স্ট্রিম ডেস্ক

১৯৭১। বাংলাদেশে চলছে মুক্তির সংগ্রাম। বিশ্বমোড়লেরা তখন কূটনৈতিক চাল চালতে ব্যস্ত। কিন্তু লন্ডনের এক ছোট অফিসে বসে কয়েকজন সাধারণ মানুষ নিলেন এক অসাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তাঁরা কোনো সামরিক বাহিনীর সদস্য নন, কোনো সরকারি সংস্থারও কেউ নন; তাঁরা কেবল একদল মানবতাবাদী, যাঁরা বিশ্বাস করতেন—মৃত্যুপথযাত্রী মানুষকে বাঁচানোর জন্য কোনো পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না, বাধা হতে পারে না কোনো সীমানাপ্রাচীর। এই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক অধ্যায়—‘অপারেশন ওমেগা’।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘পিস নিউজ’ পত্রিকার সম্পাদক রজার মুডি ছিলেন এই পাগলাটে পরিকল্পনার মূল হোতা। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে পত্রিকায় এক ছোট্ট বিজ্ঞাপন দিলেন তিনি—‘লন্ডনবাসীদের ছোট একটি দল পূর্ব বাংলায় ত্রাণসামগ্রীসহ অভিযানের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করছে। যারা শারীরিকভাবে সক্ষম এবং ব্যক্তিগত বন্ধনে আবদ্ধ নন, এমন স্বেচ্ছাসেবীদের দ্রুত যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলো।’
শর্ত ছিল একটাই—জীবনের ঝুঁকি নিতে হবে।
রজার মুডির এই ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এলেন ব্রিটেন ও আমেরিকার কয়েকজন তরুণ-তরুণী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সদ্য বিবাহিত ব্রিটিশ দম্পতি পল কনেট ও এলেন কনেট, যাঁরা হানিমুন অসমাপ্ত রেখেই ছুটে এসেছিলেন মানবতার ডাকে। ছিলেন প্রকৌশলী বেন ক্রো, সমাজকর্মী জয়েস কেনিওয়েল, ক্রিস্টিন প্রাট ও গর্ডন স্লাভেন।
তাঁরা জানতেন, যা করতে যাচ্ছেন তা কার্যত সুইসাইড মিশনের চেয়ে কম নয়। কারণ, পাকিস্তান সরকার তখন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দিচ্ছে না। সেখানে এই কয়জন নিরস্ত্র বিদেশি কীভাবে হায়েনাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেবেন?

লন্ডনের কেলডোনিয়ন রোডের এক স্যাঁতসেঁতে অফিসে বসে তৈরি হলো ব্লু-প্রিন্ট। নাম দেওয়া হলো ‘অপারেশন ওমেগা’। তাঁদের স্লোগান ছিল বিপ্লবাত্মক—‘ব্যথাতুর এবং সাহায্যকারীর মাঝখানে কোনো দেয়ালই বৈধ নয়। মৃত্যুর মুখে পতিত মানুষকে সাহায্য করার জন্য কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না।’
সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে কেনা হলো দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও ল্যান্ড রোভার। এরপর শুরু হলো এক অবিশ্বাস্য যাত্রা। ইউরোপ থেকে সড়কপথে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে তাঁরা। পৌঁছালেন ভারত সীমান্তে।
ক্যালেন্ডারের পাতায় তখন ১৭ আগস্ট। পেট্রাপোল সীমান্ত। কাঁটাতারের ওপারে বাংলাদেশ তখন এক মৃত্যুপুরী। অপারেশন ওমেগার দুটি ল্যান্ড রোভার বোঝাই করা বিস্কুট, ওষুধ আর ৫০০ শাড়ি নিয়ে সোজা বাংলাদেশের দিকে রওনা দিল। গাড়ির সামনে ওড়ছে মানবতার পতাকা। সীমান্তে ভারতীয় রক্ষীরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। গাড়িটা সত্যিই ঢুকে পড়ল বাংলাদেশে।
দুপুর সোয়া বারোটা। যশোর রোড ধরে ধুলো উড়িয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ল ওমেগার গাড়ি। কিন্তু বেশিদূর যাওয়া গেল না। কয়েকশ গজ ভেতরে ঢুকতেই পাকিস্তানি সেনারা পথ আটকে দাঁড়াল। শুরু হলো তর্ক। ওমেগা দলের সদস্যরা স্পষ্ট জানালেন, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসেননি তাঁরা, এসেছেন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দিতে। কিন্তু পাকিস্তানিরা কোনো যুক্তি মানতে নারাজ। চারজন স্বেচ্ছাসেবীকে বন্দুকের মুখে জিপে তুলে নিয়ে গেল অজ্ঞাত স্থানে। টানা পাঁচ ঘণ্টা চলল মানসিক নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদ। শেষমেশ আন্তর্জাতিক চাপের ভয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলেও, বার্তাটি ছিল পরিষ্কার—‘ফিরে যাও, নইলে মৃত্যু’।

