ছাত্রশিবির করলে মুরতাদ-খতিবকে কালেমাপাঠ, আরও যত কাণ্ডে ফাতাহ কমব্যাট

মার্শাল আর্টের আড়ালে সারা দেশে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের বিরুদ্ধে। স্ট্রিম গ্রাফিক

‘ইসলামী ছাত্রশিবির করি আমি। অনলাইনে পরিচয়ের পরে একজনের চাপে মার্শাল আর্ট শিখি। শিবির করি জানতে পেরে ওরা আমাকে কালেমা পড়িয়ে মুসলমান বানান। আমি নাকি কাফের ছিলাম। ওরা বলেছে– যাঁরা শিবির করে, তাঁরা মুরতাদ। যাঁরা কিতাল করে না, তাঁরা কাফের।’

কথাগুলো দাখিল পরীক্ষা দেওয়া এক শিক্ষার্থীর। নাম প্রকাশ না করে স্ট্রিমের সঙ্গে আলাপে এই যুবক জানান, শাহ আমানত সাবির চাঁদপুরে এসে তাদের মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করেন। পরে আরও দুজন এক মাসের প্রশিক্ষণ দেন।

শাহ আমানত সাবির (২৩) খুলনাভিত্তিক ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের (এফসিএস) প্রশিক্ষণ প্রধান। গত ৫ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া বালুর মাঠে প্রশিক্ষণের সময় সাবিরসহ ছয়জন আটক হন। পরে পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মার্শাল আর্টের আড়া‌লে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় সাবিরসহ ছয় যুবককে ধরা হয়। অন্যরা হলেন, হোসাইন তানিম (২০), মো. জুনায়েদ (২২), আতাউল্লাহ শাহ (৩২), আবিদুর রহমান (২০) ও মো. বায়োজিত (৩০)। এদের মধ্যে আতাউল্লাহ শাহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বে থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাজীপুর মহানগরের যুগ্ম সদস্যসচিব।

গত ৭ জুলাই এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আতাউল্লাহ শাহকে গাজীপুর নগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব পদসহ দলের সব পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার তথ্য জানানো হয়।

শাহ আমানত সাবিরসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারের পর সংগঠনের পেজে বার্তা দিয়ে অনুসারীদের থানায় যেতে বলার স্ক্রিনশট।
শাহ আমানত সাবিরসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তারের পর সংগঠনের পেজে বার্তা দিয়ে অনুসারীদের থানায় যেতে বলার স্ক্রিনশট।

এনসিপির কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য শাহেরিন ইরা স্ট্রিমকে বলেছেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি– আতাউল্লাহ শাহ এফসিএসে সরাসরি যুক্ত। গত দুই-তিন মাস তিনি নিষ্ক্রিয়, তাই আমরা বিষয়টি জানতাম না। গ্রেপ্তার হওয়ার পরে জানতে পেরে, স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (৯ জুলাই) কারাগারে পাঠানো হয় আতাউল্লাহ শাহ, জুনায়েদ, আবিদুর রহমান ও বায়োজিতকে। পুলিশ আদালতের মাধ্যমে আরও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সাবির ও তানিমকে।

জানতে চাইলে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শামসুল হক স্ট্রিমকে বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের সঙ্গে কাদের যোগাযোগ, তাদের কাছে কোনো বিস্ফোরক বা অস্ত্র রয়েছে কিনা সবকিছু তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা সবদিক তদন্ত করছি। ফরেনসিক বিভাগ কাজ করছে। তদন্ত চলাকালে কোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই না। তদন্ত শেষ হলে গণমাধ্যমে ব্রিফ করা হবে।’

খতিবকে শাতিমে রাসুল আখ্যা দিয়ে হামলা, নতুন করে মুসলিম হয়ে ছাড়েন দেশ

২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর খুলনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে পুলিশের উপকমিশনার কার্যালয়ে গণপিটুনির শিকার হয় উৎসব মণ্ডল নামের এক কিশোর। এফসিএসের ছয় সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘মব’ করে উৎসব মণ্ডলের ওপর হামলার সঙ্গে গ্রেপ্তাররা যুক্ত ছিলেন বলে তথ্য দিয়েছেন।

