বিআইজিডির অনুষ্ঠানে বক্তারা
স্ট্রিম প্রতিবেদক

গণভোটের বিষয়গুলো অনুমোদন পেলে রাজনৈতিক দলগুলো জনতার প্রশ্নের মুখে পড়বে এবং সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পুরাতন বন্দোবস্তে ভাঙন, সংস্কার এবং গণতন্ত্রের পুনর্ভাবনা: ক্রান্তিকালে দুঃসহ পথচলা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই অভিমত দেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সংস্কার বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনার কথা কাগজে তুলে ধরলেও, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তেমন লাভ নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, অর্থনীতিতে কিছু অগ্রগতি হলেও শিক্ষা, জেন্ডার ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ সংস্কার নেওয়া যায়নি। তবে সংস্কার আমাদের প্রজন্মের জন্য কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা প্রলোভন ছিল না; এটি একটি গভীরভাবে শিকড়গাঁথা প্রত্যাশা। সরকার হয়তো এগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু আমাদের আকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আসিফ শাহান বলেন, অভিজাত ঐকমত্যের সঙ্গে সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণ না থাকায় সংস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টারের (আইডিআরসি) সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠান হয়। এতে বিআইজিডির স্টেট অব গভর্নেন্স ২০২৪–২৫ গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল তুলে ধরে।
এখনো সুযোগ রয়েছে কাজ করার
বিভিন্ন সেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্ট পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কতটা প্রভাব ফেলেছে, নতুন কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে কিনা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে বক্তারা বিশদ মত দেন।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন না থাকায় রাষ্ট্রকে এমন এক আমলাতন্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা আগের সরকারের সময় শক্তিশালী ছিল। এর মানে, আমার সঙ্গে যোগ দাও, যদিও একই সঙ্গে আমি তোমাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, দেশের গল্প এখানেই শেষ হয়নি। এখানে যেসব বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলো গণভোটে সামনে আনা হয়েছে। যদি এগুলো অনুমোদিত হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো জনতার প্রশ্নের মুখে পড়বে এবং সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে।

আলী রিয়াজ স্বীকার করেন, বাংলাদেশের সুশীল সমাজ অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারত। তবে সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা রাজনীতি থেকে দূরে থেকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েছে। সুশীল সমাজ আরও সক্রিয় হলে সরকারকে জবাবদিহি করতে সাহায্য করতে পারত।
তিনি মনে করেন, দেশ এখনো অনেক দূর যেতে পারে। সমস্যাগুলো পুরোপুরি সমাধান হয়নি এবং এগুলো নিয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে।
লন্ডনের এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাওমী হোসাইন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে সুশীল সমাজের শূন্যস্থানে একটি হিংস্র শক্তি প্রবেশ করেছে। আমরা দেখেছি– নারী, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং দেশের দুটি প্রধান সংবাদপত্রও টার্গেট করেছে ‘মব’। অন্তর্বর্তী সরকার আরও দৃঢ়ভাবে বার্তা দিতে পারত, কী গ্রহণযোগ্য এবং কী নয়। তাহলে ব্যক্তিগত অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক সমাজের নীতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেত।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অনেকের প্রশ্নের উত্তর দেন বক্তারা। তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল, এমন একটি রাষ্ট্র কল্পনা করা, যেখানে রাষ্ট্র ইচ্ছেমতো কাউকে হত্যা করতে পারবে না এবং পাঁচ বছর অন্তর গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।
এ সময় ইউনিভার্সিটি অব বাফেলোর সহযোগী অধ্যাপক নাদিন শান্তা মুর্শিদ প্রশ্ন রেখে বলেন, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের অবসানই কি একটি রাজনৈতিক স্বপ্নের ন্যূনতম পরিধি? আমরা কি এর বাইরে আরও কিছু কল্পনা করতে পারি না?