ওমেগা দলের অভিধানে ছিল না ‘পিছু হটা’ শব্দটি। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নিলেন আরও বড় ঝুঁকি। এবার তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন নদীপথে বা চোরাগোপ্তা পথে ঢোকার।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে গর্ডন স্লাভেন ও মার্ক ডুরানের একটি দল গোপনে বাংলাদেশে ঢুকে তিন দিন ধরে সফলভাবে ত্রাণ বিতরণ করে ফিরে আসেন। এটি ছিল তাঁদের প্রথম বিজয়। কিন্তু সব গল্পের সমাপ্তি সুখের হয় না।
অক্টোবরের শুরুতে তৃতীয়বারের মতো সীমান্ত অতিক্রম করলেন পল কনেটের স্ত্রী এলেন কনেট ও গর্ডন স্লাভেন। যশোরের শিমুলিয়া মিশনের একটি চার্চে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে গোপনে ওষুধ ও খাবার পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু রাজাকারদের তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানি আর্মি চার্চটি ঘেরাও করে। গ্রেপ্তার হন ২৯ বছর বয়সী মার্কিন তরুণী এলেন কনেট ও তাঁর সঙ্গী। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় অবৈধ অনুপ্রবেশের। এক প্রহসনের বিচারে তাঁদের দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় যশোর কারাগারে।
ভিনদেশের এক তরুণী, যাঁর নিজের নিরাপদ জীবন ছিল, সুখের সংসার ছিল, কেবল বাংলার দুঃখী মানুষের জন্য পচছেন পাকিস্তানি জেলে!
জেলের ভেতরে এলেন দেখলেন আরেক নরক। তাঁর সঙ্গে বন্দী ছিলেন আরও অনেক বাঙালি নারী, যাঁদের ওপর চলত অকথ্য নির্যাতন। এলেনের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ল বিশ্বজুড়ে। পল কনেট লন্ডনে বসে স্ত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতে লাগলেন। কিন্তু এলেন ভেঙে পড়েননি। জেলের ভেতরে থেকেও তিনি বন্দীদের সাহস জোগাতেন।

অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, যশোর মুক্ত হলো। মুক্তিবাহিনীর বীরোচিত আক্রমণে পালিয়ে গেল পাকিস্তানিরা। কারাগারের তালা ভেঙে মুক্ত হলেন এলেন কনেট ও গর্ডন স্লাভেন। তাঁদের স্বাগত জানাল মুক্ত বাতাস আর হাজারো কৃতজ্ঞ বাঙালি।
অপারেশন ওমেগা হয়তো লাখ লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারেনি, তাদের ত্রাণের পরিমাণ হয়তো খুব বিশাল ছিল না। কিন্তু তাঁরা যা করেছিলেন, তা ছিল একটি প্রতীকী চপেটাঘাত। তাঁরা বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন যে পাকিস্তান সরকার ত্রাণকার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে এবং সেখানে চলছে পরিকল্পিত গণহত্যা। তাঁদের এই দুঃসাহসিকতা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশের সপক্ষে জনমত গঠনে বারুদের মতো কাজ করেছিল।

