রাজীব দে

জমির মালিকানা ও সাংস্কৃতিক সুরক্ষা কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী দাবি নয়, বরং বহুত্ববাদী ভারতের ভিত্তি। প্রসঙ্গটি আসছে লাদাখের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে। লাদাখ থেকে সদ্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে সোনম ওয়াংচুককে। পরিবেশ ও শিক্ষার পরিমণ্ডলে সুপরিচিত এই নামটি এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
অভিযোগ করা হয়েছে যে সোনম ওয়াংচুকের প্ররোচনায় লেহ-তে সাম্প্রতিক আন্দোলনে হিংসা ছড়িয়েছে, প্রাণহানি ঘটেছে। প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর সংগঠনের বিদেশি অনুদান নেওয়ার অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন রয়েই যায়, এই পদক্ষেপ কেবল আইনশৃঙ্খলার পরিপ্রেক্ষিতেই, নাকি রাষ্ট্রের চোখে দেখা দিয়ছিল সিঁদুরে মেঘ? তাই কি সাবধানতামূলক এই গ্রেপ্তার?
লাদাখের আজকের এই সঙ্কট হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হয়। রাষ্ট্র তখন দাবি করেছিল, উন্নয়ন ও শাসনের সুবিধার জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচিত পরিষদের ক্ষমতা হ্রাস পেল। জমির মালিকানা ও সাংস্কৃতিক সুরক্ষার প্রশ্নে স্থানীয় মানুষের অনিশ্চয়তা বাড়ল। এরপর থেকেই ষষ্ঠ সূচীর আওতায় সংরক্ষণ এবং পূর্ণ রাজ্যের দাবি ক্রমশ জোরালো হতে থাকল। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে অনুরূপ দাবি মেনে নিয়েছিল দিল্লি। যাতে স্থানীয় সংস্কৃতি ও জমির সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই লাদাখবাসীর দাবি আরও দৃঢ় ভিত্তি পেয়েছে বলা যেতে পারে।
ঠিক এই জায়গায় সরকারের চোখে ওয়াংচুক যেন সিঁদুরে মেঘ। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত, স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়। আন্দোলন যদি তাঁর নেতৃত্বে আরও গতি পায়, তবে তা সীমান্ত-সংবেদনশীল এই অঞ্চলে অশান্তি ছড়াতে পারে। চীনের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দিল্লি কোনোভাবেই চায় না লাদাখের রাজনৈতিক অসন্তোষ আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠুক। সেই কারণেই ওয়াংচুককে সরিয়ে দেওয়া হলো। যা আসলে আন্দোলনের কেন্দ্রীয় এই চরিত্রকে নিষ্ক্রিয় করার কৌশল। কিন্তু এর ফলে সমস্যা মিটবে কি? বরং বাড়তে পারে। গণতন্ত্রে ন্যায্য দাবি দমন করলে তা ভিন্ন রূপে প্রস্ফুটিত হবেই। সাবধানতামূলক গ্রেপ্তার বেশিরভাগ সময় আন্দোলনকে দুর্বল নয়, শক্তিশালী করে। ওয়াংচুককে যদি ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়, তবে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়বে। আন্দোলন পাবে নৈতিক ভূমি। সরকার হয়তো সাময়িক শান্তি অর্জন করবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ক্ষোভের আগুন আরও ঘনীভূত হবে। যাকে বলে ছাই চাপা আগুন।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের পক্ষে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে আলোচনার পথ বেছে নেওয়া। ষষ্ঠ সূচী নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক দৃষ্টান্ত তো রয়েছেই। মনে রাখতে হবে, জমিরমালিকানা ও সাংস্কৃতিক সুরক্ষা কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী দাবি নয়, বরং বহুত্ববাদী ভারতের ভিত্তি। যদি দিল্লির সরকার দেশের কোনো এক কোণে থাকা মানুষের দাবি এবং একগুচ্ছ আশঙ্কাকে দেশের নিরাপত্তা জন্য হুমকি হিসেবে দেখে, তবে লাদাখের আজকের অস্থিরতা ক্রমশ দেশব্যাপী নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
ওয়াংচুকের গ্রেপ্তার তাই এক ব্যক্তির আটক নয়, বরং রাষ্ট্রের মানসিকতার প্রতিফলন। অতীতে যেমন উত্তর-পূর্বে সংবিধান নমনীয়তা দেখিয়েছিল, তেমন পথ যদি লাদাখের জন্যও খোলা না হয়, তবে ভবিষ্যৎ হবে আরও জটিল। সোনম ওয়াংচুক আজ কেবল এক নাম নন, তিনি লাদাখের জনগণের উদ্বেগ ও আশা এই দুইয়েরই প্রতীক। সেই প্রতীককে দমন করলে মেঘ সরবে না, বরং গণতন্ত্রের আকাশেই ঘনাবে অশান্তির ছায়া।

