‘মহাশ্মশান’অ্যালবাম নিয়ে শ্বেত পান্ডুরাঙ্গা ব্লুমবার্গের লেখা
গত ৮ জানুয়ারি নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করেছে ব্যান্ডদল ‘সোনার বাংলা সার্কাস’। ইতিমধ্যে ‘মহাশ্মশান’ নামের এই ডাবল অ্যালবামটি শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। অ্যালবাম তৈরির গল্প নিয়ে লিখেছেন এই ব্যান্ডের গিটারিস্ট, গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডজয়ী মিউজিশিয়ান শ্বেত পান্ডুরাঙ্গা ব্লুমবার্গ। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন গৌতম কে শুভ।
শ্বেত পান্ডুরাঙ্গা ব্লুমবার্গ

‘মহাশ্মশান’ অ্যালবামের কাজ শুরু করার সময় আমরা প্রকৃত অর্থে ‘ফাংশনাল’ ব্যান্ড ছিলাম না। কারণ, ব্যান্ডের সবাই একসঙ্গে বসে ‘প্রপার ওয়েতে’ নতুন গান বানানোর যে প্রক্রিয়া, সেটা আমরা ব্যান্ড হিসেবে আগে করিনি।
তখন আমাদের বেস গিটারিস্ট শাকিল হক, ভোকালিস্ট রিপন আর আমি কয়েক মাস ধরে গানের প্রাথমিক কথা ও সুর দিয়ে ব্যাসিক কম্পোজিশন নিয়ে পড়ে ছিলাম। কিন্তু কিবোর্ডিস্ট সাদ চৌধুরী যখন আমাদের সঙ্গে কাজে লেগে গেল, তখন সাউন্ডের অনেক কিছু বদলে যেতে শুরু করল। নতুন সাউন্ড বের হতে লাগল। এসবে আমরা খুব এক্সাইটেড ছিলাম।
অ্যালবামের পুরো কাজটা ধীরে ধীরে বদলাতে বদলাতে এগিয়েছে। একটা ভাবনা থেকে আরেকটা ভাবনার জন্ম হয়েছে। আমরা জানতাম, বাংলা লোকজ ফাঙ্ক আর গ্রুভ আমাদের ভেতরে আনতেই হবে। আমাদের ব্যান্ডের ডিএনএ-তে এটা খুবই দরকার।
এরপর ঢোলবাদক নয়ন আর পারকাশনে সোহেল খান আমাদের সঙ্গে ‘গেস্ট আর্টিস্ট’ হিসেবে অ্যালবামের জন্য বাজাতে শুরু করল। তাঁরা খুব পেশাদার মিউজিশিয়ান। এই দুইজন আমাদের গানে তাঁদের নিজেদের আলাদা গ্রুভ ঢেলে দিল। বাংলাদেশের ফোক মিউজিশিয়ানরা সব দিক দিয়েই বিশ্বমানের। অনেক সময় স্টুডিওতে এক বা দুই টেকেই তাঁরা গানের কাজ কমপ্লিট করে ফেলতে পারেন।

মহাশ্মশান অ্যালবামের রিদম সেকশনে নয়ন আর সোহেল নিজেদের আলাদা সাউন্ড নিয়ে এসেছে। আমার জন্য এটা খুব জরুরি ছিল। বাংলা লোকজ ফাঙ্ক না থাকলে গানগুলো শুধু বিদেশি হওয়ার চেষ্টা করা প্রথাগত ব্যান্ডের মতো শোনায়, আর সেটা আমি চাই না।
এরপর আমরা ভায়োলিনবাদক ঝিমন কিয়ার্সপেলকে পেলাম। শুরুতে ভাবনা ছিল একটা গানে ভায়োলিন বাজবে। কিন্তু তাঁর বাজানো এত সুন্দর, আর সেই সাউন্ড এত আকর্ষণীয় যে আমরা আরো বেশ কয়েকটা গানে ভায়োলিন ব্যবহার করলাম। তারপর সাদ চৌধুরী গানের সব অর্কেস্ট্রাল অংশের অ্যারেঞ্জমেন্ট করল। অসাধারণ ব্যাপার! আমাদের সাউন্ড ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছিল, আর বদলাচ্ছিল।
