স্ট্রিম ডেস্ক

১৯৭১ সাল। ঢাকা সেনানিবাস। ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তর। বিলাসবহুল ড্রয়িংরুমে বসে আছেন এক শ্বেতাঙ্গ ভদ্রলোক। পরনে দামী স্যুট, হাতে জ্বলন্ত সিগার। আর সামনে ধোঁয়া ওঠা কফি। তার ঠিক উল্টো দিকে বসে আছেন পাকিস্তানের কোনো জেনারেল। তাঁরা হাসছেন, যুদ্ধের কৌশল নিয়ে আলাপ করছেন। আর মাঝে মাঝে এই বিদেশি ভদ্রলোকের পরামর্শ চাইছেন। ভদ্রলোকও খুব সাবলীলভাবে জেনারেলদের সঙ্গে কথা বলছেন, হাসছেন।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কোনো বিদেশি বন্ধু বা উচ্চপদস্থ কোনো কূটনীতিক। কিন্তু জেনারেল নিয়াজি যদি ঘুণাক্ষরেও জানতেন যে তাঁর ঠিক নাকের ডগাতেই বসে আছেন মুক্তিবাহিনীর এক দুর্ধর্ষ গেরিলা কমান্ডার, তবে হয়তো কফির কাপ হাত থেকে পড়ে যেত তাঁর।
এই ভদ্রলোকের নাম উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড। বাটা সু-কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি)। দিনের আলোতে তিনি এক কর্পোরেট প্রধান, কিন্তু রাতের আঁধারে হয়ে ওঠেন ‘ওডারল্যান্ড ভাই’—যিনি কাঁধে স্টেনগান ঝুলিয়ে ঢাকার ব্রিজ-কালভার্ট উড়িয়ে দেন।
সিনেমার পর্দায় আমরা জেমস বন্ড বা ইথান হান্টকে দেখি, কিন্তু ওডারল্যান্ড ছিলেন বাস্তবের এক নায়ক, যার জীবনের গল্প হার মানায় যেকোনো স্পাই থ্রিলারকেও।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে জন্ম নেওয়া ওডারল্যান্ড যৌবনে দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৪১ সালে হিটলারের নাৎসি বাহিনী যখন হল্যান্ড দখল করে নেয়, তখন ওডারল্যান্ড ডাচ গেস্টাপো বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে যোগ দিয়েছিলেন প্রতিরোধ যুদ্ধে। নাৎসিদের বর্বরোচিত গণহত্যা তাঁর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে বাটা সু-কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকায় আসেন তিনি। টঙ্গীতে ছিল তাঁর অফিস। বয়স তখন ৫৪ বছর।
একাত্তরের মার্চ মাস। পাকিস্তানি বাহিনী শুরু করল অপারেশন সার্চলাইট। ওডারল্যান্ড নিজের চোখের সামনে দেখলেন তাঁদের পৈশাচিকতা। টঙ্গীর বাটা কারখানার গেটের সামনে দেখলেন নিরীহ শ্রমিক আর সাধারণ মানুষের লাশ। পাকিস্তানি সেনাদের এই বর্বরতা তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল ২৫ বছর আগের স্মৃতিতে। তিনি দেখলেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সেদিনই ৫৪ বছর বয়সী ডাচ-অস্ট্রেলিয়ান ভদ্রলোক সিদ্ধান্ত নিলেন, আর দর্শক হয়ে থাকবেন না। যুদ্ধে নামবেন আবার।
ওডারল্যান্ড জানতেন, সম্মুখ যুদ্ধের চেয়েও বেশি ক্ষতি করতে পারবেন যদি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভেতরে ঢুকতে পারেন। বাটা কোম্পানির এমডি হওয়ার সুবাদে তাঁর একটি বিশেষ সুবিধা ছিল। তিনি ছিলেন প্রভাবশালী বিদেশি নাগরিক। এই প্রভাব খাটিয়ে খুব দ্রুত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুললেন।
জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল নিয়াজি, মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি—সবার কাছেই ওডারল্যান্ড হয়ে উঠলেন এক ‘সম্মানিত অতিথি’। তাঁকে দেওয়া হলো বিশেষ নিরাপত্তা ছাড়পত্র। ফলে যখন-তখন সেনানিবাসে ঢুকতে পারতেন।