ধর্ম অবমাননাকারীর বিষয়ে শাহ আমানত সাবিরের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট
ধর্ম অবমাননাকারীর বিষয়ে শাহ আমানত সাবিরের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর শাহ আমানত সাবিরের ফেসবুক আইডির একটি পোস্টের স্ক্রিনশট স্ট্রিম পেয়েছে। এতে সাবির একটি ছবি যুক্ত করে লিখেছেন, ‘মান সাব্বা নাবিইয়ীন ফাকতুলুহু’। পোস্টের সারমর্ম, নবীদের যে গালি দেয়, তাঁকে কতল (হত্যা) কর।

একই পোস্টে সাবির লেখেন, নামধারী মুসলিমরা শাতিমে রাসুলদের (রাসুলের অবমাননাকারী) বিচার ‘তাগুত বাহিনীর’ কাছে চায় এবং পুলিশের হাতে শাতিমকে তুলে দেয়, যাতে কারাগারে নিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া যায় এবং কিছুদিন পরে ভারতে পাঠানো যায়।

তিনি আরও লেখেন, ‘কত বড় নির্বোধ তাঁরা, যাঁরা শাতিমে রাসুলের বিচার তাগুতের হাতে তুলে দেয়। লিখে রাখ, শাতিমের মৃত্যুদণ্ড তাঁরা কখনোই কার্যক্রম (কার্যকর) করবে না, বরং তোমরা হবে শাতিমে রাসুলের নিরাপত্তা দানকারী।’

এ ব্যাপারে সাবিরের বড় ভাই শাহ আরাফাত রাহিদ স্ট্রিমকে জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে খুলনায় উৎসব মণ্ডলকে ধর্ম অবমাননাকারী আখ্যা দিয়ে হামলার ঘটনাস্থলে সাবির উপস্থিত ছিল। তিনি বলেন, ‘ওইদিন আমি নিজেও খুলনা ছিলাম। ঘটনাস্থলে অনেক ছাত্রনেতাও ছিলেন।’

শাতিমে রাসুলকে আইনের আওতায় না এনে হত্যা– সংক্রান্ত সাবিরের স্ট্যাটাসের বিষয়ে রাহিদ বলেন, ‘আমি যতদূর জানি এই প্রসঙ্গে হাদিস রয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শাতিমের শাস্তি সরকার কার্যকর করবে।’

রাহিদ আরও বলেন, ‘আমার ভাইকে একদিকে জঙ্গি বলা হচ্ছে। অন্যদিকে বলা হচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট। নিজের ভাইকে যতটুকু চিনি, তা থেকে দুপক্ষের বক্তব্যকেই আমি অপপ্রচার বলে মনে করি।’

স্ট্রিম অনুসন্ধানে চাঁদপুরে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের একই ধরনের একটি ঘটনা পেয়েছে। সেখানকার জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মুফতি ইমরান বিন বশিরকে শাতিমে রাসুল আখ্যা দিয়ে সংগঠনের সদস্যরা হত্যার চেষ্টা করেন। ওই ঘটনার জেরে প্রাণনাশের আশঙ্কায় ইমরান বিন বশির ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অনেকটা গোপনে দেশ ছাড়েন। ইমেইলে যোগাযোগের পরে এই প্রতিবেদক সম্প্রতি ইমরান বশিরের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। তিনি সরাসরি বলেন, ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম মুখোশের আড়ালে উগ্রবাদী গোষ্ঠী।’