গণঅভ্যুত্থান সত্যিকারের গণআন্দোলন হতে পারেনি
২০২৪ সালেল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। এই আন্দোলন ছিল ধারাবাহিক সংহতির ফল। মাত্র দুই মাসের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রয়াসে এই আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছিল। সামান্য ইস্যুভিত্তিক প্রতিবাদ বহুমুখী ও বহুখাতের আন্দোলনে রূপ নেয়। তবে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শেষ পর্যন্ত এই অভ্যুত্থান সত্যিকারের গণআন্দোলনে পরিণত হতে পারেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ছাত্র আন্দোলন অন্তর্বর্তী সরকারের মূল শক্তি হতে পারত। তারা এক ধরনের জবাবদিহি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী সমর্থন গড়ে তুলতে পারত। সরকার থেকে দূরে থাকলে রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাবে– হয়ত এমন ভাবনা থেকে তারা যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু তাদের এই কৌশল ব্যর্থ। সরকারের অংশ হয়ে তারা সেই রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে মিশে গেল, যেটি থেকে তারাই স্বাধীন থাকতে চেয়েছিল। তাদের কাছে স্পষ্ট কোনো ম্যান্ডেট বা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছানোর সুসংগঠিত কাঠামোও ছিল না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরে, এমনকি আন্দোলনের সময়ও আমি বুঝতে পেরেছি– এটি পুরোপুরি গণমানুষের আন্দোলন হয়ে উঠতে পারেনি। ভবিষ্যতে আবার কোনো গণঅভ্যুত্থান হলে আমরা যেন রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষদের আগে থেকেই প্রস্তুত করতে পারি। তিনি বলেন, ‘না’ বলার প্রশ্নে যেমন ঐকমত্য জরুরি, তেমনি অনেক ‘হ্যাঁ’– এর প্রশ্নেও আমাদের একমত হতে হবে। তাহলেই সংহতি টিকবে।

বিআইজিডির জাতীয় জরিপ (আগস্ট ২০২৪) অনুযায়ী, ৮৩ শতাংশ মানুষ আগের সরকারকে উৎখাত করার পক্ষে ছিল। আন্দোলনের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা সবচেয়ে বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটি আবার প্রায় গণঅভ্যুত্থানের আগের পর্যায়ে নেমে আসে। কমে যায় অর্থনৈতিক আশাবাদও। আস্থা কমার কারণে দ্রুত নির্বাচনের দাবি বাড়তে থাকে। রাজনৈতিক চাপ, দেশ-বিদেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সরকারও নির্বাচন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিআইজিডির বিশ্লেষণ, অন্তর্বর্তী সরকারের যথেষ্ট রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি হয়। জনশৃঙ্খলার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় দলবদ্ধ সহিংসতা বাড়ে, যা পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি। অনেক সময় জনগণের দাবিগুলো ন্যায্যতা বা সমতার ভিত্তিতে নয় বরং রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব করে বিবেচনা করা হয়েছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার খুব একটা সক্রিয় ছিল না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক অভিজাতদের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে এবং সাধারণ নাগরিক গোষ্ঠীর জন্য কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ কঠিন হয়েছে। এছাড়া সংস্কার কার্যক্রম নির্বাচিত সরকারের রেখে দেওয়ায় এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এটি সংসদে রাজনৈতিক টানাপড়েনের পাশাপাশি রাজপথেও নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।
রূপান্তর প্রক্রিয়ায় জেন্ডারভিত্তিক বিতর্ক
বিআইজিডির গবেষণায় দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি যে, নারীর উন্নয়ন ও অধিকারবিষয়ক এজেন্ডা সামনে আনার ফলে জনগণের মধ্যে এত শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার অফিস নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্যদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করেছে। নেতিবাচক মতগুলোকে নিয়ে জনগণের আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সবচেয়ে বিতর্কিত সুপারিশও তারা কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই প্রকাশ করেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পুরুষ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। তারা এমন একটি ব্যবস্থা জোরদার করেছে যেখানে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ পরিবারের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে, নিজের অধিকার বা স্বতন্ত্রভাবে নয়। জাতীয় কনসেনসাস কমিশন জেন্ডারভিত্তিক এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত করতে চায়নি। আর সরকারও প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে সমর্থন করতে বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী হয়নি।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি ও ঢাকা-১২ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী তাসলিমা আক্তার বলেন, নীতিনির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জেন্ডারভিত্তিক সমস্যাগুলোকে প্রান্ত থেকে কেন্দ্রের দিকে তুলে আনে। নারীরা বিশেষ করে, যারা নীতিনির্ধারণের অবস্থানে আছেন, তারা যদি অন্যের ওপর নির্ভর করে লক্ষ্য এগোতে দেন, তাহলে নারীবাদী আন্দোলন পিছিয়ে যায়।

