শ্রীমঙ্গলে হোটেল-রিসোর্টের অর্ধেক কক্ষই খালি
স্ট্রিম সংবাদদাতামৌলভীবাজার

পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন পর্যন্ত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে হোটেল-রিসোর্ট বুকিং হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। যা বিগত বছরের তুলনায় অর্ধেক। এতে পর্যটন মৌসুমেই কর্মচারীদের বেতন তোলা নিয়েই দুশ্চিন্তায় তাঁরা।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি মো. সেলিম আহমদ জানান, সাধারণত ঈদসহ যেকোনো উৎসব-অনুষ্ঠানে আগমুহূর্তে হোটেল-রিসোর্টগুলোর ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ বুকিং থাকে। অথচ এবারের সব মিলিয়ে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বুকিং হয়েছে। আশানুরূপ পর্যটক না আসায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে।
পর্যটন ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর ঈদের অন্তত এক মাস আগে থেকেই শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের জনপ্রিয় রিসোর্টগুলোতে অগ্রিম বুকিং শুরু হয়ে যায়। বিশেষ করে রাধানগরের রিসোর্টগুলো সাধারণত শতভাগ বুকিং থাকে। কিন্তু এবার এখনও অনেক কক্ষ খালি পড়ে আছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশব্যাপী শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যু বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে অতিবৃষ্টি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বেহাল, পর্যটন এলাকাগুলোর সংযোগ সড়কের দুর্দশা ও দীর্ঘ যানজট পর্যটকদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছ।
শুধু হোটেল-রিসোর্ট নয়— পরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার, এমনকি স্থানীয় দিনমজুরদের আয়ও নির্ভর করে পর্যটন মৌসুমের ওপর।
শ্রীমঙ্গলের গ্রিন লিফ গেস্ট হাউজের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ বুকিং হয়েছে জানিয়ে এর মালিক এস কে দাস সুমন বলেন, ‘ঈদে আমার ক্ষতি ছাড়া লাভের আশা দেখছি না। হোটেলের থাকা কর্মচারীদের বেতনের দেওয়াটা এখন কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রাধানগর পর্যটন কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও একটি কটেজের মালিক কাজী সামছুল হক জানান, ঈদ মৌসুমের আয়ের ওপরই বছরের বড় অংশের ব্যবসা নির্ভর করে। এখন পর্যন্ত তার কটেজে মাত্র ৩০ শতাংশ বুকিং হয়েছে।
এদিকে বিদেশি পর্যটক কমে যাওয়াকেও ব্যবসায় বড় সংকট হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর গাইড অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, রেলপথ ও সড়কপথের দুরবস্থা পর্যটন শিল্পের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সিলেট-ঢাকা রুটে আরও ট্রেন চালুর দাবি জানান তিনি।
তবে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও ট্যুরিস্ট পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পর্যটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল চৌধুরী। যানজট নিরসনেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
.png)