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের বাসিন্দা ইমরান স্থানীয় একটি মসজিদের খতিব ছিলেন। তাঁকে কীভাবে শাতিমে রাসুল আখ্যা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম, তা তুলে ধরেন। অনলাইনেও একটি ভিডিও পাওয়া গেছে, যেখানে ইমরানের বাড়িতে তাঁকেসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় সাবির ও তাঁর সহযোগীদের। ভিডিওর একপর্যায়ে সাবিরের সহযোগীরা শাহাদাত আঙুল উঁচিয়ে আল্লাহু আকবার তাকবির দিতে বলছেন। একজন বলেন, ‘মান সাব্বা নাবিইয়ীন ফাকতুলুহু’। এ সময় সাবিরের আরেক সহযোগী উত্তেজিত স্বরে বলেন, ‘যারা আল্লাহর নবীরে গালাগালি দেয়, তাঁরে যেইখানে পাও কাইটা দুইভাগ কইরা দাও, আল্লাহু আকবার।’

ভুক্তভোগী ইমরান বলেন, ‘আমি তো মুফতি। ভালো করেই জানি ওরা কীভাবে মারবে? গোপনে মেরে দুর্ঘটনা (এক্সিডেন্ট) বলে চালাবে, আইনি ঝামেলা এড়াতে। কারণ, আইনটাই সমস্যা ওদের কাছে। অনেকে মিলে মারলে তো মব; বিচারই হয় না। ওরা সাধারণত এভাবেই প্রশিক্ষণ দেয়।’

ওইদিনের ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি তখনো ভয়াবহতা বুঝতে পারিনি। আমি এশার নামাজ পড়ালাম। ফজরের নামাজেও ছিলাম। মসজিদ থেকে বের হই নাই। মসজিদে আমার বাইক ছিল, কম্পিউটার ছিল। ভাবলাম, ইমামতি ছেড়ে কোথায় যাব এই মুহূর্তে। আমি ফজরের নামাজ পড়িয়ে রুমে আসলাম। সেদিন মক্তব না থাকায় শিক্ষার্থীরা আসেনি। পার্শ্ববর্তী মসজিদের ইমাম সাহেব এসে আমার রুমের দরজা নক করলেন। দরজা খুলে দেখি ২০-২৫ জন, কাউকে তেমন চিনি না। আশেপাশের হাতেগোনা যাদের চিনি, তাঁরা বললেন– উনারা এসেছেন আপনার সঙ্গে কথা বলতে।’

ইমরান বলেন, ‘আমি উনাদের মসজিদে বসালাম। কারণ, আমার রুমে বসালে যদি আমাকে সেখানে কিছু করে ফেলে! মসজিদে বসালাম, যাতে করে মসজিদের সম্মান রক্ষার্থে অন্তত সেখানে আমাকে না মারে।’ ‘পরে ওইসব যুবকরা আমাদের বাড়িতেও আগুন দিতে যান। গ্রামবাসীর অনুরোধে পরে তারা আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে চলে যান’, যোগ করেন ইমরান।

জ্ঞাতসারে কখনো ইসলাম কিংবা মহানবীর অবমাননাকর কিছু করেননি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মসজিদে আমি তাদের সবাইকে অনেক বুঝিয়েছি। তাঁরা মানতে নারাজ। পরে আমি ক্ষমা চেয়েছি। নতুন করে আমি কালেমা পড়ে মুসলমান হয়েছি, তাও যাতে পরিস্থিতি শান্ত করা যায়।’

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, রিমান্ডে সাবির স্বীকার করেছেন– নবীর অবমাননাকারী অভিযোগে চাঁদপুরে এক খতিবকে তাঁরা শাস্তি দিয়ে গিয়েছিলেন।

কাল্পনিক শত্রু ধ্বংসে ইদাদ, সংগঠন পোক্তে সারিয়া

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার এফসিএসের সদস্যদের জব্দ করা ব্যক্তিগত ডিভাইসে বিস্ফোরক তৈরি এবং সেগুলো পরীক্ষা করার একাধিক ভিডিও তাঁরা পেয়েছেন। ইতোমধ্যে এসব ভিডিও সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্রের দাবি, মার্শাল আর্টের আড়ালে গোপন সংগঠনের নামে বায়াত (শপথ) গ্রহণ, কাল্পনিক শত্রুর মোকাবিলায় ইদাদ (অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত), শাতিমে রাসুল আখ্যা দিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা, সাংগঠনিক ভিত শক্তপোক্ত করতে সারিয়ার (লুট) মতো তৎপরতায় এফসিএসের জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