গণভোটের বিষয়গুলো অনুমোদন পেলে রাজনৈতিক দলগুলো জনতার প্রশ্নের মুখে পড়বে এবং সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পুরাতন বন্দোবস্তে ভাঙন, সংস্কার এবং গণতন্ত্রের পুনর্ভাবনা: ক্রান্তিকালে দুঃসহ পথচলা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই অভিমত দেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সংস্কার বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনার কথা কাগজে তুলে ধরলেও, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তেমন লাভ নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, অর্থনীতিতে কিছু অগ্রগতি হলেও শিক্ষা, জেন্ডার ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ সংস্কার নেওয়া যায়নি। তবে সংস্কার আমাদের প্রজন্মের জন্য কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা প্রলোভন ছিল না; এটি একটি গভীরভাবে শিকড়গাঁথা প্রত্যাশা। সরকার হয়তো এগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু আমাদের আকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আসিফ শাহান বলেন, অভিজাত ঐকমত্যের সঙ্গে সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণ না থাকায় সংস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টারের (আইডিআরসি) সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠান হয়। এতে বিআইজিডির স্টেট অব গভর্নেন্স ২০২৪–২৫ গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল তুলে ধরে।
এখনো সুযোগ রয়েছে কাজ করার
বিভিন্ন সেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্ট পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কতটা প্রভাব ফেলেছে, নতুন কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে কিনা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে বক্তারা বিশদ মত দেন।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন না থাকায় রাষ্ট্রকে এমন এক আমলাতন্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা আগের সরকারের সময় শক্তিশালী ছিল। এর মানে, আমার সঙ্গে যোগ দাও, যদিও একই সঙ্গে আমি তোমাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, দেশের গল্প এখানেই শেষ হয়নি। এখানে যেসব বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলো গণভোটে সামনে আনা হয়েছে। যদি এগুলো অনুমোদিত হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো জনতার প্রশ্নের মুখে পড়বে এবং সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে।

আলী রিয়াজ স্বীকার করেন, বাংলাদেশের সুশীল সমাজ অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারত। তবে সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা রাজনীতি থেকে দূরে থেকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েছে। সুশীল সমাজ আরও সক্রিয় হলে সরকারকে জবাবদিহি করতে সাহায্য করতে পারত।
তিনি মনে করেন, দেশ এখনো অনেক দূর যেতে পারে। সমস্যাগুলো পুরোপুরি সমাধান হয়নি এবং এগুলো নিয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে।
লন্ডনের এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাওমী হোসাইন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে সুশীল সমাজের শূন্যস্থানে একটি হিংস্র শক্তি প্রবেশ করেছে। আমরা দেখেছি– নারী, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং দেশের দুটি প্রধান সংবাদপত্রও টার্গেট করেছে ‘মব’। অন্তর্বর্তী সরকার আরও দৃঢ়ভাবে বার্তা দিতে পারত, কী গ্রহণযোগ্য এবং কী নয়। তাহলে ব্যক্তিগত অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক সমাজের নীতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেত।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অনেকের প্রশ্নের উত্তর দেন বক্তারা। তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল, এমন একটি রাষ্ট্র কল্পনা করা, যেখানে রাষ্ট্র ইচ্ছেমতো কাউকে হত্যা করতে পারবে না এবং পাঁচ বছর অন্তর গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।
এ সময় ইউনিভার্সিটি অব বাফেলোর সহযোগী অধ্যাপক নাদিন শান্তা মুর্শিদ প্রশ্ন রেখে বলেন, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের অবসানই কি একটি রাজনৈতিক স্বপ্নের ন্যূনতম পরিধি? আমরা কি এর বাইরে আরও কিছু কল্পনা করতে পারি না?
