
কলকাতায় শিখা-ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আহমেদ বাবুর (৩৭) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় আমিনবাজারের হিজলা এলাকার পাঁচ মসজিদ মাঠে তাঁর জানাজা হয়। পরে বড়দেশী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বাবুকে দাফন করা হয়।
শনিবার রাত ৩টায় বাবুর লাশ আমিনবাজারের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ।
স্বামীর শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েন গুলশানারা। তিনি বলেন, ‘ব্যবসার কাজে সে (বাবু) কলকাতায় যেত। এভাবে পৃথিবী থেকে চলে গেল, বিশ্বাস করতে পারছি না। আমাকে বিধবা বানাল, আমার দুইটা বাচ্চাকেও এতিম করল।’
সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত গুলশানারা সরকারের কাছে সহায়তার আবেদন জানান। বলেন, ‘আমার দুই বাচ্চার ভবিষ্যতের জন্য সরকার যেন কিছু একটা করে। আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী যেন একটা চাকরির সুযোগ করে দেয়।’

এ সময় বাবুর ৮ বছরের মেয়ে এলিনা হাসান রোজার কান্নায় উপস্থিতদেরও চোখ মুছতে দেখা যায়। কান্নারত রোজা বলে, বাবা আমাদের অনেক কিছু কিনে দিতো। এখন বাবা নেই। আমি কাকে বাবা ডাকব?
বাবার সঙ্গে ভারতের যাতায়াতের স্মৃতি মনে করে সে বলে, ‘বাবা ইন্ডিয়া থেকে আসার সময় চকলেট আনত, চিপস আনত। অনেক কিছু কিনে দিত। এখন আর কেউ এসব দেবে না।’
সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ি শিকদারপাড়া এলাকার মরহুম আদম আলীর ছোট ছেলে ছিলেন আহমেদ বাবু। তিনি আমিনবাজারের এমএ হোসেন টাওয়ারের মার্কেটে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
গত ১৭ আগস্ট ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় যান আহমেদ বাবু। সেখানে থাকার জন্য ওঠেন হোটেল শিখা-ইনে। সেখানে ১৮ আগস্ট রাতে হোটেলটিতে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জন মারা যান।
.png)