গত ৫ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পরে যোগাযোগ করা হলে, উগ্রবাদী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেন ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। ওইদিন সংগঠনের ঢাকা ও খুলনা শাখা এবং সাবিরের ভাই শাহ আরাফাত রাহিদের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলেও রিসিভ হয়নি।

যশোরের সিদ্ধিপাশা শাখার দায়িত্বশীল ও ফাতাহ কমব্যাটের অ্যাডমিন আবদুল্লাহ আল মামুন স্ট্রিমকে জানিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে উগ্রবাদীদের কোনো যোগাযোগ নেই।

যশোরের সিদ্ধিপাশা শাখার দায়িত্বশীল ও ফাতাহ কমব্যাটের অ্যাডমিন আবদুল্লাহ আল মামুন। ছবি: সংগৃহীত
যশোরের সিদ্ধিপাশা শাখার দায়িত্বশীল ও ফাতাহ কমব্যাটের অ্যাডমিন আবদুল্লাহ আল মামুন। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে মে মাসে লন্ডনপ্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, শাহ আমানত সাবির ও এফসিএস বিস্তৃত নেটওয়ার্কে উগ্রপন্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়। আফগানফেরত উগ্রপন্থীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। রাজধানীর বছিলাতে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থে আবাসন প্রকল্পের আড়ালে তাঁরা তেহরিকে তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) জন্য সদস্য তৈরি এবং টিটিপির আদলে তেহরিকে তালিবান বাংলাদেশ (টিটিবি) গঠনের চেষ্টা করছেন।

এরপর গত ২৪ মে খুলনায় সংবাদ সম্মেলনে শাহ আমানত সাবির দাবি করেছিলেন, তাঁরা ইসলামী মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে মার্শাল আর্ট পরিচালনা করেন। প্রথাগত মিউজিক সহকারে ও মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের মার্শাল আর্টের রীতি বর্জন করে থাকেন।

তদন্তকারীরা জানান, ধর্মের ‘অপব্যাখ্যা’ দিয়ে তহবিল সংগ্রহের (সারিয়া) কাজে এফসিএসের সদস্যদের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তাঁরা। এই কাজে এফসিএস ভিন্ন ধর্মের মানুষকে টার্গেট করে।

গত বছরের একটি জিডির তদন্ত ধরে ৭ জুলাই যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা হয়েছে। ডাকাতির ওই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টায় কমল বিশ্বাসকে (৪৫) মারধর করে নগদ অর্থসহ তাঁর হলুদ রঙের ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মামলায় শাহ আমানত সাবির, ফয়সাল ওরফে আবু ওসামা (৩০), তাসিফ ওরফে সুমান্না (২৪), আবুল বাশার ওরফে ওয়ালিদ (২৫), মো. মাসুদ (২৩) ও অজ্ঞাতপরিচয়ের একজনকে আসামি করা হয়। এ বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য নিতে পারেনি স্ট্রিম।

মামলার বাদী কমল বিশ্বাস স্ট্রিমকে জানান, ঘটনার দিন সারথী মিলের সামনে থেকে পরিচিত মো. ফয়সাল এবং অপরিচিত আরেক তরুণ তাঁর ইজিবাইকে ওঠেন। অপরিচিতজন মায়ের অসুখের কথা বলে নির্ধারিত গন্তব্যের ২০০ গজ আগে স্যালাইন কিনতে নেমে পড়েন। পাশের আসনে বসা ফয়সাল সন্দেহজনক ফোনালাপ করছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি লিচু বাগান পর্যন্ত চলে আসছি। সেখানে আগেই চারজন ছিলেন। গাড়ি থামিয়ে আমাকে নিচে নামায়ে বাগানের ভেতরে নিয়ে হাত-পা বাঁধে, মুখে স্কচটেপ লাগায়। গরু জবাইয়ের মতো মাটিয়ে আমাকে ঠাইসে ধরে রাখে। মনে করলাম, আমি মনে হয় শেষ! এভাবেই তারা আমার ফোন ও ইজিবাইক নিয়ে যায়। তরুণদের সবার পরনে কালো পোশাক ছিল।’

ফেসবুকে এফসিএসের মার্শাল আর্ট ট্রেনিংয়ের ভিডিওতে যে নাশিদ বা সঙ্গীত নিয়মিত ব্যবহার করে, বিদেশি ভাষার এসব সঙ্গীত সাধারণত আইএস, আল-কায়েদার মতো সংগঠন ব্যবহার করে।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে মার্শাল আর্ট পরিচালনা করলেও, আড়ালে প্রতি সপ্তাহে এফসিএস সদস্যদের নিয়ে ‘দারস’ করা হয়। কর্মী তৈরিতে দাওয়াহর (উদ্বুদ্ধকরণ অর্থে) কাজে সাবিরের সঙ্গে মাহফুজ মুখ্য ভূমিকা রাখেন। দেশব্যাপী নিয়মিত সফর করেন তাঁরা।

পুলিশের ভাষ্য, রিমান্ডে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন– মার্শাল আর্টের সময়ে তরুণদের ‘উগ্রবাদে’ উদ্বুদ্ধ করা হয়। দলে ভিড়লে পরে তাদের বায়াত (শপথ) দেয় ‘সাবির ভাইয়ের জামায়াহ (এসবিজে)’। ‘আমিরে মুজাহিদ’ হিসেবে শপথ দেন এফসিএস প্রতিষ্ঠাতা শাহ আমানত সাবির। বায়াতের পরে ফরজ হিসেবে ইদাদ পালন করা হয়। ইসলামি পরিভাষায় ইদাদ (প্রস্তুতি) হলো– শত্রু মোকাবিলায় শারীরিক, মানসিক ও কৌশলগত সক্ষমতা অর্জন এবং অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত রাখা।

সাবিরের বিস্ফোরক পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর বড় ভাই রাহিদ স্ট্রিমকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁর বিশেষ কিছু জানা নেই। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাবির যে ইদাদের কথা বলে, তার অর্থ শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকা।’

শিবিরকে মুরতাদ-কাফের আখ্যা

পুলিশের বিশেষায়িত গোয়েন্দা সংস্থা ‘স্পেশাল ব্রাঞ্চ’ কয়েক মাস আগে ফাতাহ কমব্যাট থেকে মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ নেওয়া এক যুবকের সন্ধান পায়। ওই যুবককে ইদাদের জন্য জোরাজুরি করলে ভয়ে সে পরিবারকে সব জানিয়ে দেয়। এরপর পরিবার পুলিশের সহায়তা চায়।

ওই যুবকের বিষয়ে বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করলে চাঁদপুর সদর থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, সংশ্লিষ্ট যুবক তাঁর ভয়ের কারণ থানায় এসে জানিয়েছিলেন। তাঁর বন্ধুরাও বলেছিল। এরপর মার্শাল আর্ট টিমের ওপর আমরা নজর রেখেছিলাম। কিন্তু যুবকের পরিবার জিডি বা মামলা করতে রাজি না হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চাঁদপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে এখন ওই যুবক আলিমে ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। নাম-পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘শুনেছি পুলিশ কয়জনকে ধরেছে? বাকিরা তো বাইরে। আমার তো জানের নিরাপত্তা নাই।’

এফসিএসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে এই যুবক জানান, অনলাইনে বিভিন্ন ধর্মীয় বয়ান শুনতেন তিনি। সেই সূত্রে পরিচয়ের পরে ফাতাহ কমব্যাটের একজন তাঁকে ‘দাওয়াত’ দেন। কয়েকদিন পরে সরাসরি ফাতাহর মেহেদী হাসান ও মাহফুজ নামে দুজনের সঙ্গে দেখা হয়। তাদের জোরাজুরিতে তিনি মাসব্যাপী মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ নেন।

