মো. শাহাদাত হোসেন

দেশের প্রতিটি নাগরিকের একটি সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত পরিচয় থাকা জরুরি। এর অভাবে অনেক মানুষ রয়ে গেছেন তথ্যের অন্ধকারে। অনেক মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন শুধু একটি কাগজের টুকরোর অভাবে। পরিচয়পত্র নেই বলে গ্রামের অসহায় বৃদ্ধা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রাপ্য সরকারি সাহায্য থেকে। এমনকি প্রতিবন্ধী যুবকের কোনো অস্তিত্ব নেই সরকারের কাছে।
এসব কারণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর) বা জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বর্তমানে তথ্যের অভাব এবং নথিপত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক নাগরিক, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষ সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি এবং নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানে এবং প্রতিটি নাগরিকের সরকারি অস্তিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সুসংহত ও আধুনিক এনপিআর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জনসংখ্যার রেজিস্টার হলো একটি স্বতন্ত্র তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি। এতে প্রতিটি নাগরিকের তথ্য নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড করা হয়। এই পদ্ধতিতে দেশের সব নাগরিকের তথ্যের সমন্বয় ঘটানো হয়। নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে এর মাধ্যমে জনসংখ্যার আকার ও বৈশিষ্ট্য হালনাগাদ করা সম্ভব হয়। সাধারণত ভৌগোলিক অবস্থানের (জিও কোড) ভিত্তিতে যেকোনো স্থানে বসবাসরত সাধারণ নাগরিকদের জন্য এটি প্রস্তুত করা হয়।
এনপিআর কিন্তু কোনো শুষ্ক তথ্যভান্ডার (ডেটাবেইজ) নয়। এটি দেশের মানুষের পরিচয়। এতে মানুষ হিসেবে নাগরিক হিসেবে আমাদের অস্তিত্বের সারাংশ ফুটে ওঠে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আজ পর্যন্ত নিজেদের মতো করে তথ্য সংগ্রহ করেছে। কিন্তু সেগুলো বিক্ষিপ্ত। এক জায়গায় জন্ম নিবন্ধন, অন্য জায়গায় ভোটারের তালিকা, আরেক জায়গায় ব্যাংকের তথ্য। এই বিশৃঙ্খলার ফলে সত্যিকারের সুবিধাভোগী বঞ্চিত হয়েছেন, আর ভুয়া পরিচয়ধারীরা দখল করে নিয়েছে সম্পদ। এনপিআর সেই বিশৃঙ্খলার জট ছিঁড়ে দেবে। এটি একটি কম্প্রিহেনসিভ ডেটাবেইজ যেখানে দেশে বসবাসরত প্রতিটি মানুষ—নাগরিক হোক বা বিদেশি—যিনি গত ৬ মাস বা তার বেশি সময় ধরে এ দেশে আছেন অথবা আগামী ৬ মাস থাকবেন, তিনি স্থান পাবেন এক অভিন্ন ছাতার নিচে।
আমাদের দেশে পারিবারিক বন্ধন গভীর। কিন্তু আইনি জটিলতায় সেই বন্ধন মাঝেমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এনপিআর সেই কষ্ট লাঘব করবে। এখানে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংযুক্ত থাকবে একটি ফ্যামিলি ট্রি-এর মাধ্যমে। পিতা-মাতা, সন্তান, স্বামী-স্ত্রী—সবাই যুক্ত হবেন একটি অটুট সূত্রে। কেউ মারা গেলেও তার তথ্য মুছে যাবে না। বরং তা হালনাগাদ হয়ে থাকবে ইতিহাসের পাতায়। এটিই হলো টাইম-সিরিজ ডেটার মহিমা, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে আমাদের সমাজের বিবর্তন ধরে রাখবে।
এনপিআর-এর জন্য আমরা সংগ্রহ করব ১৫টি জনমিতিক তথ্য—নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, পেশা। থাকবে ৪টি বায়োমেট্রিক তথ্য, যেমন দশ আঙুলের ছাপ, মুখাবয়বের ছবি, দুই চোখের আইরিশ স্ক্যান, এবং ভবিষ্যতে ডিএনএ নমুনাও। পৃথিবীর হাজার কোটি মানুষের মধ্যে ঠিক আপনাকেই চিহ্নিত করবে এই ডিএনএ। অপরাধী শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে জালিয়াতি রোধ, নির্বাচনী তালিকার নকল নাম, কর ফাঁকি—সবকিছু হবে সহজ, সুনির্দিষ্ট।