ওডারল্যান্ড নিয়মিত সেনানিবাসে যেতেন। জেনারেলদের সঙ্গে পার্টিতে অংশ নিতেন। মদের গ্লাস হাতে নিয়ে শুনে যেতেন তাঁদের গোপন পরিকল্পনার কথা। কোথায় সেনা পাঠানো হবে, কোথায় আক্রমণ হবে, কত গোলাবারুদ মজুদ আছে—সব তথ্য মস্তিষ্কে গেঁথে নিতেন তিনি। পার্টি শেষ করে ফিরে আসতেন নিজ অফিসে। তারপর অত্যন্ত গোপনে সেই সব তথ্য পাচার করে দিতেন দুই নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর হায়দার কিংবা মেজর খালেদ মোশাররফের কাছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন মুক্তিযোদ্ধাদের অ্যামবুশ করার পরিকল্পনা করত, ওডারল্যান্ডের তথ্যের কারণে উল্টো তারাই অ্যামবুশের শিকার হতো।
শুধু গুপ্তচরবৃত্তি করেই ক্ষান্ত হননি ওডারল্যান্ড। টঙ্গীর বাটা জুতো কারখানার ভেতরেই গড়ে তুললেন এক গোপন ক্যাম্প। সেখানে স্থানীয় তরুণদের ও নিজের কারখানার বিশ্বস্ত শ্রমিকদের গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করলেন। দিনের বেলা তিনি টাই পরা এমডি, ফাইলে সই করছেন; আর রাতে হয়ে উঠতেন প্রশিক্ষক। কীভাবে গ্রেনেড ছুড়তে হয়, কীভাবে মাইন পুঁততে হয়—সবকিছু হাতে-কলমে শেখাতেন।
ওডারল্যান্ডের সাহসিকতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যখন তিনি নিজেই অস্ত্র হাতে অপারেশনে নামেন। ঢাকা ও এর আশেপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করা হলো। টার্গেট—টঙ্গী থেকে ভৈরব রেললাইনের ব্রিজ ও কালভার্ট। বয়স ৫৪, কিন্তু শরীরে তারুণ্যের ক্ষিপ্রতা। নিজেই তাঁর গেরিলা দল নিয়ে রাতের অন্ধকারে বের হলেন। সঙ্গে বিস্ফোরক। সফলভাবে ব্রিজ উড়িয়ে দিলেন তিনি।
মুক্তিবাহিনীর ছেলেদের কাছে তিনি ছিলেন ‘ওডারল্যান্ড ভাই’। এক অদ্ভুত দৃশ্য—লুঙ্গি পরা, গামছা বাঁধা গ্রাম্য তরুণদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাদা-পানির মধ্য দিয়ে হামাগুড়ি দিচ্ছেন এক শ্বেতাঙ্গ সাহেব।
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১। বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। ওডারল্যান্ড চাইলে তখনই নিজ দেশে ফিরে যেতে পারতেন। কিন্তু এই দেশকে তিনি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বাটা কোম্পানির এমডি হিসেবে কাজ করে গেলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় ‘বীর প্রতীক’ খেতাব। তিনিই একমাত্র বিদেশি নাগরিক যিনি এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
জীবনের শেষ বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান তিনি। কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকত বাংলাদেশে। তাঁর বাড়ির দেয়ালে টাঙানো থাকত বীর প্রতীক পদকটি। তিনি গর্ব করে নিজের নামের সঙ্গে লিখতেন— ‘ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড, বীর প্রতীক’। ২০০১ সালে এই মহান বীর মৃত্যুবরণ করেন। স্যুট-কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই স্টেনগানধারী ‘গেরিলা এমডি’ উইলিয়াম ওডারল্যান্ড আমাদের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা। একজন বিদেশি হয়েও এই মাটির জন্য যা করেছেন, তা হয়তো অনেক বাংলাদেশি মানুষের পক্ষেও করা সম্ভব ছিল না।

১৯৭১ সাল। ঢাকা সেনানিবাস। ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তর। বিলাসবহুল ড্রয়িংরুমে বসে আছেন এক শ্বেতাঙ্গ ভদ্রলোক। পরনে দামী স্যুট, হাতে জ্বলন্ত সিগার। আর সামনে ধোঁয়া ওঠা কফি। তার ঠিক উল্টো দিকে বসে আছেন পাকিস্তানের কোনো জেনারেল। তাঁরা হাসছেন, যুদ্ধের কৌশল নিয়ে আলাপ করছেন। আর মাঝে মাঝে এই বিদেশি ভদ্রলোকের পরামর্শ চাইছেন। ভদ্রলোকও খুব সাবলীলভাবে জেনারেলদের সঙ্গে কথা বলছেন, হাসছেন।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কোনো বিদেশি বন্ধু বা উচ্চপদস্থ কোনো কূটনীতিক। কিন্তু জেনারেল নিয়াজি যদি ঘুণাক্ষরেও জানতেন যে তাঁর ঠিক নাকের ডগাতেই বসে আছেন মুক্তিবাহিনীর এক দুর্ধর্ষ গেরিলা কমান্ডার, তবে হয়তো কফির কাপ হাত থেকে পড়ে যেত তাঁর।
এই ভদ্রলোকের নাম উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড। বাটা সু-কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি)। দিনের আলোতে তিনি এক কর্পোরেট প্রধান, কিন্তু রাতের আঁধারে হয়ে ওঠেন ‘ওডারল্যান্ড ভাই’—যিনি কাঁধে স্টেনগান ঝুলিয়ে ঢাকার ব্রিজ-কালভার্ট উড়িয়ে দেন।
সিনেমার পর্দায় আমরা জেমস বন্ড বা ইথান হান্টকে দেখি, কিন্তু ওডারল্যান্ড ছিলেন বাস্তবের এক নায়ক, যার জীবনের গল্প হার মানায় যেকোনো স্পাই থ্রিলারকেও।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে জন্ম নেওয়া ওডারল্যান্ড যৌবনে দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৪১ সালে হিটলারের নাৎসি বাহিনী যখন হল্যান্ড দখল করে নেয়, তখন ওডারল্যান্ড ডাচ গেস্টাপো বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে যোগ দিয়েছিলেন প্রতিরোধ যুদ্ধে। নাৎসিদের বর্বরোচিত গণহত্যা তাঁর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে বাটা সু-কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকায় আসেন তিনি। টঙ্গীতে ছিল তাঁর অফিস। বয়স তখন ৫৪ বছর।
একাত্তরের মার্চ মাস। পাকিস্তানি বাহিনী শুরু করল অপারেশন সার্চলাইট। ওডারল্যান্ড নিজের চোখের সামনে দেখলেন তাঁদের পৈশাচিকতা। টঙ্গীর বাটা কারখানার গেটের সামনে দেখলেন নিরীহ শ্রমিক আর সাধারণ মানুষের লাশ। পাকিস্তানি সেনাদের এই বর্বরতা তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল ২৫ বছর আগের স্মৃতিতে। তিনি দেখলেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সেদিনই ৫৪ বছর বয়সী ডাচ-অস্ট্রেলিয়ান ভদ্রলোক সিদ্ধান্ত নিলেন, আর দর্শক হয়ে থাকবেন না। যুদ্ধে নামবেন আবার।
ওডারল্যান্ড জানতেন, সম্মুখ যুদ্ধের চেয়েও বেশি ক্ষতি করতে পারবেন যদি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভেতরে ঢুকতে পারেন। বাটা কোম্পানির এমডি হওয়ার সুবাদে তাঁর একটি বিশেষ সুবিধা ছিল। তিনি ছিলেন প্রভাবশালী বিদেশি নাগরিক। এই প্রভাব খাটিয়ে খুব দ্রুত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুললেন।
জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল নিয়াজি, মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি—সবার কাছেই ওডারল্যান্ড হয়ে উঠলেন এক ‘সম্মানিত অতিথি’। তাঁকে দেওয়া হলো বিশেষ নিরাপত্তা ছাড়পত্র। ফলে যখন-তখন সেনানিবাসে ঢুকতে পারতেন।