একসময় আমরা ডেকে নিলাম আমার সবচেয়ে পুরোনো ও প্রিয় বন্ধু আমেরিকান ড্রামার বিল রে-কে। আমি আর বিল বহু বছর আইক টার্নারের ব্যান্ডে একসঙ্গে বাজিয়েছি। ২০০৭ সালে আইক টার্নারের করা একটি অ্যালবামের জন্য আমরা একসঙ্গে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসও পেয়েছিলাম। এতদিন ধরে আমি আর বিল ‘ক্রিয়েটিভ সৌল ব্রাদার’। তাঁকে এই অ্যালবামে পাওয়া সত্যিই আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো ছিল। এই অ্যালবামের জন্য সবাই মন থেকে বাজিয়েছে।
আরেকজনের কথা বলতে হয়, তাঁর নাম দেওয়ান এনামুল হক রাজু। আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসার পর থেকেই সে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সে গানগুলোর মিক্সিং দারুণভাবে করেছে। সোনার বাংলা সার্কাস হওয়ার আগে থেকেই সে আমাদের সঙ্গে ছিল। যখন শুধু ‘স্পিকইজি’ ছিল, তখন সাদ, রিপন, রাজু আর আমি সারা রাত জ্যাম করতাম। সেইসব সময়ই আমাদের সাহস দিয়েছিল লাইভ ইম্প্রোভাইজেশন নিয়ে কাজ করতে, যেমন অ্যালবামে ‘অন্ধ বুড়োর ব্লুজ’-এর মতো গান। আমরা সবাই সৌল ব্রাদার। আর আমরা আছি শুধুই মিউজিকের জন্য। এটাই আমাদের একমাত্র এজেন্ডা। আর আমরা এটা চালিয়েও যাব।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা অনেক কিছু শিখেছি। অ্যালবামের বাকি কাজ শেষে আমরা গেলাম মিউজিশিয়ান বুনোর কাছে, ফাইনাল মাস্টারিংয়ের জন্য। বুনো আর তাঁর পরিবার আমার খুব আপন। মজা করে আমি বলি, সে আমার সন্তানের বাবা। আমি নিজেকে তাঁদের পরিবারেরই একজন মনে করি।
জীবন আসলে সবসময় বদলাচ্ছে। আর মিউজিশিয়ান হিসেবে আমরা সোনার বাংলা সার্কাসের সবাই প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠছি। সামনে আরো অনেক কিছু বানাব আমরা, এই কথা আমি আপনাদেরকে দিচ্ছি।

‘মহাশ্মশান’ অ্যালবামের কাজ শুরু করার সময় আমরা প্রকৃত অর্থে ‘ফাংশনাল’ ব্যান্ড ছিলাম না। কারণ, ব্যান্ডের সবাই একসঙ্গে বসে ‘প্রপার ওয়েতে’ নতুন গান বানানোর যে প্রক্রিয়া, সেটা আমরা ব্যান্ড হিসেবে আগে করিনি।
তখন আমাদের বেস গিটারিস্ট শাকিল হক, ভোকালিস্ট রিপন আর আমি কয়েক মাস ধরে গানের প্রাথমিক কথা ও সুর দিয়ে ব্যাসিক কম্পোজিশন নিয়ে পড়ে ছিলাম। কিন্তু কিবোর্ডিস্ট সাদ চৌধুরী যখন আমাদের সঙ্গে কাজে লেগে গেল, তখন সাউন্ডের অনেক কিছু বদলে যেতে শুরু করল। নতুন সাউন্ড বের হতে লাগল। এসবে আমরা খুব এক্সাইটেড ছিলাম।
অ্যালবামের পুরো কাজটা ধীরে ধীরে বদলাতে বদলাতে এগিয়েছে। একটা ভাবনা থেকে আরেকটা ভাবনার জন্ম হয়েছে। আমরা জানতাম, বাংলা লোকজ ফাঙ্ক আর গ্রুভ আমাদের ভেতরে আনতেই হবে। আমাদের ব্যান্ডের ডিএনএ-তে এটা খুবই দরকার।
এরপর ঢোলবাদক নয়ন আর পারকাশনে সোহেল খান আমাদের সঙ্গে ‘গেস্ট আর্টিস্ট’ হিসেবে অ্যালবামের জন্য বাজাতে শুরু করল। তাঁরা খুব পেশাদার মিউজিশিয়ান। এই দুইজন আমাদের গানে তাঁদের নিজেদের আলাদা গ্রুভ ঢেলে দিল। বাংলাদেশের ফোক মিউজিশিয়ানরা সব দিক দিয়েই বিশ্বমানের। অনেক সময় স্টুডিওতে এক বা দুই টেকেই তাঁরা গানের কাজ কমপ্লিট করে ফেলতে পারেন।

মহাশ্মশান অ্যালবামের রিদম সেকশনে নয়ন আর সোহেল নিজেদের আলাদা সাউন্ড নিয়ে এসেছে। আমার জন্য এটা খুব জরুরি ছিল। বাংলা লোকজ ফাঙ্ক না থাকলে গানগুলো শুধু বিদেশি হওয়ার চেষ্টা করা প্রথাগত ব্যান্ডের মতো শোনায়, আর সেটা আমি চাই না।
এরপর আমরা ভায়োলিনবাদক ঝিমন কিয়ার্সপেলকে পেলাম। শুরুতে ভাবনা ছিল একটা গানে ভায়োলিন বাজবে। কিন্তু তাঁর বাজানো এত সুন্দর, আর সেই সাউন্ড এত আকর্ষণীয় যে আমরা আরো বেশ কয়েকটা গানে ভায়োলিন ব্যবহার করলাম। তারপর সাদ চৌধুরী গানের সব অর্কেস্ট্রাল অংশের অ্যারেঞ্জমেন্ট করল। অসাধারণ ব্যাপার! আমাদের সাউন্ড ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছিল, আর বদলাচ্ছিল।
একসময় আমরা ডেকে নিলাম আমার সবচেয়ে পুরোনো ও প্রিয় বন্ধু আমেরিকান ড্রামার বিল রে-কে। আমি আর বিল বহু বছর আইক টার্নারের ব্যান্ডে একসঙ্গে বাজিয়েছি। ২০০৭ সালে আইক টার্নারের করা একটি অ্যালবামের জন্য আমরা একসঙ্গে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসও পেয়েছিলাম। এতদিন ধরে আমি আর বিল ‘ক্রিয়েটিভ সৌল ব্রাদার’। তাঁকে এই অ্যালবামে পাওয়া সত্যিই আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো ছিল। এই অ্যালবামের জন্য সবাই মন থেকে বাজিয়েছে।
আরেকজনের কথা বলতে হয়, তাঁর নাম দেওয়ান এনামুল হক রাজু। আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসার পর থেকেই সে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সে গানগুলোর মিক্সিং দারুণভাবে করেছে। সোনার বাংলা সার্কাস হওয়ার আগে থেকেই সে আমাদের সঙ্গে ছিল। যখন শুধু ‘স্পিকইজি’ ছিল, তখন সাদ, রিপন, রাজু আর আমি সারা রাত জ্যাম করতাম। সেইসব সময়ই আমাদের সাহস দিয়েছিল লাইভ ইম্প্রোভাইজেশন নিয়ে কাজ করতে, যেমন অ্যালবামে ‘অন্ধ বুড়োর ব্লুজ’-এর মতো গান। আমরা সবাই সৌল ব্রাদার। আর আমরা আছি শুধুই মিউজিকের জন্য। এটাই আমাদের একমাত্র এজেন্ডা। আর আমরা এটা চালিয়েও যাব।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা অনেক কিছু শিখেছি। অ্যালবামের বাকি কাজ শেষে আমরা গেলাম মিউজিশিয়ান বুনোর কাছে, ফাইনাল মাস্টারিংয়ের জন্য। বুনো আর তাঁর পরিবার আমার খুব আপন। মজা করে আমি বলি, সে আমার সন্তানের বাবা। আমি নিজেকে তাঁদের পরিবারেরই একজন মনে করি।
জীবন আসলে সবসময় বদলাচ্ছে। আর মিউজিশিয়ান হিসেবে আমরা সোনার বাংলা সার্কাসের সবাই প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠছি। সামনে আরো অনেক কিছু বানাব আমরা, এই কথা আমি আপনাদেরকে দিচ্ছি।
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
৯ ঘণ্টা আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
১০ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
১১ ঘণ্টা আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
১ দিন আগে