চাঁদপুরের এই যুবক বলেন, ‘আমিরে মুজাহিদ সাবির ভাই এসে ট্রেনিং উদ্বোধন করেন। এরপর মাহফুজ ভাই ট্রেনিং করাইতেন। মাহফুজ ভাই মার্শাল আর্ট জানতেন। মাহফুজ ভাই দাওয়াতি কার্যক্রম বা আলেমের ভূমিকা পালন করতেন। উনার পেশা ঠিক জানি না। কিন্তু উনারা এখানে একটি ঘাঁটি বানাইছে, ঘাঁটির মধ্যে দ্বীনের দাওয়াত দিতেন। চাঁদপুরে মাহফুজ ভাইয়ের একটি দোকান বা মুদি ব্যবসা খোলার নিয়ত ছিল। তিনি “বাংলাস্তানের জঙ্গী” নামে ফেসবুকে একটি ফেইক আইডি ব্যবহার করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি মাঝখান দিয়া শিবির করতাম। তো তারা আমারে মুসলমান বানাইছে, বলছে আমি এতদিন কাফের ছিলাম। মানে শিবির করাটা কাফের হওয়া বলছিল ওরা। বলেছে যাঁরা শিবির করে, তাঁরা মুরতাদ; যাঁরা কিতাল করে না, তাঁরা কাফের।’

যুবক আরও বলেন, ইদাদের ব্যাপারে উনারা আমার কাছে আসছিল দাখিল পরীক্ষার আগ মুহূর্তে। পরে থানায় বিষয়টি জানাই। ইদাদের জন্য আমার কাছে নগদ টাকা চেয়েছিল; এমনকি ব্যক্তিগত ডিভাইসও হ্যাক করেছিল। কোথাও গেলে লোকেশনে তারা হাজির হত। ওদের হাত থেকে ‘বাঁচতে’ তিন-চার মাস বাসার আশেপাশে ছাড়া কোথাও যাইনি। আব্বুর সঙ্গে সব জায়গায় যাইতাম।

এই যুবকের মেসেঞ্জারে এফসিএসের বার্তা আদানপ্রদানের বেশ কিছু স্ক্রিনশট স্ট্রিমের হাতে এসেছে। এর একটিতে তাঁর ওপর ইদাদ ফরজ বলা হয়েছে।

চাঁদপুরের যুবকের সঙ্গে বাংলাস্তানের জঙ্গি পেজের চ্যাটের স্ক্রিনশট
চাঁদপুরের যুবকের সঙ্গে বাংলাস্তানের জঙ্গি পেজের চ্যাটের স্ক্রিনশট

মাহফুজের সঙ্গে কথা বলতে এফসিএসের যশোর ও সিদ্ধিপাশা শাখায় যোগাযোগ করলে জানানো হয়, মাহফুজ কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না।

চাঁদপুরে যুবকের সঙ্গে এফসিএসের আচরণের বিষয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে আমি কেন্দ্রীয় কারাগারের হাইসিকিউরিটি “শতাব্দী কর্ণফুলী-৪” সেলে ছিলাম। সেখানে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি– খুবই ভয়ংকর একটি জাল আছে উগ্রপন্থীদের। এদের মূল কথা, সশস্ত্র বিপ্লব করতে হবে। গণতন্ত্র বা প্রচলিত পন্থায় কখনো পরিবর্তন হবে না। তারা প্রচণ্ড শারীরিক ফিটনেস, ব্যায়াম-টায়াম করা মানুষ। মার্শাল আর্ট ট্রেনিং করিয়ে লোকজনকে দলে ভেড়ান। এদের মধ্যে আবার অনেকগুলো গ্রুপ; একজন অন্যকে দেখতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় সরকারকে বলেছি– উগ্রপন্থীদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পর্ক নাই। আমরা দেশের প্রচলিত আইনে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামের কথা মানুষকে বলি। এগুলোর ব্যাপারে তারা (উগ্রবাদীরা) ইসলামী ছাত্রশিবিরকে মূলত টার্গেট করে। যেহেতু ছাত্রশিবিরের ভাইয়েরা নামাজ পড়েন, কুরআন-হাদিস পড়েন, সহজে তাদের নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে। আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচিতে জনশক্তিকে এসব বিষয়ে সতর্ক করি। অন্তর্বর্তী সরকারের পরে বর্তমান বিএনপি সরকারও এদের ব্যাপারে উদাসীন। এজন্যই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সম্প্রতি সারা দেশে তো কালেমা খচিত সাদা-কালো কাপড়ে আল-কায়েদার পতাকা উঠানো হলো। অথচ রাসুলের যুগে বা কালেমার পতাকা তো এ রকম ছিল না। সরকারকেই এগুলো এড্রেস করতে হবে।’