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা কিংবা এখানে আটকে পড়া বিদেশিরাও স্থান পাবেন এই ব্যবস্থায়। কিন্তু এনপিআর তাদের নাগরিকত্ব দেয় না। শুধু দেয় আশ্রয়ের সুরক্ষা। আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনদের তথ্যও যুক্ত হবে এতে। আর সেই তথ্য ব্যবহার করে সরকার নির্ধারণ করবে কে পাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কে পাবে স্বাস্থ্যসেবা, কে পাবে বৃত্তি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ইতিমধ্যেই পাইলটিং সম্পন্ন করেছে। তারা ব্যবহার করবে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউয়িং (সিএপিআই) পদ্ধতি। হাতে ট্যাবলেট নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য নেওয়া হবে। এর সাথে থাকবে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) সমন্বিত নকশা। থাকবে স্বয়ংক্রিয় স্কিপ প্যাটার্ন ও ইন-বিল্ট ভ্যালিডিটি চেক, যা মানুষের তৈরি ভুলকে হ্রাস করবে।
অনেকে ভাবেন, সরকার কি আমার সব কিছু জানতে চায়? না, সরকার জানতে চায় শুধু একটি ন্যায্য সমাজ গড়তে। আইনি ভিত্তি রয়েছে সুদৃঢ়—পরিসংখ্যান আইন, ২০১-এর ধারা ৬(ত) বিবিএস-কে এনপিআর হালনাগাদের দায়িত্ব দিয়েছে। রুলস অব বিজনেস, ২০১৭ এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাও একে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তাই নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন নেই।
একদিন হয়তো আপনি জন্ম নিবন্ধনের সময়ই পাবেন একটি ইউনিক শনাক্তকরণ নম্বর, যা সারা জীবন সঙ্গী হবে। সেই নম্বর দিয়ে খুলতে পারবেন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পেতে পারেন ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি —কোনো হয়রানি নেই। কারণ সব প্রতিষ্ঠানের ডেটাবেইজ যুক্ত থাকবে এনপিআরের সাথে ইন্টারঅপারেবিলিট-এর মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড—সব জায়গায় আপনার তথ্য একই থাকবে।
পল্লী অঞ্চলের নিরক্ষর মা-বোনেরা কি পিছিয়ে পড়বেন? না, কখনো না। তথ্য সংগ্রহকারী কর্মীরাই তাদের মুখের কথাই সরল বিশ্বাসে রেকর্ড করবেন। পরে প্রমাণ না থাকলেও, তাদের কথা হবে শেষ কথা। কোনো গোপনীয়তা ফাঁস হবে না। এটি শুধু ভিউ অনলি অথরিটি দিয়ে পরিচালিত হবে।
এনপিআর আমাদের এক করে দেবে। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা যেমন দেখিয়েছে, এনপিআর ব্যবহার করে তারা নারী নিরাপত্তা ও জনবণ্টন ব্যবস্থায় সাফল্য পেয়েছে। আমরাও পারি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আইসিটি-তে পারদর্শী। তারাই হবে এই কাজের মূল শক্তি—আমাদের জনমিতিক লভ্যাংশ।
জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্টার দেশের প্রতিটি নাগরিকের তথ্যের একটি ডিজিটাল ভাণ্ডার। এটি জনশুমারির বিকল্প হিসেবে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা ও সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি সহজতর হবে। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে নাগরিকদের অস্তিত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করা একটি উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পূর্বশর্ত।

দেশের প্রতিটি নাগরিকের একটি সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত পরিচয় থাকা জরুরি। এর অভাবে অনেক মানুষ রয়ে গেছেন তথ্যের অন্ধকারে। অনেক মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন শুধু একটি কাগজের টুকরোর অভাবে। পরিচয়পত্র নেই বলে গ্রামের অসহায় বৃদ্ধা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রাপ্য সরকারি সাহায্য থেকে। এমনকি প্রতিবন্ধী যুবকের কোনো অস্তিত্ব নেই সরকারের কাছে।