১৯৭১। বাংলাদেশে চলছে মুক্তির সংগ্রাম। বিশ্বমোড়লেরা তখন কূটনৈতিক চাল চালতে ব্যস্ত। কিন্তু লন্ডনের এক ছোট অফিসে বসে কয়েকজন সাধারণ মানুষ নিলেন এক অসাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তাঁরা কোনো সামরিক বাহিনীর সদস্য নন, কোনো সরকারি সংস্থারও কেউ নন; তাঁরা কেবল একদল মানবতাবাদী, যাঁরা বিশ্বাস করতেন—মৃত্যুপথযাত্রী মানুষকে বাঁচানোর জন্য কোনো পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না, বাধা হতে পারে না কোনো সীমানাপ্রাচীর। এই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক অধ্যায়—‘অপারেশন ওমেগা’।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘পিস নিউজ’ পত্রিকার সম্পাদক রজার মুডি ছিলেন এই পাগলাটে পরিকল্পনার মূল হোতা। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে পত্রিকায় এক ছোট্ট বিজ্ঞাপন দিলেন তিনি—‘লন্ডনবাসীদের ছোট একটি দল পূর্ব বাংলায় ত্রাণসামগ্রীসহ অভিযানের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করছে। যারা শারীরিকভাবে সক্ষম এবং ব্যক্তিগত বন্ধনে আবদ্ধ নন, এমন স্বেচ্ছাসেবীদের দ্রুত যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলো।’
শর্ত ছিল একটাই—জীবনের ঝুঁকি নিতে হবে।
রজার মুডির এই ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এলেন ব্রিটেন ও আমেরিকার কয়েকজন তরুণ-তরুণী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সদ্য বিবাহিত ব্রিটিশ দম্পতি পল কনেট ও এলেন কনেট, যাঁরা হানিমুন অসমাপ্ত রেখেই ছুটে এসেছিলেন মানবতার ডাকে। ছিলেন প্রকৌশলী বেন ক্রো, সমাজকর্মী জয়েস কেনিওয়েল, ক্রিস্টিন প্রাট ও গর্ডন স্লাভেন।
তাঁরা জানতেন, যা করতে যাচ্ছেন তা কার্যত সুইসাইড মিশনের চেয়ে কম নয়। কারণ, পাকিস্তান সরকার তখন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাকেও বাংলাদেশে ঢুকতে দিচ্ছে না। সেখানে এই কয়জন নিরস্ত্র বিদেশি কীভাবে হায়েনাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেবেন?

লন্ডনের কেলডোনিয়ন রোডের এক স্যাঁতসেঁতে অফিসে বসে তৈরি হলো ব্লু-প্রিন্ট। নাম দেওয়া হলো ‘অপারেশন ওমেগা’। তাঁদের স্লোগান ছিল বিপ্লবাত্মক—‘ব্যথাতুর এবং সাহায্যকারীর মাঝখানে কোনো দেয়ালই বৈধ নয়। মৃত্যুর মুখে পতিত মানুষকে সাহায্য করার জন্য কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না।’
সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে কেনা হলো দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও ল্যান্ড রোভার। এরপর শুরু হলো এক অবিশ্বাস্য যাত্রা। ইউরোপ থেকে সড়কপথে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে তাঁরা। পৌঁছালেন ভারত সীমান্তে।
ক্যালেন্ডারের পাতায় তখন ১৭ আগস্ট। পেট্রাপোল সীমান্ত। কাঁটাতারের ওপারে বাংলাদেশ তখন এক মৃত্যুপুরী। অপারেশন ওমেগার দুটি ল্যান্ড রোভার বোঝাই করা বিস্কুট, ওষুধ আর ৫০০ শাড়ি নিয়ে সোজা বাংলাদেশের দিকে রওনা দিল। গাড়ির সামনে ওড়ছে মানবতার পতাকা। সীমান্তে ভারতীয় রক্ষীরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। গাড়িটা সত্যিই ঢুকে পড়ল বাংলাদেশে।
দুপুর সোয়া বারোটা। যশোর রোড ধরে ধুলো উড়িয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ল ওমেগার গাড়ি। কিন্তু বেশিদূর যাওয়া গেল না। কয়েকশ গজ ভেতরে ঢুকতেই পাকিস্তানি সেনারা পথ আটকে দাঁড়াল। শুরু হলো তর্ক। ওমেগা দলের সদস্যরা স্পষ্ট জানালেন, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসেননি তাঁরা, এসেছেন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দিতে। কিন্তু পাকিস্তানিরা কোনো যুক্তি মানতে নারাজ। চারজন স্বেচ্ছাসেবীকে বন্দুকের মুখে জিপে তুলে নিয়ে গেল অজ্ঞাত স্থানে। টানা পাঁচ ঘণ্টা চলল মানসিক নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদ। শেষমেশ আন্তর্জাতিক চাপের ভয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলেও, বার্তাটি ছিল পরিষ্কার—‘ফিরে যাও, নইলে মৃত্যু’।

