leadT1ad

তরুণ প্রজন্ম পুরোনো রাজনীতি ফিরতে দেবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্ট্রিম প্রতিবেদকঢাকা
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৫: ১১
দুই দিনব্যাপী বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একটি চিত্র। ছবি: স্ট্রিম

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং কার্যকর গণতন্ত্রের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, `বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দীপনা ও দৃঢ় সংকল্প ২০২৪ কিংবা ১৯৯১-এর আগের পুরোনো রাজনীতি ফিরতে দেবে না।‘

আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দিনব্যাপী বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে তিনি অতিদ্রুত নতুন রাজনৈতিক প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে জাতীয় ব্যবস্থার গবেষণানির্ভর সংস্কারের আহ্বান জানান।

তৌহিদ হোসেন বলেন, `১৯৯১ সালে আমি যুবক ছিলাম, আমরা ভেবেছিলাম অন্তত নির্বাচন ব্যবস্থাটা আমাদের আছে। কিন্তু আমরা ভুল ছিলাম। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক করতে হবে, গবেষণাভিত্তিক করতে হবে।‘

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গাজায় চলমান সহিংসতা নিয়েও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।

লন্ডনের সোয়াস (SOAS) বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মুশতাক খান উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, `যদিও ২০২৪ গণআন্দোলনে সমগ্র জাতি এক হয়েছিল। কিন্তু চারপাশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা ও রাজনৈতিক স্থবিরতার কারণে অনেকে এখন হতাশ।‘

তিনি বলেন, `বাংলাদেশ বারবার স্বৈরশাসককে উ‘তখাত করেছে। পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে নানা রাজনৈতিক আন্দোলন—অভ্যুত্থানে ঢাকা এবং পূর্ববাংলা নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু হাসিনা আমলের অর্থনৈতিক মডেল ছিল অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত এবং তার ভিত্তি টেকসই ছিল না।‘

ড. মুশতাক খান বলেন, `ওই সময় অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু কোনো শিল্প ভিত্তি ছিল না। অনেক নীতি বিশ্লেষকই এই পতনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। হতাশাই বিদ্রোহকে উসকে দিয়েছে। এখন আমাদের টেকসই, কর্মসংস্থান তৈরি করে এমন অর্থনৈতিক নীতি দরকার। জনগণ ১৯৯০-এর দশকের দুর্নীতিতে ফিরে যেতে চায় না। তাই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।‘

সম্মেলনে মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং আইএআইএসের বর্তমান সভাপতি ড. মাসজলি বিন মালিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেটি ঘূর্ণিঝড় এবং দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়েও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। তবে তিনি গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি বলেন, `প্রতি বছর ছয় লাখ তরুণ স্নাতক হচ্ছে। তাই শুধু পোশাকশিল্পে অতি নির্ভরতা টেকসই কোনো ব্যাপার নয়। আমাদের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি, ঔষধশিল্পের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর শিল্প এবং ব্লু ইকোনোমিতে নজর দিতে হবে।‘

তিনি ক্রমবর্ধমান ঋণ সম্পর্কে সতর্ক করে জলদস্যুতার মতো আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় বেঙ্গল ডেল্টা সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। পাশাপাশি জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্রিন ফান্ডের প্রস্তাবও দেন।

নেপালের সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী ড. দীপক গওয়ালি ডেল্টা অঞ্চলে স্থিতিশীলতার জন্য গণতন্ত্র ও সুশাসনের ওপর জোর দেন। আর এসব অর্জনে জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীলতাই মূল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আঞ্চলিক গবেষণা এবং ক্রিটিক্যাল চিন্তাভাবনা গঠনে ডেল্টার গুরুত্ব তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, `জুলাই আন্দোলন আমাদের সামনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার এক সুযোগ তৈরি করেছে।‘

দ্য ওয়্যারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, `বাংলাদেশ এখন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। গত বছর যা ঘটেছিল তা কেবল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎই নয় বরং এই অঞ্চলের গতিপথও নির্ধারণ করবে।‘

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতির সমালোচনা করে সম্মেলনে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, `আমাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং অদম্য মনোবল আছে, কিন্তু আমরা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়তে ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের সংসদ একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান। রাজনীতি এখন রাজনৈতিক খেলায় পরিণত হয়েছে। আমরা স্বাধীনতাকে ভালোবাসি, কিন্তু আমাদের এখানে অর্থবহ বিতর্ক নেই। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা।‘

তিনি বলেন, `জলবায়ু সংকটকে জাতীয় প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং অব্যাহত উদ্যমের জন্য তরুণদের প্রশংসা করা উচিত। আমরা স্বপ্ন দেখতে জানি, কিন্তু গড়তে জানি না। নতুন বাংলাদেশ পেতে হলে আমাদের এই অভ্যাস বদলাতে হবে।‘

Ad 300x250

সম্পর্কিত