষছে। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এদের অধিকাংশই জন্মের পর ডান-হাতি হয়ে ওঠে। এখানেও ডান-হাতি ও বাঁ-হাতির অনুপাত সেই ৯:১ হিসাবেই থেকে গেছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক স্নায়ু মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডরোথি বিশপ বাম-হাতি ছিলেন এবং তার মধ্যে সব সময় বিস্ময়ের উদ্রেক করে, কেন তিনি অন্য মানুষ থেকে ভিন্ন ছিলেন।
এসব ভাবনা থেকেই ডান হাতিদের জন্য তৈরি বিশ্বে বাম হাতিদের কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অনেক সরঞ্জাম, যেমন কাঁচি, ক্যান ওপেনার, এমনকি কিছু বাদ্যযন্ত্রও ডানহাতিদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। এর ফলে বাঁহাতিদের জন্য সেগুলো ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এই ধরনের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা এবং বাঁহাতিদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে উৎসাহিত করা।
প্রতি বছর ১৩ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক বাঁহাতি দিবস। এই দিনটি বাঁহাতি ব্যক্তিদের স্বতন্ত্রতা এবং তাদের জীবনে আসা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য পালিত হয়। ডানহাতিদের পৃথিবীতে বাঁহাতি হওয়াটা এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। এই বিশেষত্ব নিয়ে থাকে ভুল ধারণাও। এই দিবসটি সেইসব ভুল ধারণা দূর করে বাঁহাতিদের প্রতি সম্মান ও সমর্থন জানানোর একটি সুযোগ। ১৯৭৬ সালে ডি আর ক্যাম্পবেল দিবসটি পালন করেন বাঁহাতি মানুষদের সামনে তুলে ধরতে। লেফট হ্যান্ডার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। সবাই যখন ডানহাতি তখন কেউ কেউ বাঁহাতি হওয়ার সুবিধা-অসুবিধাগুলো নিয়ে জানাশোনা বাড়াতেই দিনটি পালন করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাঁহাতি দিবস কেবল একটি উদযাপন নয়। এটি সচেতনতা এবং অন্তর্ভুক্তির একটি প্রতীক। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিটি মানুষের নিজস্বতা এবং ভিন্নতা রয়েছে।

দুটি হাতের মধ্যে আমরা ডানহাতকেই বেশি এগিয়ে রাখি তাই না! ডান হাতই যেন সঠিক। বাম হাত দিয়ে কাউকে কোনো কিছু দিলেই তো মা দিতো বকা! তবে কেউ কেউ আমাদের আশপাশে ছিল যাঁরা বাম হাতে লিখতেন বা কাজ করতেন। আমরা ডানহাতিরা অবাকও হতাম আর কত রকম প্রশ্নও করতাম! তবে এও যে এক প্রতিভা তা ক্রমশ টের পেলাম যখন আমাদের ব্যাচে প্রথম হওয়া নিলুফারই ছিল বাঁহাতি।
শুধু নিলুফার নয়, বিশ্বে আরও অনেক মানুষ আছেন যারা বাম হাতে লেখেন। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০-১২ শতাংশ মানুষ বাঁহাতি। ডানহাতিদের তুলনায় তাদের সংখ্যা কম। কিন্তু বাঁহাতিদের সাফল্য কম নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাঁহাতিদের মস্তিষ্কের গঠন ডানহাতিদের থেকে কিছুটা ভিন্ন হয়। এটি তাদের মধ্যে কিছু বিশেষ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে। যেমন, বাঁহাতিরা প্রায়ই সৃজনশীল কাজে বেশি পারদর্শী হয়।

