জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে ছেলের ‘চোখ নষ্টের খবর শুনে’ মায়ের মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ০৫
বগুড়ায় সংঘর্ষের পরের চিত্র

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদ এবং তাঁর এক ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে মাসুদ রানার একটি চোখ মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। দুই ছেলে আহত হওয়ার খবর শুনে তাঁদের মা মাজেদা বেগম মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মাজেদা বেগম মারা গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট কেনার সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে রাত ১২টার দিকে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালান। এতে ভাঙচুর হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করা হয়। গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নন্দীগ্রামে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওসি ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ও তাঁর ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। বগুড়ার মতো জায়গায় এমন ঘটনা ঘটলে অন্য স্থানে কী হতে পারে, তা নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

মোশারফ হোসেন বলেন, প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও তারা সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি। ছেলের চোখ হারানোর খবর এবং রাতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মাসুদ রানার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। বাদ এশা তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম তাঁর দাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরাই তাঁদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত