
‘হেযবুত তওহীদ’– কে ‘জঙ্গি সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বলেন, হেযবুত তওহীদ সেবার আড়ালে কৌশলে হাজার হাজার মুসলমানকে ঈমানহারা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে ‘জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর’ এবং ‘ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’ আয়োজিত মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন হেফাজত আমির।
১৯৯২ সালে টাঙ্গাইলের করটিয়ার জমিদার পরিবারের সন্তান মোহাম্মদ বায়জিদ খান পন্নী হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তাঁর ছোট ভাই সেলিম পন্নী সংগঠনের ইমামের দায়িত্বে আছেন।
হেফাজত আমির আরও বলেন, হেযবুত তওহীদের কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে। সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা বিক্ষুব্ধ হচ্ছে এবং তাদের ভিনদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কারণে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। তাই সরকারের কাছে হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।
জমাইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষীপুরের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতের নোয়াখালী জেলা আমির নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে বক্তৃতা করেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় মহাসচিব সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম, জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুয়্যত সংরক্ষণ কমিটির আমির আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক আরশাদ রহমানী প্রমুখ।
বক্তারা হেযবুত তওহীদের বইপুস্তক, প্রচারিত পত্রপত্রিকা এবং ওয়েবসাইটগুলো বন্ধেরও দাবি জানান। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক হিসাবগুলো ফ্রিজ এবং সংগঠনটি যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তাঁরা।

মহাসমাবেশে দাবি আদায়ে দেশব্যাপী ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদী জনতার সমন্বয়ে গণস্বাক্ষর, জেলা-উপজেলায় স্মারকলিপি এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়।
মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, নোয়াখালীর ব্যবসায়ী নেতা ইকরাম উল্লাহ ডিপটি প্রমুখ মহাসমাবেশে সংহতি জানান।







