জয় শাহরিয়ার
-559804.jpeg)
আইয়ুব বাচ্চু। নামটা শুনলেই আপামর সংগীতপ্রেমী বাঙালির চোখে ভেসে ওঠে একজন রকস্টারের ছবি। ১৯৬০ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম নেন বাংলাদেশের এই ক্ষণজন্মা সংগীত ব্যক্তিত্ব। যেকোনো গানপাগল মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আইয়ুব বাচ্চুকে কীভাবে চেনেন? সবার উত্তর হবে, গান দিয়ে চিনি।
তারপরের প্রশ্ন যদি হয়, সংগীতের কোন শাখায় আইয়ুব বাচ্চু আপনার বেশি প্রিয়? অথবা গানের কোন কোন শাখায় তিনি অনন্য? সবাই উত্তর দেবেন গায়ক, সুরকার, সংগীত আয়োজক অথবা গিটারিস্ট হিসেবে। কয়জন বলবেন যে আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একজন অনন্য গীতিকবি?
হ্যাঁ, গায়ক, সুরকার, সংগীত আয়োজক ও গিটারিস্ট হিসেবে তিনি অনবদ্য ছিলেন। কিন্তু গীতিকবি হিসেবে কি তিনি কোনো অংশে কম ছিলেন? আমি বলব, না। কোনোভাবেই না। তাঁর গীতিকবিতার দিকটিও তাঁর সংগীতসত্তার অন্য পরিচয়গুলোর মতোই শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র।
আইয়ুব বাচ্চুর লেখা গানের সংখ্যা এক শ’র বেশি। ব্যান্ড ও সোলো ক্যারিয়ারজুড়ে অসংখ্য গান লিখেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু অসম্ভব জনপ্রিয় গানও। কিন্তু গায়ক, সুরকার ও গিটারিস্ট হিসেবে তাঁর পরিচয় এতটাই বেশি আলোচিত হয়েছে যে, গীতিকবি আইয়ুব বাচ্চু সবসময়ই কিছুটা আড়ালে থেকে গেছেন।
গীতিকবি হিসেবে আইয়ুব বাচ্চু কখনোই পাননি তাঁর যোগ্য সম্মান। গত চার দশকের বাংলা রক গানে সবচেয়ে বেশি মানসম্মত ও পাশাপাশি জনপ্রিয় লিরিকের রচয়িতাদের তালিকা করলে আইয়ুব বাচ্চুর নাম ওপরের দিকেই থাকবে। যারা শুধুমাত্র গীতিকবি হিসেবে আমাদের সংগীতাঙ্গনে জনপ্রিয় গত চার দশকে, তাঁদের কারও চাইতে জনপ্রিয় গানের সংখ্যায়ও পিছিয়ে নেই তিনি।
বাংলা রক সংগীতের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানটি লিখেছেন আইয়ুব বাচ্চু। গানের শিরোনাম ‘চলো বদলে যাই’।
‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে
সেই আমি কেন তোমাকে দু:খ দিলেম
কেমন করে এত অচেনা হলে তুমি
কীভাবে এত বদলে গেছি এই আমি...’
প্রিয় গান, চেনা গান, হিট গান নানা তকমায় এই গান আমাদের জীবনের সঙ্গী চার দশক ধরে। কিন্তু শুধু লিরিক হিসেবে যদি গানগুলোকে একটু আলাদা করে দেখি, তাহলে কত দারুণ অভিব্যক্তি, কত বিষাদমাখা স্বীকারোক্তি যে এসব গানের কথায় ছড়িয়ে আছে, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি?
কিংবা এলআরবির আরেক জনপ্রিয় গান ‘ফেরারি মন’। এই গানের রচয়িতার নামও আইয়ুব বাচ্চু।
‘ফেরারি এই মনটা আমার
মানে না কোনো বাধা
তোমাকে পাবারই আশায়
ফিরে আসে বারেবার...’
তারও আগে ‘ময়না’ অ্যালবামে বাচ্চু ভাইয়ের লেখা গানের মধ্যে ছিল,
‘ও বন্ধু তোমার যখনই মনে পড়ে যায়
আমার ইচ্ছে করে প্রাণ ভরে তোমায় দেখি...’
কী অদ্ভুত সুন্দর সরল মায়াভরা লিরিক। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ‘সহজ কথা যায় না বলা সহজে...’। এই কঠিন কাজটিই সহজে করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। তবে জনপ্রিয় গানের লিরিক দেখে অনেকের মনে হতে পারে যে, সহজ সরল ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশই হয়তো পারতেন তিনি শুধু। কিন্তু না।
এলআরবির প্রথম ডাবল অ্যালবামেই দারুণ সব নিরীক্ষামূলক গান লিখেছেন বাচ্চু ভাই। ১৯৯২ সালে তিনি লিখেছেন ‘মাধবী’ ও ‘হকার’-এর মতো গান। জীবন ও পেশার নানা বাস্তবতা নিয়ে লেখার সাহস এবং প্রয়োজন তিনি তখনই অনুভব করেছিলেন।
১৯৯২ সালে বাচ্চু ভাইয়ের আগে বাংলাদেশের কেউ পতিতাদের নিয়ে গান লিখেছেন কি না, তা ভেবে দেখার মতো বিষয়। কিংবা ‘হকার’-এমন পেশা কখনো কারও গানের বিষয় হয়েছে কি না, সেটিও প্রশ্ন। আমার জানা মতে, এমন উদাহরণ খুব একটা নেই।
এই দারুণ সব কাজের জন্য গীতিকবি হিসেবে একজন আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে বিস্তর গবেষণা ও কাজের প্রয়োজন ও সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি। আর গীতিকবি হিসেবে আমাদের গানের জগতে তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা আর মনোযোগের জন্য এখনো দেরি হয়ে গেছে বলে আমি মনে করি না।
‘তুমি যেন কেমন হয়ে গেছ
কিছুটা অপরিচিত!’
এমন দারুণ চেনা, অথচ অনেক সময় অব্যক্ত থেকে যাওয়া অনুভূতির বাঙ্ময় প্রকাশ করেছেন গীতিকবি আইয়ুব বাচ্চু। নিজের বেশ কিছু অ্যালবামের শিরোনাম গানও লিখেছেন তিনি। ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘প্রেম প্রেমের মতো’, ‘দুটি মন’ও ‘পথের গান’—এসব গান বাচ্চু ভাই নিজেই লিখেছেন।
গীতিকবিতায় বিষয়বৈচিত্র্যের উদাহরণ হিসেবে আরেকটি গানের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। আধ্যাত্মিকতার ছায়ায় লেখা দারুণ জনপ্রিয় গান ‘উড়াল দেবো আকাশে’ লিখেছেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে’—এমন একটি লাইন জাত গীতিকবি ছাড়া লেখা সম্ভব? আমার তো মনে হয় না।
আজ বাচ্চু ভাইয়ের জন্মদিন। বেঁচে থাকলে তাঁর বয়স হতো ৬৬ বছর। তিনি থাকলে তাঁকে ঘিরে তাঁর জীবন ও গান উদযাপন হয়তো অন্যরকম হতো। তবে তিনি স্বশরীরে না থাকলেও তাঁর সৃষ্টি রয়ে গেছে তাঁকে নিয়ে ভাবার জন্য, চর্চা করার জন্য।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ আগে করেছি, পরেও হয়তো করা যাবে। অনেকেই বাচ্চু ভাইয়ের জন্মদিন বা মৃত্যুদিনে তা করেন। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, একজন আইয়ুব বাচ্চু যেহেতু বাংলা গানের একটি প্রতিষ্ঠান, তাই সংগীতজগতে আমরা যারা আছি, তাঁদের দায়িত্ব তাঁর কাজ নিয়ে গভীরভাবে ভাবা এবং কাজ করা। তাঁর গান নিয়ে গবেষণা ও চর্চার প্রয়োজন অনেক বেশি। এগুলো হলে ঋদ্ধ হবে আমাদের সংগীত। পরবর্তী প্রজন্ম এগিয়ে যাবে গানে, আমাদের পূরণ না হওয়া স্বপ্নগুলো ছুঁয়ে দেখার পথে।
বাচ্চু ভাইয়ের জন্মদিনে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাই। আজকের এই লেখার মাধ্যমে একজন আপাদমস্তক শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর গীতিকবি সত্তার প্রতি আরও মনোযোগ ও স্বীকৃতির প্রয়োজনের কথাই মনে করিয়ে দিতে চাই। বাংলাদেশের গীতিকবিতার ইতিহাস লিখতে গেলে আইয়ুব বাচ্চুর নাম আলাদা করে লিখতেই হবে। কারণ, আইয়ুব বাচ্চু বাংলা গানের এক অনন্য গীতিকবি।
লেখক: সংগীতশিল্পী; প্রকাশক
-559804.jpeg)
আইয়ুব বাচ্চু। নামটা শুনলেই আপামর সংগীতপ্রেমী বাঙালির চোখে ভেসে ওঠে একজন রকস্টারের ছবি। ১৯৬০ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম নেন বাংলাদেশের এই ক্ষণজন্মা সংগীত ব্যক্তিত্ব। যেকোনো গানপাগল মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আইয়ুব বাচ্চুকে কীভাবে চেনেন? সবার উত্তর হবে, গান দিয়ে চিনি।
তারপরের প্রশ্ন যদি হয়, সংগীতের কোন শাখায় আইয়ুব বাচ্চু আপনার বেশি প্রিয়? অথবা গানের কোন কোন শাখায় তিনি অনন্য? সবাই উত্তর দেবেন গায়ক, সুরকার, সংগীত আয়োজক অথবা গিটারিস্ট হিসেবে। কয়জন বলবেন যে আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একজন অনন্য গীতিকবি?
হ্যাঁ, গায়ক, সুরকার, সংগীত আয়োজক ও গিটারিস্ট হিসেবে তিনি অনবদ্য ছিলেন। কিন্তু গীতিকবি হিসেবে কি তিনি কোনো অংশে কম ছিলেন? আমি বলব, না। কোনোভাবেই না। তাঁর গীতিকবিতার দিকটিও তাঁর সংগীতসত্তার অন্য পরিচয়গুলোর মতোই শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র।
আইয়ুব বাচ্চুর লেখা গানের সংখ্যা এক শ’র বেশি। ব্যান্ড ও সোলো ক্যারিয়ারজুড়ে অসংখ্য গান লিখেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু অসম্ভব জনপ্রিয় গানও। কিন্তু গায়ক, সুরকার ও গিটারিস্ট হিসেবে তাঁর পরিচয় এতটাই বেশি আলোচিত হয়েছে যে, গীতিকবি আইয়ুব বাচ্চু সবসময়ই কিছুটা আড়ালে থেকে গেছেন।
গীতিকবি হিসেবে আইয়ুব বাচ্চু কখনোই পাননি তাঁর যোগ্য সম্মান। গত চার দশকের বাংলা রক গানে সবচেয়ে বেশি মানসম্মত ও পাশাপাশি জনপ্রিয় লিরিকের রচয়িতাদের তালিকা করলে আইয়ুব বাচ্চুর নাম ওপরের দিকেই থাকবে। যারা শুধুমাত্র গীতিকবি হিসেবে আমাদের সংগীতাঙ্গনে জনপ্রিয় গত চার দশকে, তাঁদের কারও চাইতে জনপ্রিয় গানের সংখ্যায়ও পিছিয়ে নেই তিনি।
বাংলা রক সংগীতের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানটি লিখেছেন আইয়ুব বাচ্চু। গানের শিরোনাম ‘চলো বদলে যাই’।
‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে
সেই আমি কেন তোমাকে দু:খ দিলেম
কেমন করে এত অচেনা হলে তুমি
কীভাবে এত বদলে গেছি এই আমি...’
প্রিয় গান, চেনা গান, হিট গান নানা তকমায় এই গান আমাদের জীবনের সঙ্গী চার দশক ধরে। কিন্তু শুধু লিরিক হিসেবে যদি গানগুলোকে একটু আলাদা করে দেখি, তাহলে কত দারুণ অভিব্যক্তি, কত বিষাদমাখা স্বীকারোক্তি যে এসব গানের কথায় ছড়িয়ে আছে, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি?
কিংবা এলআরবির আরেক জনপ্রিয় গান ‘ফেরারি মন’। এই গানের রচয়িতার নামও আইয়ুব বাচ্চু।
‘ফেরারি এই মনটা আমার
মানে না কোনো বাধা
তোমাকে পাবারই আশায়
ফিরে আসে বারেবার...’
তারও আগে ‘ময়না’ অ্যালবামে বাচ্চু ভাইয়ের লেখা গানের মধ্যে ছিল,
‘ও বন্ধু তোমার যখনই মনে পড়ে যায়
আমার ইচ্ছে করে প্রাণ ভরে তোমায় দেখি...’
কী অদ্ভুত সুন্দর সরল মায়াভরা লিরিক। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ‘সহজ কথা যায় না বলা সহজে...’। এই কঠিন কাজটিই সহজে করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। তবে জনপ্রিয় গানের লিরিক দেখে অনেকের মনে হতে পারে যে, সহজ সরল ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশই হয়তো পারতেন তিনি শুধু। কিন্তু না।
এলআরবির প্রথম ডাবল অ্যালবামেই দারুণ সব নিরীক্ষামূলক গান লিখেছেন বাচ্চু ভাই। ১৯৯২ সালে তিনি লিখেছেন ‘মাধবী’ ও ‘হকার’-এর মতো গান। জীবন ও পেশার নানা বাস্তবতা নিয়ে লেখার সাহস এবং প্রয়োজন তিনি তখনই অনুভব করেছিলেন।
১৯৯২ সালে বাচ্চু ভাইয়ের আগে বাংলাদেশের কেউ পতিতাদের নিয়ে গান লিখেছেন কি না, তা ভেবে দেখার মতো বিষয়। কিংবা ‘হকার’-এমন পেশা কখনো কারও গানের বিষয় হয়েছে কি না, সেটিও প্রশ্ন। আমার জানা মতে, এমন উদাহরণ খুব একটা নেই।
এই দারুণ সব কাজের জন্য গীতিকবি হিসেবে একজন আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে বিস্তর গবেষণা ও কাজের প্রয়োজন ও সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি। আর গীতিকবি হিসেবে আমাদের গানের জগতে তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা আর মনোযোগের জন্য এখনো দেরি হয়ে গেছে বলে আমি মনে করি না।
‘তুমি যেন কেমন হয়ে গেছ
কিছুটা অপরিচিত!’
এমন দারুণ চেনা, অথচ অনেক সময় অব্যক্ত থেকে যাওয়া অনুভূতির বাঙ্ময় প্রকাশ করেছেন গীতিকবি আইয়ুব বাচ্চু। নিজের বেশ কিছু অ্যালবামের শিরোনাম গানও লিখেছেন তিনি। ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘প্রেম প্রেমের মতো’, ‘দুটি মন’ও ‘পথের গান’—এসব গান বাচ্চু ভাই নিজেই লিখেছেন।
গীতিকবিতায় বিষয়বৈচিত্র্যের উদাহরণ হিসেবে আরেকটি গানের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। আধ্যাত্মিকতার ছায়ায় লেখা দারুণ জনপ্রিয় গান ‘উড়াল দেবো আকাশে’ লিখেছেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে’—এমন একটি লাইন জাত গীতিকবি ছাড়া লেখা সম্ভব? আমার তো মনে হয় না।
আজ বাচ্চু ভাইয়ের জন্মদিন। বেঁচে থাকলে তাঁর বয়স হতো ৬৬ বছর। তিনি থাকলে তাঁকে ঘিরে তাঁর জীবন ও গান উদযাপন হয়তো অন্যরকম হতো। তবে তিনি স্বশরীরে না থাকলেও তাঁর সৃষ্টি রয়ে গেছে তাঁকে নিয়ে ভাবার জন্য, চর্চা করার জন্য।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ আগে করেছি, পরেও হয়তো করা যাবে। অনেকেই বাচ্চু ভাইয়ের জন্মদিন বা মৃত্যুদিনে তা করেন। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, একজন আইয়ুব বাচ্চু যেহেতু বাংলা গানের একটি প্রতিষ্ঠান, তাই সংগীতজগতে আমরা যারা আছি, তাঁদের দায়িত্ব তাঁর কাজ নিয়ে গভীরভাবে ভাবা এবং কাজ করা। তাঁর গান নিয়ে গবেষণা ও চর্চার প্রয়োজন অনেক বেশি। এগুলো হলে ঋদ্ধ হবে আমাদের সংগীত। পরবর্তী প্রজন্ম এগিয়ে যাবে গানে, আমাদের পূরণ না হওয়া স্বপ্নগুলো ছুঁয়ে দেখার পথে।
বাচ্চু ভাইয়ের জন্মদিনে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাই। আজকের এই লেখার মাধ্যমে একজন আপাদমস্তক শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর গীতিকবি সত্তার প্রতি আরও মনোযোগ ও স্বীকৃতির প্রয়োজনের কথাই মনে করিয়ে দিতে চাই। বাংলাদেশের গীতিকবিতার ইতিহাস লিখতে গেলে আইয়ুব বাচ্চুর নাম আলাদা করে লিখতেই হবে। কারণ, আইয়ুব বাচ্চু বাংলা গানের এক অনন্য গীতিকবি।
লেখক: সংগীতশিল্পী; প্রকাশক
.png)

গান গেয়ে ভেবেছিলাম অনেক কিছু করে ফেলব। কিন্তু সরকারি টিভির এক দালালকে উৎকোচ দিতে হবে বলে আমার গান প্রচারিত হলো না। সে সময় এর খুব চল ছিল। হতাশ হয়ে একসময় গান গাওয়া প্রায় বন্ধই করে দিলাম। তবে সারগামে আড্ডা চলতে থাকল। তখন আশিকুজ্জামান টুলু ভাই, বাচ্চু ভাই, জেমস ভাই আর ফাল্টি ভাইয়ের সঙ্গে আমার বিশেষ ঘন
৩ ঘণ্টা আগে-0f0520.jpeg)
গীতিকারের সঙ্গে সুরকারের একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছরের পর বছর গান তৈরির সেই অভিন্ন যাত্রায়, সৃষ্টির খোঁজে, সময়ের পরিভ্রমণে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সেই যাত্রাপথে সবকিছু সাফল্যের মোড়কে আসে না। আমার কাছে তাই আইয়ুব বাচ্চুর প্রস্থান শুধু একজন রক লিজেন্ড কিংবা বাংলাদেশের রকের মহানায়কের প্রস্থান নয়
৮ ঘণ্টা আগে
রেলে ‘হরতাল’ ‘হরতাল’ একটা রব উঠেছে! সে খবর ইঞ্জিন, লাইন, ঘণ্টা, সিগন্যাল এদের কাছেও পৌঁছে গেছে। তাই এরা একটা সভা ডাকল। মস্ত সভা। পূর্ণিমার দিন রাত দুটোয় অস্পষ্ট মেঘে ঢাকা চাঁদের আলোর নীচে সবাই জড়ো হল। হাঁপাতে হাঁপাতে বিশালবপু সভাপতি ইঞ্জিন মশাই এলেন। তাঁর লেট হয়ে গেছে।
১৫ আগস্ট ২০২৬
কম করে হলেও এক হাজার বছর ধরে কবিতা লিখছে বাংলাভাষী মানুষ; এ অঞ্চলে জন্মেছেন অগণিত ভাবমূর্তিসম্পন্ন কবি। উপাধিপ্রবণ বাঙালি কবিসমাজ তৈরি করে নিয়েছে নানা ধরনের উপাধি—‘কবিকঙ্কন’, ‘বিশ্বকবি’, ‘বিদ্রোহী কবি’, ‘পল্লীকবি’, ‘রূপসী বাংলার কবি’। তবে ‘কিশোর-কবি’ অভিধা পেয়েছেন মূলত একজনই—সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