ওডারল্যান্ড নিয়মিত সেনানিবাসে যেতেন। জেনারেলদের সঙ্গে পার্টিতে অংশ নিতেন। মদের গ্লাস হাতে নিয়ে শুনে যেতেন তাঁদের গোপন পরিকল্পনার কথা। কোথায় সেনা পাঠানো হবে, কোথায় আক্রমণ হবে, কত গোলাবারুদ মজুদ আছে—সব তথ্য মস্তিষ্কে গেঁথে নিতেন তিনি। পার্টি শেষ করে ফিরে আসতেন নিজ অফিসে। তারপর অত্যন্ত গোপনে সেই সব তথ্য পাচার করে দিতেন দুই নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর হায়দার কিংবা মেজর খালেদ মোশাররফের কাছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন মুক্তিযোদ্ধাদের অ্যামবুশ করার পরিকল্পনা করত, ওডারল্যান্ডের তথ্যের কারণে উল্টো তারাই অ্যামবুশের শিকার হতো।
শুধু গুপ্তচরবৃত্তি করেই ক্ষান্ত হননি ওডারল্যান্ড। টঙ্গীর বাটা জুতো কারখানার ভেতরেই গড়ে তুললেন এক গোপন ক্যাম্প। সেখানে স্থানীয় তরুণদের ও নিজের কারখানার বিশ্বস্ত শ্রমিকদের গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করলেন। দিনের বেলা তিনি টাই পরা এমডি, ফাইলে সই করছেন; আর রাতে হয়ে উঠতেন প্রশিক্ষক। কীভাবে গ্রেনেড ছুড়তে হয়, কীভাবে মাইন পুঁততে হয়—সবকিছু হাতে-কলমে শেখাতেন।
ওডারল্যান্ডের সাহসিকতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যখন তিনি নিজেই অস্ত্র হাতে অপারেশনে নামেন। ঢাকা ও এর আশেপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করা হলো। টার্গেট—টঙ্গী থেকে ভৈরব রেললাইনের ব্রিজ ও কালভার্ট। বয়স ৫৪, কিন্তু শরীরে তারুণ্যের ক্ষিপ্রতা। নিজেই তাঁর গেরিলা দল নিয়ে রাতের অন্ধকারে বের হলেন। সঙ্গে বিস্ফোরক। সফলভাবে ব্রিজ উড়িয়ে দিলেন তিনি।
মুক্তিবাহিনীর ছেলেদের কাছে তিনি ছিলেন ‘ওডারল্যান্ড ভাই’। এক অদ্ভুত দৃশ্য—লুঙ্গি পরা, গামছা বাঁধা গ্রাম্য তরুণদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাদা-পানির মধ্য দিয়ে হামাগুড়ি দিচ্ছেন এক শ্বেতাঙ্গ সাহেব।
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১। বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। ওডারল্যান্ড চাইলে তখনই নিজ দেশে ফিরে যেতে পারতেন। কিন্তু এই দেশকে তিনি ভালোবেসে ফেলেছিলেন। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বাটা কোম্পানির এমডি হিসেবে কাজ করে গেলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় ‘বীর প্রতীক’ খেতাব। তিনিই একমাত্র বিদেশি নাগরিক যিনি এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
জীবনের শেষ বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান তিনি। কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকত বাংলাদেশে। তাঁর বাড়ির দেয়ালে টাঙানো থাকত বীর প্রতীক পদকটি। তিনি গর্ব করে নিজের নামের সঙ্গে লিখতেন— ‘ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড, বীর প্রতীক’। ২০০১ সালে এই মহান বীর মৃত্যুবরণ করেন। স্যুট-কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই স্টেনগানধারী ‘গেরিলা এমডি’ উইলিয়াম ওডারল্যান্ড আমাদের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা। একজন বিদেশি হয়েও এই মাটির জন্য যা করেছেন, তা হয়তো অনেক বাংলাদেশি মানুষের পক্ষেও করা সম্ভব ছিল না।
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
১ দিন আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
১ দিন আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
২ দিন আগে