স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচার ঘিরে বাড়ছে সংঘাত। মাত্র ১০ দিনে অর্ধশতাধিক স্থানে হামলা ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হয়েছেন কয়েক শ মানুষ। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’। সামনে সংঘাত আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২২ জানুয়ারি প্রতীক হাতে পেয়ে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যে, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে গত ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার ৪২টি ঘটনায় চারজন নিহত ও অন্তত ৩৫৩ জন আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীদের ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। এর আগে ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহ-১ আসনে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ হারান বিএনপির ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ সালমান ওমরের সমর্থক নজরুল ইসলাম।
রাজধানীতেও নির্বাচনী প্রচারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ২৬ জানুয়ারি ঢাকা-১৮ আসনে একই দলের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবের জনসংযোগে হামলা হয়। পাটওয়ারীর দিকে একের পর এক ডিম ছোড়ার ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক বুলিং, মারধর ও লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে। নারী কর্মীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। শুরুতে প্রচার বাগ্যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন সহিংস হয়ে উঠছে। এতে ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) হিসাব অনুযায়ী, গত চার মাসে সারাদেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার অন্তত ১১৩টি ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন দলের পাঁচজন নিহত ও আহত হয়েছে কমপক্ষে ৯৮১ জন।
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। পরদিন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে সরকার। প্রার্থীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গানম্যান দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন উৎসবমুখর করতে নানা উদ্যোগের কথাও বলা হচ্ছে। তবে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে এই আশ্বাসে অনেকেই ভরসা রাখতে পারছেন না।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি স্ট্রিমকে বলেন, কোনো মহল থেকে সহিংসতা উসকে দিলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এখন তেমনই দেখা যাচ্ছে। নেতারা পরস্পরকে দোষারোপ না করে বস্তুনিষ্ঠ প্রচার চালালে সহিংসতা কমে আসবে। কারণ, সেক্ষেত্রে কর্মী-সমর্থকরা শান্ত থাকবে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘিরে কার্যত ভেঙে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে শুরু থেকেই নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংস পরিস্থিতি তারা কতটা সামাল দিতে পারবে, তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারের পর থেকে অব্যাহত সংঘাতে তা আরও বাড়ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলছেন, এদেশে নির্বাচনের ইতিহাস সহিংসতার। এবার একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আভাস মিলছে। ফলে সহিংসতা হবে না– এমনটি প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। এখন পর্যন্ত সহিংস ঘটনা খুব বেশি যে হয়েছে তা নয়। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভোটের দিন কেন্দ্র দখল থেকে শুরু করে এ নিয়ে পরেও সহিংসতার শঙ্কা রয়েছে।
অবশ্য নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘিরে দেশের কোথায় কী হচ্ছে, তা তারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। যেখানে যে পদক্ষেপ দরকার, তা নেওয়া হচ্ছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নিয়েও ভয়
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগ। সামাজিক মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মীরা নির্বাচন বয়কটের প্রচার চালাচ্ছে। তবে একটি পক্ষ বলছে, পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে আওয়ামী লীগ। তারা নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জেসমিন টুলি বলেন, নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়ায় আওয়ামী লীগ যে সহিংসতা চালাতে পারে– এটা সবার জানা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও জানে, তাদের নিশ্চয় প্রস্তুতি আছে। তবে কে এম মহিউদ্দিনের ভাষ্য, কারও সহযোগিতা ছাড়া আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা চালানোর সক্ষমতা নেই। রাজনৈতিক দলগুলো এবং সরকার নির্বাচনের বিষয়ে এক আছে। ফলে আওয়ামী লীগ তেমন কিছু করতে পারবে না। তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লুট হয়। পুলিশের শৃঙ্খলা কার্যত ভেঙে পড়ে। গত দেড় বছরে সেই পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সক্ষমতায় ঘাটতি রয়ে গেছে। এমনকি লুট অস্ত্রের বড় অংশ উদ্ধার করা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ সহিংস ঘটনা কতটুকু ঠেকাতে পারবে তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, পুলিশকে এখনো পুরোপুরি কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না। জুলাইয়ের পর পুলিশের অবস্থা নাজুক। তারা সক্রিয় হচ্ছে না নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে। কী করলে কী হবে– এটি নিয়ে পুলিশের অনেকে আতঙ্কিত। বর্তমান সরকারকেও অনেকে ভরসা করেন না। এজন্য সহিংসতা বাড়তে পারে।