ওমেগা দলের অভিধানে ছিল না ‘পিছু হটা’ শব্দটি। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নিলেন আরও বড় ঝুঁকি। এবার তাঁরা সিদ্ধান্ত নিলেন নদীপথে বা চোরাগোপ্তা পথে ঢোকার।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে গর্ডন স্লাভেন ও মার্ক ডুরানের একটি দল গোপনে বাংলাদেশে ঢুকে তিন দিন ধরে সফলভাবে ত্রাণ বিতরণ করে ফিরে আসেন। এটি ছিল তাঁদের প্রথম বিজয়। কিন্তু সব গল্পের সমাপ্তি সুখের হয় না।
অক্টোবরের শুরুতে তৃতীয়বারের মতো সীমান্ত অতিক্রম করলেন পল কনেটের স্ত্রী এলেন কনেট ও গর্ডন স্লাভেন। যশোরের শিমুলিয়া মিশনের একটি চার্চে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে গোপনে ওষুধ ও খাবার পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু রাজাকারদের তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানি আর্মি চার্চটি ঘেরাও করে। গ্রেপ্তার হন ২৯ বছর বয়সী মার্কিন তরুণী এলেন কনেট ও তাঁর সঙ্গী। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় অবৈধ অনুপ্রবেশের। এক প্রহসনের বিচারে তাঁদের দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় যশোর কারাগারে।
ভিনদেশের এক তরুণী, যাঁর নিজের নিরাপদ জীবন ছিল, সুখের সংসার ছিল, কেবল বাংলার দুঃখী মানুষের জন্য পচছেন পাকিস্তানি জেলে!
জেলের ভেতরে এলেন দেখলেন আরেক নরক। তাঁর সঙ্গে বন্দী ছিলেন আরও অনেক বাঙালি নারী, যাঁদের ওপর চলত অকথ্য নির্যাতন। এলেনের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ল বিশ্বজুড়ে। পল কনেট লন্ডনে বসে স্ত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতে লাগলেন। কিন্তু এলেন ভেঙে পড়েননি। জেলের ভেতরে থেকেও তিনি বন্দীদের সাহস জোগাতেন।

অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, যশোর মুক্ত হলো। মুক্তিবাহিনীর বীরোচিত আক্রমণে পালিয়ে গেল পাকিস্তানিরা। কারাগারের তালা ভেঙে মুক্ত হলেন এলেন কনেট ও গর্ডন স্লাভেন। তাঁদের স্বাগত জানাল মুক্ত বাতাস আর হাজারো কৃতজ্ঞ বাঙালি।
অপারেশন ওমেগা হয়তো লাখ লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারেনি, তাদের ত্রাণের পরিমাণ হয়তো খুব বিশাল ছিল না। কিন্তু তাঁরা যা করেছিলেন, তা ছিল একটি প্রতীকী চপেটাঘাত। তাঁরা বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন যে পাকিস্তান সরকার ত্রাণকার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে এবং সেখানে চলছে পরিকল্পিত গণহত্যা। তাঁদের এই দুঃসাহসিকতা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশের সপক্ষে জনমত গঠনে বারুদের মতো কাজ করেছিল।
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
১৯ ঘণ্টা আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
২১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
২১ ঘণ্টা আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
২ দিন আগে