শিল্পকলা, সঙ্গীত এবং খেলাধুলাতে তাদের ভালো করতে দেখা যায়। যেমন ধরুন, বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, বিল গেটস, বারাক ওবামা, এবং ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকার। এই তালিকায় আছেন গায়ক জাস্টিন বিবার, লেডি গাগাসহ আরও অনেকেই। গাড়ি চালাতেও বাঁহাতিরা বেশ দক্ষ। ৪৭ শতাংশ ডানহাতি গাড়ি চালানোতে প্রথমবারে পাশ করলেও বাঁহাতিদের সংখ্যাই কিন্তু এগিয়ে। ৫৭ শতাংশ বাঁহাতিরা গাড়ি চালানোতে প্রথমবারেই পাস করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিসিনপ্লাসের গবেষণা মতে, শিশুর হাতের প্রভাবশালী দিক নির্ধারণ শুরু হয় ১০ থেকে ১৮ মাসে এবং তিন বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। প্রথমে দুই হাতই নানা কাজ করে, পরে একটি প্রভাবশালী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, একক কোনো জিন নয়, বরং একাধিক জেনেটিক প্রভাব ও অভ্যাস একসঙ্গে ভূমিকা রাখে। গর্ভে থাকতেই হাতের পছন্দের ইঙ্গিত মেলে। আল্ট্রাসাউন্ডে দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার ৪–৫ মাসে প্রায় ৯০ শতাংশ ভ্রূণ ডান হাতের বুড়ো আঙুল চোষে, ১০ শতাংশ বাঁ হাতের এবং ১০ সপ্তাহেই ৮৫ শতাংশ ভ্রূণ ডান হাত বেশি নাড়ায়। এসব প্রবণতা জন্মের পরেও প্রায় একই থাকে।
মার্কিন গবেষক ড. ক্রিস ম্যাকম্যানাসের মতে, দুই বাঁহাতি অভিভাবকের সন্তান বাঁহাতি হওয়ার সম্ভাবনা তিনগুণ বেশি হলেও, প্রায় ৭৫ শতাংশ ডানহাতি হয়। অর্থাৎ, বংশগতির পাশাপাশি ভাগ্যের বড় ভূমিকা আছে। নির্দিষ্ট কোনো জিন নয়, বরং অনেক ছোট প্রভাব তৈরি করে এমন জিনও একত্রে এই বৈশিষ্ট্য গঠন করে। এটি উচ্চতা বা বুদ্ধিমত্তার মতোই জটিল বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত।

বেলফাস্টের কুইন্স ইউনিভার্সিটির গবেষক পিটার হেপার গর্ভস্থ শিশুদের নড়াচড়া নিয়ে আল্ট্রাসাউন্ডে গবেষণা করে চমকপ্রদ তথ্য পান। তিনি লক্ষ্য করেন, প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে ৯টি গর্ভেই ডান হাতের আঙুল চুষছে। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এদের অধিকাংশই জন্মের পর ডান-হাতি হয়ে ওঠে। এখানেও ডান-হাতি ও বাঁ-হাতির অনুপাত সেই ৯:১ হিসাবেই থেকে গেছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক স্নায়ু মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডরোথি বিশপ বাম-হাতি ছিলেন এবং তার মধ্যে সব সময় বিস্ময়ের উদ্রেক করে, কেন তিনি অন্য মানুষ থেকে ভিন্ন ছিলেন।
এসব ভাবনা থেকেই ডান হাতিদের জন্য তৈরি বিশ্বে বাম হাতিদের কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অনেক সরঞ্জাম, যেমন কাঁচি, ক্যান ওপেনার, এমনকি কিছু বাদ্যযন্ত্রও ডানহাতিদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। এর ফলে বাঁহাতিদের জন্য সেগুলো ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এই ধরনের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা এবং বাঁহাতিদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে উৎসাহিত করা।
প্রতি বছর ১৩ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক বাঁহাতি দিবস। এই দিনটি বাঁহাতি ব্যক্তিদের স্বতন্ত্রতা এবং তাদের জীবনে আসা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য পালিত হয়। ডানহাতিদের পৃথিবীতে বাঁহাতি হওয়াটা এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। এই বিশেষত্ব নিয়ে থাকে ভুল ধারণাও। এই দিবসটি সেইসব ভুল ধারণা দূর করে বাঁহাতিদের প্রতি সম্মান ও সমর্থন জানানোর একটি সুযোগ। ১৯৭৬ সালে ডি আর ক্যাম্পবেল দিবসটি পালন করেন বাঁহাতি মানুষদের সামনে তুলে ধরতে। লেফট হ্যান্ডার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। সবাই যখন ডানহাতি তখন কেউ কেউ বাঁহাতি হওয়ার সুবিধা-অসুবিধাগুলো নিয়ে জানাশোনা বাড়াতেই দিনটি পালন করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাঁহাতি দিবস কেবল একটি উদযাপন নয়। এটি সচেতনতা এবং অন্তর্ভুক্তির একটি প্রতীক। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিটি মানুষের নিজস্বতা এবং ভিন্নতা রয়েছে।
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
১৯ ঘণ্টা আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
২১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
২১ ঘণ্টা আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
২ দিন আগে