জমির মালিকানা ও সাংস্কৃতিক সুরক্ষা কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী দাবি নয়, বরং বহুত্ববাদী ভারতের ভিত্তি। প্রসঙ্গটি আসছে লাদাখের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে। লাদাখ থেকে সদ্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে সোনম ওয়াংচুককে। পরিবেশ ও শিক্ষার পরিমণ্ডলে সুপরিচিত এই নামটি এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
অভিযোগ করা হয়েছে যে সোনম ওয়াংচুকের প্ররোচনায় লেহ-তে সাম্প্রতিক আন্দোলনে হিংসা ছড়িয়েছে, প্রাণহানি ঘটেছে। প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর সংগঠনের বিদেশি অনুদান নেওয়ার অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন রয়েই যায়, এই পদক্ষেপ কেবল আইনশৃঙ্খলার পরিপ্রেক্ষিতেই, নাকি রাষ্ট্রের চোখে দেখা দিয়ছিল সিঁদুরে মেঘ? তাই কি সাবধানতামূলক এই গ্রেপ্তার?
লাদাখের আজকের এই সঙ্কট হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হয়। রাষ্ট্র তখন দাবি করেছিল, উন্নয়ন ও শাসনের সুবিধার জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচিত পরিষদের ক্ষমতা হ্রাস পেল। জমির মালিকানা ও সাংস্কৃতিক সুরক্ষার প্রশ্নে স্থানীয় মানুষের অনিশ্চয়তা বাড়ল। এরপর থেকেই ষষ্ঠ সূচীর আওতায় সংরক্ষণ এবং পূর্ণ রাজ্যের দাবি ক্রমশ জোরালো হতে থাকল। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে অনুরূপ দাবি মেনে নিয়েছিল দিল্লি। যাতে স্থানীয় সংস্কৃতি ও জমির সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই লাদাখবাসীর দাবি আরও দৃঢ় ভিত্তি পেয়েছে বলা যেতে পারে।
ঠিক এই জায়গায় সরকারের চোখে ওয়াংচুক যেন সিঁদুরে মেঘ। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত, স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়। আন্দোলন যদি তাঁর নেতৃত্বে আরও গতি পায়, তবে তা সীমান্ত-সংবেদনশীল এই অঞ্চলে অশান্তি ছড়াতে পারে। চীনের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দিল্লি কোনোভাবেই চায় না লাদাখের রাজনৈতিক অসন্তোষ আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠুক। সেই কারণেই ওয়াংচুককে সরিয়ে দেওয়া হলো। যা আসলে আন্দোলনের কেন্দ্রীয় এই চরিত্রকে নিষ্ক্রিয় করার কৌশল। কিন্তু এর ফলে সমস্যা মিটবে কি? বরং বাড়তে পারে। গণতন্ত্রে ন্যায্য দাবি দমন করলে তা ভিন্ন রূপে প্রস্ফুটিত হবেই। সাবধানতামূলক গ্রেপ্তার বেশিরভাগ সময় আন্দোলনকে দুর্বল নয়, শক্তিশালী করে। ওয়াংচুককে যদি ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়, তবে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়বে। আন্দোলন পাবে নৈতিক ভূমি। সরকার হয়তো সাময়িক শান্তি অর্জন করবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ক্ষোভের আগুন আরও ঘনীভূত হবে। যাকে বলে ছাই চাপা আগুন।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের পক্ষে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে আলোচনার পথ বেছে নেওয়া। ষষ্ঠ সূচী নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক দৃষ্টান্ত তো রয়েছেই। মনে রাখতে হবে, জমিরমালিকানা ও সাংস্কৃতিক সুরক্ষা কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী দাবি নয়, বরং বহুত্ববাদী ভারতের ভিত্তি। যদি দিল্লির সরকার দেশের কোনো এক কোণে থাকা মানুষের দাবি এবং একগুচ্ছ আশঙ্কাকে দেশের নিরাপত্তা জন্য হুমকি হিসেবে দেখে, তবে লাদাখের আজকের অস্থিরতা ক্রমশ দেশব্যাপী নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
ওয়াংচুকের গ্রেপ্তার তাই এক ব্যক্তির আটক নয়, বরং রাষ্ট্রের মানসিকতার প্রতিফলন। অতীতে যেমন উত্তর-পূর্বে সংবিধান নমনীয়তা দেখিয়েছিল, তেমন পথ যদি লাদাখের জন্যও খোলা না হয়, তবে ভবিষ্যৎ হবে আরও জটিল। সোনম ওয়াংচুক আজ কেবল এক নাম নন, তিনি লাদাখের জনগণের উদ্বেগ ও আশা এই দুইয়েরই প্রতীক। সেই প্রতীককে দমন করলে মেঘ সরবে না, বরং গণতন্ত্রের আকাশেই ঘনাবে অশান্তির ছায়া।

দীর্ঘ অচলায়তন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নানা সংকট, মতবিরোধ ও আস্থাহীনতার আবহ পেরিয়ে এই নির্বাচন ছিল রাষ্ট্র ও রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত।
১৭ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করতে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে এই জয় যেমন বিপুল প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে, তেমনই তৈরি করেছে এক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
২ দিন আগে
এখন মানুষের প্রত্যাশা বা এক্সপেকটেশন অনেক বেশি। এই সরকারের কাছে মানুষ অনেক কিছু আশা করবে। আর এখানেই বিপদ। সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা এই প্রত্যাশাগুলো শুনতে পাচ্ছে এবং তাদের কাজে তার প্রতিফলন আছে। অতিরিক্ত প্রত্যাশার বিপদ হলো, আপনি যখন ডেলিভার করতে পারবেন না, তখন জনপ্রিয়তা খুব দ্রুত পড়ে যায়।
২ দিন আগে
ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন তৈরি করা গেলে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে। যদি সরকার শুরুতেই এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে।
৩ দিন আগে