একাত্তর নাকি চব্বিশইতিহাসকে বাইনারি করার বিপজ্জনক শর্টকাটসম্প্রতি কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া বক্তব্যে গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে জন্ম দিয়েছে একাত্তর। এটা বিতর্কের ঊর্ধ্বে। একইসঙ্গে একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। দুইটাই স্বতন্ত্র।’
দায় ও দরদের সমাজচব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ছিল এক দানবীয় শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। যেটি মেগা প্রকল্প দিয়ে বছরের পর বছর উন্নয়নের ফাঁকা বুলিকে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। এই ভিত্তি তৈরি করতে গিয়ে, ভেতরে ভেতরে সমাজ থেকে, সাধারণ নাগরিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল শাসক।
ইনক্লুসিভ বাংলাদেশবহুত্ববাদ ও বৈচিত্র্যের ঐক্য থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের সন্ধানেইতিহাসের চাকা যখন প্রবল বেগে ঘোরে, তখন কিছু পুরোনো শব্দ নতুন অর্থ নিয়ে আবির্ভূত হয়। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের সেই রক্তঝরা দিনগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যাকরণই পাল্টে দিয়েছে।
ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট‘বাংলাদেশ ২.০’-এ ‘জুলিয়াস সিজারের’ ক্যাসিয়াস১৫৯৯ সাল। বিখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়র লিখলেন রোমের বিখ্যাত বীর জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নাটক ‘জুলিয়াস সিজার’। তৎকালীন রোমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে তুলে ধরতে মূলত রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক এই নাটকটির বিশ্বসাহিত্যে অবদান রয়েছে।
ন্যারেটিভবয়ানের বিবর্তন: বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক কুরুক্ষেত্র২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল সরকারের পতন বা শেখ হাসিনার পলায়নের দিন হিসেবে চিহ্নিত নয়। দিনটি দীর্ঘস্থায়ী ‘একক বয়ান’ বা ‘মনোলিথিক ন্যারেটিভ’-এর ফাটল ও পতনের দিন।
জনতার মালিকানা পুনরুদ্ধার ও গণঅভ্যুত্থানজুলাই অভ্যুত্থান কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হলেও এর গর্ভে সুপ্ত ছিল রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে নতুন করে গড়ার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা। রাজনৈতিক দর্শনের পরিভাষায় একে বলা যায় ‘কনস্টিটিউট পাওয়ার’ বা গঠনমূলক ক্ষমতার জাগরণ।