এসব কারণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর) বা জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বর্তমানে তথ্যের অভাব এবং নথিপত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক নাগরিক, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষ সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি এবং নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানে এবং প্রতিটি নাগরিকের সরকারি অস্তিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সুসংহত ও আধুনিক এনপিআর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জনসংখ্যার রেজিস্টার হলো একটি স্বতন্ত্র তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি। এতে প্রতিটি নাগরিকের তথ্য নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড করা হয়। এই পদ্ধতিতে দেশের সব নাগরিকের তথ্যের সমন্বয় ঘটানো হয়। নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে এর মাধ্যমে জনসংখ্যার আকার ও বৈশিষ্ট্য হালনাগাদ করা সম্ভব হয়। সাধারণত ভৌগোলিক অবস্থানের (জিও কোড) ভিত্তিতে যেকোনো স্থানে বসবাসরত সাধারণ নাগরিকদের জন্য এটি প্রস্তুত করা হয়।
এনপিআর কিন্তু কোনো শুষ্ক তথ্যভান্ডার (ডেটাবেইজ) নয়। এটি দেশের মানুষের পরিচয়। এতে মানুষ হিসেবে নাগরিক হিসেবে আমাদের অস্তিত্বের সারাংশ ফুটে ওঠে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আজ পর্যন্ত নিজেদের মতো করে তথ্য সংগ্রহ করেছে। কিন্তু সেগুলো বিক্ষিপ্ত। এক জায়গায় জন্ম নিবন্ধন, অন্য জায়গায় ভোটারের তালিকা, আরেক জায়গায় ব্যাংকের তথ্য। এই বিশৃঙ্খলার ফলে সত্যিকারের সুবিধাভোগী বঞ্চিত হয়েছেন, আর ভুয়া পরিচয়ধারীরা দখল করে নিয়েছে সম্পদ। এনপিআর সেই বিশৃঙ্খলার জট ছিঁড়ে দেবে। এটি একটি কম্প্রিহেনসিভ ডেটাবেইজ যেখানে দেশে বসবাসরত প্রতিটি মানুষ—নাগরিক হোক বা বিদেশি—যিনি গত ৬ মাস বা তার বেশি সময় ধরে এ দেশে আছেন অথবা আগামী ৬ মাস থাকবেন, তিনি স্থান পাবেন এক অভিন্ন ছাতার নিচে।
আমাদের দেশে পারিবারিক বন্ধন গভীর। কিন্তু আইনি জটিলতায় সেই বন্ধন মাঝেমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এনপিআর সেই কষ্ট লাঘব করবে। এখানে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংযুক্ত থাকবে একটি ফ্যামিলি ট্রি-এর মাধ্যমে। পিতা-মাতা, সন্তান, স্বামী-স্ত্রী—সবাই যুক্ত হবেন একটি অটুট সূত্রে। কেউ মারা গেলেও তার তথ্য মুছে যাবে না। বরং তা হালনাগাদ হয়ে থাকবে ইতিহাসের পাতায়। এটিই হলো টাইম-সিরিজ ডেটার মহিমা, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে আমাদের সমাজের বিবর্তন ধরে রাখবে।
এনপিআর-এর জন্য আমরা সংগ্রহ করব ১৫টি জনমিতিক তথ্য—নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, পেশা। থাকবে ৪টি বায়োমেট্রিক তথ্য, যেমন দশ আঙুলের ছাপ, মুখাবয়বের ছবি, দুই চোখের আইরিশ স্ক্যান, এবং ভবিষ্যতে ডিএনএ নমুনাও। পৃথিবীর হাজার কোটি মানুষের মধ্যে ঠিক আপনাকেই চিহ্নিত করবে এই ডিএনএ। অপরাধী শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে জালিয়াতি রোধ, নির্বাচনী তালিকার নকল নাম, কর ফাঁকি—সবকিছু হবে সহজ, সুনির্দিষ্ট।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা কিংবা এখানে আটকে পড়া বিদেশিরাও স্থান পাবেন এই ব্যবস্থায়। কিন্তু এনপিআর তাদের নাগরিকত্ব দেয় না। শুধু দেয় আশ্রয়ের সুরক্ষা। আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনদের তথ্যও যুক্ত হবে এতে। আর সেই তথ্য ব্যবহার করে সরকার নির্ধারণ করবে কে পাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কে পাবে স্বাস্থ্যসেবা, কে পাবে বৃত্তি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ইতিমধ্যেই পাইলটিং সম্পন্ন করেছে। তারা ব্যবহার করবে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউয়িং (সিএপিআই) পদ্ধতি। হাতে ট্যাবলেট নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য নেওয়া হবে। এর সাথে থাকবে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) সমন্বিত নকশা। থাকবে স্বয়ংক্রিয় স্কিপ প্যাটার্ন ও ইন-বিল্ট ভ্যালিডিটি চেক, যা মানুষের তৈরি ভুলকে হ্রাস করবে।