জেসমিন টুলি বলেন, নির্বাচন কমিশন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এককভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। এত বড় একটা নির্বাচন, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সংযত আচরণ করতে হবে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন স্ট্রিমকে বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিটি সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্রুত আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচার ঘিরে বাড়ছে সংঘাত। মাত্র ১০ দিনে অর্ধশতাধিক স্থানে হামলা ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হয়েছেন কয়েক শ মানুষ। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’। সামনে সংঘাত আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২২ জানুয়ারি প্রতীক হাতে পেয়ে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যে, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে গত ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার ৪২টি ঘটনায় চারজন নিহত ও অন্তত ৩৫৩ জন আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীদের ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। এর আগে ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহ-১ আসনে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ হারান বিএনপির ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ সালমান ওমরের সমর্থক নজরুল ইসলাম।
রাজধানীতেও নির্বাচনী প্রচারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ২৬ জানুয়ারি ঢাকা-১৮ আসনে একই দলের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবের জনসংযোগে হামলা হয়। পাটওয়ারীর দিকে একের পর এক ডিম ছোড়ার ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক বুলিং, মারধর ও লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে। নারী কর্মীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। শুরুতে প্রচার বাগ্যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন সহিংস হয়ে উঠছে। এতে ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) হিসাব অনুযায়ী, গত চার মাসে সারাদেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার অন্তত ১১৩টি ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন দলের পাঁচজন নিহত ও আহত হয়েছে কমপক্ষে ৯৮১ জন।
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। পরদিন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে সরকার। প্রার্থীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গানম্যান দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন উৎসবমুখর করতে নানা উদ্যোগের কথাও বলা হচ্ছে। তবে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে এই আশ্বাসে অনেকেই ভরসা রাখতে পারছেন না।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি স্ট্রিমকে বলেন, কোনো মহল থেকে সহিংসতা উসকে দিলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এখন তেমনই দেখা যাচ্ছে। নেতারা পরস্পরকে দোষারোপ না করে বস্তুনিষ্ঠ প্রচার চালালে সহিংসতা কমে আসবে। কারণ, সেক্ষেত্রে কর্মী-সমর্থকরা শান্ত থাকবে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘিরে কার্যত ভেঙে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে শুরু থেকেই নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংস পরিস্থিতি তারা কতটা সামাল দিতে পারবে, তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারের পর থেকে অব্যাহত সংঘাতে তা আরও বাড়ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলছেন, এদেশে নির্বাচনের ইতিহাস সহিংসতার। এবার একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আভাস মিলছে। ফলে সহিংসতা হবে না– এমনটি প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। এখন পর্যন্ত সহিংস ঘটনা খুব বেশি যে হয়েছে তা নয়। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভোটের দিন কেন্দ্র দখল থেকে শুরু করে এ নিয়ে পরেও সহিংসতার শঙ্কা রয়েছে।
অবশ্য নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘিরে দেশের কোথায় কী হচ্ছে, তা তারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। যেখানে যে পদক্ষেপ দরকার, তা নেওয়া হচ্ছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নিয়েও ভয়
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগ। সামাজিক মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মীরা নির্বাচন বয়কটের প্রচার চালাচ্ছে। তবে একটি পক্ষ বলছে, পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে আওয়ামী লীগ। তারা নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জেসমিন টুলি বলেন, নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়ায় আওয়ামী লীগ যে সহিংসতা চালাতে পারে– এটা সবার জানা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও জানে, তাদের নিশ্চয় প্রস্তুতি আছে। তবে কে এম মহিউদ্দিনের ভাষ্য, কারও সহযোগিতা ছাড়া আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা চালানোর সক্ষমতা নেই। রাজনৈতিক দলগুলো এবং সরকার নির্বাচনের বিষয়ে এক আছে। ফলে আওয়ামী লীগ তেমন কিছু করতে পারবে না। তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লুট হয়। পুলিশের শৃঙ্খলা কার্যত ভেঙে পড়ে। গত দেড় বছরে সেই পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সক্ষমতায় ঘাটতি রয়ে গেছে। এমনকি লুট অস্ত্রের বড় অংশ উদ্ধার করা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ সহিংস ঘটনা কতটুকু ঠেকাতে পারবে তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, পুলিশকে এখনো পুরোপুরি কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না। জুলাইয়ের পর পুলিশের অবস্থা নাজুক। তারা সক্রিয় হচ্ছে না নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে। কী করলে কী হবে– এটি নিয়ে পুলিশের অনেকে আতঙ্কিত। বর্তমান সরকারকেও অনেকে ভরসা করেন না। এজন্য সহিংসতা বাড়তে পারে।
জেসমিন টুলি বলেন, নির্বাচন কমিশন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এককভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। এত বড় একটা নির্বাচন, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সংযত আচরণ করতে হবে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন স্ট্রিমকে বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিটি সহিংসতার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্রুত আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান। এ দিন তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
৩ ঘণ্টা আগে
শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারত, ভুটান, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁরা নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৫০ নেতা শপথ নেন। এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পিএস-এপিএস নিয়োগ করা হয়।
৪ ঘণ্টা আগে