গণঅভ্যুত্থান সত্যিকারের গণআন্দোলন হতে পারেনি
২০২৪ সালেল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। এই আন্দোলন ছিল ধারাবাহিক সংহতির ফল। মাত্র দুই মাসের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রয়াসে এই আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছিল। সামান্য ইস্যুভিত্তিক প্রতিবাদ বহুমুখী ও বহুখাতের আন্দোলনে রূপ নেয়। তবে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শেষ পর্যন্ত এই অভ্যুত্থান সত্যিকারের গণআন্দোলনে পরিণত হতে পারেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ছাত্র আন্দোলন অন্তর্বর্তী সরকারের মূল শক্তি হতে পারত। তারা এক ধরনের জবাবদিহি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী সমর্থন গড়ে তুলতে পারত। সরকার থেকে দূরে থাকলে রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাবে– হয়ত এমন ভাবনা থেকে তারা যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু তাদের এই কৌশল ব্যর্থ। সরকারের অংশ হয়ে তারা সেই রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে মিশে গেল, যেটি থেকে তারাই স্বাধীন থাকতে চেয়েছিল। তাদের কাছে স্পষ্ট কোনো ম্যান্ডেট বা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছানোর সুসংগঠিত কাঠামোও ছিল না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরে, এমনকি আন্দোলনের সময়ও আমি বুঝতে পেরেছি– এটি পুরোপুরি গণমানুষের আন্দোলন হয়ে উঠতে পারেনি। ভবিষ্যতে আবার কোনো গণঅভ্যুত্থান হলে আমরা যেন রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষদের আগে থেকেই প্রস্তুত করতে পারি। তিনি বলেন, ‘না’ বলার প্রশ্নে যেমন ঐকমত্য জরুরি, তেমনি অনেক ‘হ্যাঁ’– এর প্রশ্নেও আমাদের একমত হতে হবে। তাহলেই সংহতি টিকবে।

বিআইজিডির জাতীয় জরিপ (আগস্ট ২০২৪) অনুযায়ী, ৮৩ শতাংশ মানুষ আগের সরকারকে উৎখাত করার পক্ষে ছিল। আন্দোলনের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা সবচেয়ে বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটি আবার প্রায় গণঅভ্যুত্থানের আগের পর্যায়ে নেমে আসে। কমে যায় অর্থনৈতিক আশাবাদও। আস্থা কমার কারণে দ্রুত নির্বাচনের দাবি বাড়তে থাকে। রাজনৈতিক চাপ, দেশ-বিদেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সরকারও নির্বাচন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিআইজিডির বিশ্লেষণ, অন্তর্বর্তী সরকারের যথেষ্ট রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি হয়। জনশৃঙ্খলার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় দলবদ্ধ সহিংসতা বাড়ে, যা পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি। অনেক সময় জনগণের দাবিগুলো ন্যায্যতা বা সমতার ভিত্তিতে নয় বরং রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব করে বিবেচনা করা হয়েছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার খুব একটা সক্রিয় ছিল না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক অভিজাতদের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে এবং সাধারণ নাগরিক গোষ্ঠীর জন্য কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ কঠিন হয়েছে। এছাড়া সংস্কার কার্যক্রম নির্বাচিত সরকারের রেখে দেওয়ায় এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এটি সংসদে রাজনৈতিক টানাপড়েনের পাশাপাশি রাজপথেও নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।
রূপান্তর প্রক্রিয়ায় জেন্ডারভিত্তিক বিতর্ক
বিআইজিডির গবেষণায় দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি যে, নারীর উন্নয়ন ও অধিকারবিষয়ক এজেন্ডা সামনে আনার ফলে জনগণের মধ্যে এত শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার অফিস নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্যদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করেছে। নেতিবাচক মতগুলোকে নিয়ে জনগণের আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সবচেয়ে বিতর্কিত সুপারিশও তারা কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই প্রকাশ করেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পুরুষ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। তারা এমন একটি ব্যবস্থা জোরদার করেছে যেখানে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ পরিবারের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে, নিজের অধিকার বা স্বতন্ত্রভাবে নয়। জাতীয় কনসেনসাস কমিশন জেন্ডারভিত্তিক এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত করতে চায়নি। আর সরকারও প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে সমর্থন করতে বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী হয়নি।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি ও ঢাকা-১২ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী তাসলিমা আক্তার বলেন, নীতিনির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জেন্ডারভিত্তিক সমস্যাগুলোকে প্রান্ত থেকে কেন্দ্রের দিকে তুলে আনে। নারীরা বিশেষ করে, যারা নীতিনির্ধারণের অবস্থানে আছেন, তারা যদি অন্যের ওপর নির্ভর করে লক্ষ্য এগোতে দেন, তাহলে নারীবাদী আন্দোলন পিছিয়ে যায়।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
৭ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান। এ দিন তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
৭ ঘণ্টা আগে
শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারত, ভুটান, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁরা নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
৭ ঘণ্টা আগে
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৫০ নেতা শপথ নেন। এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পিএস-এপিএস নিয়োগ করা হয়।
৮ ঘণ্টা আগে