আফগানিস্তানের সঙ্গে ঈদ উদযাপন

গত ২১ মার্চ বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়। এর একদিন আগে ২০ মার্চ সৌদি আরবের অনুসরণ করে দেশের কোথাও কোথাও ছোট পরিসরে ঈদুল ফিতরের জামাত হয়। কিন্তু আফগানিস্তানকে অনুসরণ করে ১৯ মার্চ যশোরে ঈদুল ফিতরের জামাত করেন শাহ আমানত সাবির ও তাঁর সহযোগীরা। ওইদিন সাবির নিজের ফেসবুকে লেখেন, ‘অরিজিনাল গ্লোবাল ঈদের সলাত শেষ, আলহামদুলিল্লাহ। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে চাঁদ দেখা গিয়েছে।’

আফগানিস্তানের সঙ্গে মিলিয়ে যশোরে ঈদের নামাজ পড়েন এফসিএসের অনুসারীরা। ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানের সঙ্গে মিলিয়ে যশোরে ঈদের নামাজ পড়েন এফসিএসের অনুসারীরা। ছবি: সংগৃহীত

নাম প্রকাশ না করে এক আলেম স্ট্রিমকে বলেন, কাউকে খলিফা মেনে নিলে তিনি যেদিন ঈদ পালন করেন বা অনুসারীদের পালন করতে নির্দেশ দেন, সেদিনই ওই উৎসব হয়। আফগানিস্তানকে ইসলামি আমিরাহ (রাষ্ট্র) মেনে তা অনুকরণে ওইদিন হয়ত ঈদ পালন করে থাকতে পারেন আলোচিত যুবকরা। তবে বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবেন।

আফগানিস্তানের সঙ্গে মিলিয়ে ঈদের নামাজ পড়ার যুক্তি দিয়ে সাবিরের ফেসুবক পোস্ট
আফগানিস্তানের সঙ্গে মিলিয়ে ঈদের নামাজ পড়ার যুক্তি দিয়ে সাবিরের ফেসুবক পোস্ট

গ্রেপ্তারের পর সমালোচনা, ভিডিও ভাইরালে সুর বদল

ফাতাহ কমব্যাটের ছয় যুবককে গ্রেপ্তারের পরে এই ব্যাপারে তরুণদের সচেতন হতে আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। তাঁরা সরকারকেও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। বিপরীতে সামাজিক মাধ্যমে আরেক দল এটিকে সরকারের ‘নতুন জঙ্গি নাটক’ বলে প্রচার চালায় এবং কড়া সমালোচনা করে। তবে সাবিরের ফোনে থাকা বিস্ফোরক পরীক্ষার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে আসার পর সমালোচকদের অনেকে আগের অবস্থান বদল করেছেন।

গত ৭ জুলাই দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে দেড় লাখের বেশি ফলোয়ারের ‘খালিদ স্পিকিং’ ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। ‘হুজুরেরা মার্শাল আর্ট শিখলেই জঙ্গী? কী ঘটছে পর্দার আড়ালে’ শিরোনামের ভিডিওতে শাহ মোহাম্মদ খালিদ বলেন, স্রেফ মার্শাল আর্ট শেখার কারণে ‘ইসলামী চিন্তাধারার’ ছয় যুবককে পুলিশ আটক করেছে। ‘জঙ্গিবাদের নতুন নাটক’ কারা, কেন সাজাচ্ছেন ইত্যাদি প্রসঙ্গ তুলে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড বক্তব্য দেন তিনি।

পরে বুধবার (৮ জুলাই) ওই পেজ থেকে এক পোস্টে বলা হয়, ‘ইতোমধ্যে একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে দলটির প্রধানকে প্রশিক্ষণমূলক আইইডি বিস্ফোরণ ঘটাতে দেখা যায়। বিষয়টি সঠিক হলে এবং রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন হলে তাদের বিচার নিয়ে হয়তো প্রতিবাদকারীদের আপত্তি থাকবে না। তবে এর দ্বারা হিন্দু উগ্রবাদীদের ব্যাপারে সরকারের নীরবতা ও দ্বিমুখী আচরণের বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না। একইসঙ্গে এখানে আরও কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’

১৫ লাখ অনুসারীর ‘Xobaer’ পেজ থেকে ৬ জুলাই বিকেলের পোস্ট, ‘গতকাল (৫ জুলাই) বাংলাদেশে এমন কিছু যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁরা আমার জানা মতে, একজন সৎ, আদর্শবান ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের আত্মরক্ষার (সেলফ ডিফেন্স) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ, আত্মবিশ্বাসী এবং ইতিবাচক পথে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন। আমার বিশ্বাস, সমাজ থেকে মাদক, মদ, ইভটিজিং এবং অন্যান্য সামাজিক ব্যাধি দূর করতে এই ধরনের মানুষের কাজকে উৎসাহিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, তাদের সম্মানিত বা উৎসাহিত করার পরিবর্তে সরকারের একটি অংশ যেন তাদের শাস্তি দিচ্ছে।’ এই পেজে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়।

সামাজিক মাধ্যমে শাহ আমানত সাবিরের বিস্ফোরকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অবস্থান বদল করেন অনেকে।
সামাজিক মাধ্যমে শাহ আমানত সাবিরের বিস্ফোরকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অবস্থান বদল করেন অনেকে।

ছয় যুবককে গ্রেপ্তারের পরে ফেসবুকের আলোচনায় শামিল হন আতাউর রহমান বিক্রমপুরী, আসিফ আদনান, আহমদ রফিকসহ তাদের অনুসারীরা। ঘটনার দিন আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ফেসবুক পোস্টে জানান, নিজেকে তাঁর ‘বড় অপরাধী মনে হচ্ছে’। এর ব্যাখ্যায় লেখেন, ‘খুলনার ছেলে শাহ আমানত সাবির। ঠিক কবে তাঁর সঙ্গে পরিচয় মনে নেই। তবে যশোরে আমার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার বিভিন্ন দ্বীনি প্রোগ্রামে আসা-যাওয়া করত। ভালো মার্শাল আর্ট এক্সপার্ট। তবে মার্শাল আর্টের বিভিন্ন ইসলামবিরোধী অনুষঙ্গ (নারী-পুরুষ ফ্রি মিক্সিং, মাথা ঝোকানো, হারাম মিউজিক ইত্যাদি) ওকে পীড়া দিত। এজন্য নিজেই নতুন ধারার মার্শাল আর্ট চালু করে।’

ঘটনার দিন তাঁরই পরামর্শে যাত্রাবাড়ী থানায় গিয়ে সাবির আটক হন উল্লেখ করেন বিক্রমপুরী। নিজেও এই ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন জানিয়ে আরেক পোস্টে আতাউর রহমান বিক্রমপুরী লেখেন, ‘প্রশাসন আমাকে বারবার কথা দিয়েছিল, তাঁরা কোনো ধরনের নাটক করবে না।’ ভিন্ন আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন,‘ আমি আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য প্রদান করছি, ওয়াল্লহি! বিল্লাহি! তাল্লহি! যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি সিদ্দিক একজন চরম লেভেলের মিথ্যাবাদী ও প্রতারক।’ কীভাবে মিথ্যাবাদী তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিক্রমপুরী।

তবে সাবিরের বিস্ফোরক পরীক্ষার ভিডিও আসার পর আতাউর রহমান অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেন। এই প্রসঙ্গে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হতে পারে জানিয়ে পৃথক পোস্টে তিনি লেখেন, তবে আমরা আশা করব, প্রশাসন যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত