বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কখনো ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করেনি, তবে দলটি সবসময় ইসলামী ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর.সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ইনিশিয়েটিভ ফর পলিসি অ্যান্ড পলিটিক্স (আইপিপি) আয়োজিত ‘তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা’ শীর্ষক পলিসি ডায়লগে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযুক্ত করা থেকে শুরু করে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা স্থাপন—সবই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান এখন দেশের সম্মানিত আলেম, খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।’
তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পে-পাল নিয়ে আসা, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা এবং অষ্টম শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সুনির্দিষ্ট ভাবনা রয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের। এছাড়া গ্রিন টেকনোলজির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং একাডেমিয়ার সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী তারেক রহমানকে কেবল রাজনীতিবিদ হিসেবে না দেখে একজন ‘স্টেটসম্যান’ বা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, একজন রাজনীতিবিদ ভাবেন পরবর্তী নির্বাচনের কথা, আর একজন রাষ্ট্রনায়ক ভাবেন পরবর্তী প্রজন্মের কথা। তারেক রহমানকে শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করলেই হবে না, পরবর্তী প্রজন্ম কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে ভাবতে হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একাডেমিয়া বা তাত্ত্বিক জ্ঞানচর্চা তুলনামূলকভাবে কম। তবে বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব সেই শূন্যতা পূরণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন ।