মক্কা চুক্তি নিয়ে আনন্দবাজারের প্রতিবেদন: দিল্লির উদ্বেগ নাকি চাপ তৈরির চেষ্টা

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩০
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা গতকাল ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ নিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম: ‘ইসলামীয় নেটো’য় যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ, কেন পাক-সৌদি-তুর্কির হাত ধরতে চাইছে ঢাকা? চিন্তায় দিল্লি?’

শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। আনন্দবাজার যেটিকে ‘ইসলামীয় নেটো’ বলছে, সেটি মূলত পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। তাই এই প্রতিবেদনে ‘ইসলামীয় নেটো’ শব্দটি ব্যবহার না করে মক্কা চুক্তি বলাই যুক্তিসংগত।

আনন্দবাজার বলছে, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ঢাকার আগ্রহ রয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দুই মন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও বিশ্লেষকদের উদ্বেগও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনের মূল বার্তাটি অবশ্য আরও গভীরে। বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হয়, তাহলে ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে—আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে মূলত এই শঙ্কাটিই সামনে আনা হয়েছে।

এখানেই প্রশ্ন। এটি কি শুধু একটি সংবাদ প্রতিবেদন? নাকি এর মধ্যে দিল্লির একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন আছে? আনন্দবাজারের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে এমন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতি, নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কলকাতার এই পত্রিকার প্রতিবেদনে অনেকবার নয়াদিল্লির নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক, সামরিক সহযোগিতা, ইসলামি রাজনীতি কিংবা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা প্রশ্নে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে দিল্লির উদ্বেগ প্রায়ই মুখ্য হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বা অর্থনৈতিক কাঠামোয় যাবে কি না, সেটি বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ। সেখানে ভারতের স্বার্থ অবশ্যই বিবেচনায় আসবে। কারণ ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী। কিন্তু ভারতের স্বার্থ বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না।

এটি কেবল আজকের বিষয় নয়। এর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলের বিভিন্ন বক্তব্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বিভিন্ন ভাষ্য, মূল্যায়ন কিংবা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জনমত তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। আনন্দবাজারও অতীতে এমন অনেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

তাই গতকালের প্রতিবেদনটিকেও শুধু একটি সাধারণ সংবাদ হিসেবে দেখলে বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনের ভাষা লক্ষ করলেই সেটি বোঝা যায়।

বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হতে পারে, এটি সম্ভাবনা। কিন্তু আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে সেই সম্ভাবনাকে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যুক্ত হলে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রভাব বাড়তে পারে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সম্ভাব্য একটি পররাষ্ট্রনৈতিক সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের আলোকে বিশ্লেষণের পাশাপাশি ভারতীয় নিরাপত্তার চশমায়ও দেখা হয়েছে।

এখানেই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বা অর্থনৈতিক কাঠামোয় যাবে কি না, সেটি বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ। সেখানে ভারতের স্বার্থ অবশ্যই বিবেচনায় আসবে। কারণ ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী। কিন্তু ভারতের স্বার্থ বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতার কথাও এসেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিপুল বৈদেশিক কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ দৃশ্যমান। এগুলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনশীল বাস্তবতার অংশ।

বাংলাদেশের সামনে এখন একটি নতুন প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিনের একমুখী নির্ভরতার বাইরে গিয়ে কি ঢাকা বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়বে? প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি যদি কেবল একটি দেশের সন্তুষ্টি বিবেচনা করে পরিচালিত হয়, তাহলে সেটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি নয়। আবার অন্য এক দেশের প্রভাব বলয়ে গিয়ে পুরনো নির্ভরতা বদলে নতুন নির্ভরতা তৈরিও সমাধান নয়।

বাংলাদেশের প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি। মক্কা চুক্তির ক্ষেত্রেও তাই আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

‘ভারতপন্থী’ বলে পরিচিত বাংলাদেশের কয়েকটি মিডিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে মক্কা চুক্তির ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। আনন্দবাজার লিখেছে, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর সুযোগ যেমন রয়েছে; তেমনি এর সম্ভাব্য ঝুঁকিও আছে। কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কী ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে, সেটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান, ইরান-সৌদি আরব কিংবা তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কের মতো জটিল ভূরাজনৈতিক সমীকরণে বাংলাদেশ কোনোভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু ভারতের নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখলে বাংলাদেশের স্বার্থের জায়গাটি কোথায় থাকে? আনন্দবাজারের প্রতিবেদনটির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা সম্ভবত এখানেই। বাংলাদেশ কেন সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চাইছে? কেন তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ছে? কেন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় তৈরি হচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশের নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় খুঁজতে হবে।

জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আসবে, এটি অস্বাভাবিক নয়। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারেও পরিবর্তন আসতে পারে। সেই পরিবর্তনকে ‘ভারতবিরোধিতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সহজ। বাস্তবতা হয়তো তার চেয়ে অনেক জটিল।

বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো। এটি ভারতবিরোধী নীতি নয়। এটি বহুমুখী কূটনীতি।

কিন্তু দিল্লি যদি বাংলাদেশের বহুমুখী সম্পর্ককে নিজের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখে, তাহলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। আর সেই উদ্বেগ যদি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বারবার প্রকাশ পায়, তাহলে সেটি কেবল সাংবাদিকতার বিষয় থাকে না। এক ধরনের কূটনৈতিক বার্তাও হয়ে উঠতে পারে। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনটিকে সেই জায়গা থেকেই দেখা দরকার।

প্রতিবেদনের শেষ অংশটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে বাংলাদেশের ওপর ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ, বন্দর, বাণিজ্য ও পানির মতো বিষয় সামনে এসেছে। এমনকি গঙ্গার পানি চুক্তির প্রসঙ্গ এসেছে। এর অর্থ কী? এটি নিছক তথ্য পরিবেশন হতে পারে। আবার এর মধ্যে সতর্কবার্তাও থাকতে পারে—বাংলাদেশ যেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়, যা ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়।

এখানেই গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নটি সামনে আসে। একটি সংবাদপত্র যখন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকে অন্য দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের আলোকে ব্যাখ্যা করে, তখন পাঠকের উচিত সেই প্রতিবেদনের উৎস, ভাষা ও কাঠামো বিশ্লেষণ করা। কার বক্তব্য বেশি জায়গা পাচ্ছে? কার উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? কোন সম্ভাবনাকে বড় করে দেখানো হচ্ছে? কোন বিষয়টি আড়ালে থাকছে? এই প্রশ্নগুলো সাংবাদিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে ভারতের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের বক্তব্য বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের শঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকা যুক্তিগুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে প্রতিবেদনটি পড়লে মনে হতে পারে, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে গেলে সেটি মূলত ভারতের জন্য নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি করবে।

বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি আরও বিস্তৃত। বাংলাদেশ কি নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চায়? বাংলাদেশ কি সৌদি আরবের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়? বাংলাদেশ কি তুরস্কের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিতে চায়? বাংলাদেশ কি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়? বাংলাদেশ কি ভারতের পাশাপাশি চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়?

এসবের উত্তর বাংলাদেশকেই দিতে হবে। আর সেই উত্তর দিল্লির পছন্দের হতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের নেই।

একইভাবে ঢাকার সিদ্ধান্ত এমন হওয়াও উচিত নয়, যার ফলে ভারতের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত তৈরি হয়। কারণ প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত—না ভারতকে খুশি করার জন্য, না ভারতকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য। সিদ্ধান্তটি হওয়া উচিত বাংলাদেশের স্বার্থে।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনটি তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি সংবাদ নয়। এটি একই সঙ্গে একটি আয়না এবং সংকেত। আয়না—কারণ এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে দিল্লি কীভাবে দেখছে, তার একটি ছবি পাওয়া যায়। সংকেত -- কারণ এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ কতটা। তবে শেষ সিদ্ধান্ত ঢাকার।

বাংলাদেশকে এখন এমন পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করতে হবে, যেখানে বন্ধু থাকবে অনেক। কিন্তু প্রভু কেউ নয়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে। পাকিস্তানের সঙ্গেও থাকবে। সৌদি আরব, তুরস্কের সঙ্গেও থাকবে। চীনের সঙ্গে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গেও থাকবে। কারও বিরুদ্ধে নয়। বাংলাদেশের পক্ষে। মক্কা চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এ নীতিই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় নির্দেশনা।

সরদার ফরিদ আহমদ: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবদিক ইউনিয়ন

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত