স্ট্রিম নাগরিক সংলাপ
স্ট্রিম প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ। বক্তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় এলাকাগুলো চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় পৃথক ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনসহ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলের সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে নাগরিক সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানানো হয়।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে লিডার্সের কর্মসূচি পরিচালক এ বি এম জাকারিয়া বলেন, ম্যাপলক্র্যাফট জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে দেশের ১৭ শতাংশ ভূখণ্ড ও ৩০ শতাংশ কৃষিজমি হারানোর শঙ্কা রয়েছে। এর ফলে প্রায় এক কোটি মানুষ গৃহহীন হতে পারে।
এ বি এম জাকারিয়া জানান, ২০০৭ সালের সিডর থেকে ২০২৪ সালের রেমাল পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে ৫৩ শতাংশ এলাকায় লবণাক্ততা বেড়েছে। এতে ৩৯ শতাংশ কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ৪০ শতাংশ নারী চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। মৎস্যজীবীরা দাদন ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ফাঁদে জর্জরিত হয়ে পড়ছেন।
বাজেট বরাদ্দের অপ্রতুলতা তুলে ধরে এ বি এম জাকারিয়া বলেন, বর্তমানে জলবায়ু খাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ০.৭৫ শতাংশ। টেকসই উন্নয়নের জন্য এটি অন্তত ৩ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, এই সংলাপের আগে উপকূলীয় জেলাগুলোতে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জনমত সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংলাপে লিডার্সের পক্ষ থেকে তুলে ধরা ১৬টি সুপারিশের মধ্যে প্রধান দাবি হলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ে অবিলম্বে একটি ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করা। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
সুপারিশে বলা হয়, উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষায় বিশেষ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। উপকূলের দীর্ঘ তটরেখা বরাবর পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা ও ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ জোরদার করার কথা বলা হয়। পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংসকারী কোনো প্রকল্প উপকূলে গ্রহণ না করার দাবিও জানানো হয়।
লিডার্সের পক্ষ থেকে নিরাপদ পানির সংকট কাটাতে বৃহৎ জলাধার নির্মাণ ও ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর সুপারিশ করা হয়। বড় দিঘি ও খালের ইজারা বন্ধ করে তা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের আদলে ‘একটি বাড়ি একটি শেল্টার’ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে দুর্যোগকালে প্রতিটি পরিবার নিরাপদ আশ্রয় পায়।
সুপারিশে জলাবদ্ধতা নিরসনে ভরাট হওয়া নদী ও খাল ড্রেজিং এবং টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমান সাইক্লোন শেল্টারগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীবান্ধব করার তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া সুন্দরবন সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা এবং লবণাক্ততা সৃষ্টিকারী চিংড়ি চাষ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়।
সংলাপে উপস্থিত রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে ঐকমত্য পোষণ করেন। তাঁরা রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। লোকাল এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ সোসাইটি (লিডার্স) ও মিডিয়া স্ট্রিমের যৌথভাবে আয়োজিত এই সংলাপ অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল ঢাকা স্ট্রিম।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ। বক্তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় এলাকাগুলো চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় পৃথক ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠনসহ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলের সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে নাগরিক সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানানো হয়।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে লিডার্সের কর্মসূচি পরিচালক এ বি এম জাকারিয়া বলেন, ম্যাপলক্র্যাফট জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে দেশের ১৭ শতাংশ ভূখণ্ড ও ৩০ শতাংশ কৃষিজমি হারানোর শঙ্কা রয়েছে। এর ফলে প্রায় এক কোটি মানুষ গৃহহীন হতে পারে।
এ বি এম জাকারিয়া জানান, ২০০৭ সালের সিডর থেকে ২০২৪ সালের রেমাল পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে ৫৩ শতাংশ এলাকায় লবণাক্ততা বেড়েছে। এতে ৩৯ শতাংশ কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ৪০ শতাংশ নারী চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। মৎস্যজীবীরা দাদন ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ফাঁদে জর্জরিত হয়ে পড়ছেন।
বাজেট বরাদ্দের অপ্রতুলতা তুলে ধরে এ বি এম জাকারিয়া বলেন, বর্তমানে জলবায়ু খাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ০.৭৫ শতাংশ। টেকসই উন্নয়নের জন্য এটি অন্তত ৩ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, এই সংলাপের আগে উপকূলীয় জেলাগুলোতে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জনমত সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংলাপে লিডার্সের পক্ষ থেকে তুলে ধরা ১৬টি সুপারিশের মধ্যে প্রধান দাবি হলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ে অবিলম্বে একটি ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করা। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
সুপারিশে বলা হয়, উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষায় বিশেষ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। উপকূলের দীর্ঘ তটরেখা বরাবর পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা ও ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ জোরদার করার কথা বলা হয়। পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংসকারী কোনো প্রকল্প উপকূলে গ্রহণ না করার দাবিও জানানো হয়।
লিডার্সের পক্ষ থেকে নিরাপদ পানির সংকট কাটাতে বৃহৎ জলাধার নির্মাণ ও ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর সুপারিশ করা হয়। বড় দিঘি ও খালের ইজারা বন্ধ করে তা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের আদলে ‘একটি বাড়ি একটি শেল্টার’ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে দুর্যোগকালে প্রতিটি পরিবার নিরাপদ আশ্রয় পায়।
সুপারিশে জলাবদ্ধতা নিরসনে ভরাট হওয়া নদী ও খাল ড্রেজিং এবং টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমান সাইক্লোন শেল্টারগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীবান্ধব করার তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া সুন্দরবন সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা এবং লবণাক্ততা সৃষ্টিকারী চিংড়ি চাষ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়।
সংলাপে উপস্থিত রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে ঐকমত্য পোষণ করেন। তাঁরা রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। লোকাল এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ সোসাইটি (লিডার্স) ও মিডিয়া স্ট্রিমের যৌথভাবে আয়োজিত এই সংলাপ অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল ঢাকা স্ট্রিম।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান। এ দিন তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
৩ ঘণ্টা আগে
শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারত, ভুটান, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁরা নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৫০ নেতা শপথ নেন। এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পিএস-এপিএস নিয়োগ করা হয়।
৪ ঘণ্টা আগে