অনেকে ভাবেন, সরকার কি আমার সব কিছু জানতে চায়? না, সরকার জানতে চায় শুধু একটি ন্যায্য সমাজ গড়তে। আইনি ভিত্তি রয়েছে সুদৃঢ়—পরিসংখ্যান আইন, ২০১-এর ধারা ৬(ত) বিবিএস-কে এনপিআর হালনাগাদের দায়িত্ব দিয়েছে। রুলস অব বিজনেস, ২০১৭ এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাও একে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তাই নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন নেই।
একদিন হয়তো আপনি জন্ম নিবন্ধনের সময়ই পাবেন একটি ইউনিক শনাক্তকরণ নম্বর, যা সারা জীবন সঙ্গী হবে। সেই নম্বর দিয়ে খুলতে পারবেন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পেতে পারেন ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি —কোনো হয়রানি নেই। কারণ সব প্রতিষ্ঠানের ডেটাবেইজ যুক্ত থাকবে এনপিআরের সাথে ইন্টারঅপারেবিলিট-এর মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড—সব জায়গায় আপনার তথ্য একই থাকবে।
পল্লী অঞ্চলের নিরক্ষর মা-বোনেরা কি পিছিয়ে পড়বেন? না, কখনো না। তথ্য সংগ্রহকারী কর্মীরাই তাদের মুখের কথাই সরল বিশ্বাসে রেকর্ড করবেন। পরে প্রমাণ না থাকলেও, তাদের কথা হবে শেষ কথা। কোনো গোপনীয়তা ফাঁস হবে না। এটি শুধু ভিউ অনলি অথরিটি দিয়ে পরিচালিত হবে।
এনপিআর আমাদের এক করে দেবে। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা যেমন দেখিয়েছে, এনপিআর ব্যবহার করে তারা নারী নিরাপত্তা ও জনবণ্টন ব্যবস্থায় সাফল্য পেয়েছে। আমরাও পারি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আইসিটি-তে পারদর্শী। তারাই হবে এই কাজের মূল শক্তি—আমাদের জনমিতিক লভ্যাংশ।
জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্টার দেশের প্রতিটি নাগরিকের তথ্যের একটি ডিজিটাল ভাণ্ডার। এটি জনশুমারির বিকল্প হিসেবে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা ও সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি সহজতর হবে। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে নাগরিকদের অস্তিত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করা একটি উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পূর্বশর্ত।
.png)

নরসিংদীর মেথিকান্দা রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ছিন্নমূল নারী ববি বেগম যেভাবে দুর্বৃত্তদের হাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন, সেটাকে মর্মান্তিক বললেও কম বলা যায়। বাকপ্রতিবন্ধী প্রবীণ এ নারীর জমানো অর্থ কেড়ে নিতেই যে কিছু অমানুষ তার ওপর চড়াও হয়েছিল, সেটা ইতোমধ্যে স্পষ্ট।
১ ঘণ্টা আগে
৩১ মে, রাত। যশোরের শার্শা উপজেলার সাদিপুর সীমান্তের কাছে টহলরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা দেখতে পান, সীমান্তের কাঁটাতারের একটি অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। ওপারে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেক মানুষ। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।
৭ ঘণ্টা আগে
কয়েক দশক আগেও বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানো ছিল আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের অন্যতম অগ্রাধিকার। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টে গেছে। এখন বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকরা মানুষের ছোট পরিবার বেছে নেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। অথচ অতীতে এই প্রবণতাকেই ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হতো।
১১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদ কয়েক দিন ধরে যা প্রত্যক্ষ করছে, তা পুঞ্জীভূত অবহেলার ফল। সেখানে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে পাঁচ দিনে অন্তত ৩৩ প্রাণহানি হয়েছে, যার বড় অংশ আবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।
১০ জুলাই ২০২৬