স্ট্রিম প্রতিবেদক

দৈনিক প্রথম আলোর আগুনে পোড়ানার ভবনে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’। শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান এই শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন।
আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনীটি শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন দেশের সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যমের কর্মীরা।
পরে বিকেল ৪টায় জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ‘আলো’ নামের প্রদর্শনীটি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সব দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।
আজ বিকেল ৪টা প্রথম আলো ভবনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ প্রদর্শনী দেখতে আসছেন। প্রদর্শনী দেখতে আসা জনসাধারণের মাঝে মাস্ক বিতরণ করছে কর্তৃপক্ষ। করোনা না থাকলেও মাস্ক বিতরণের গুরুত্ব বোঝা গেল ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। ভবনজুড়ে এখনও পোড়া গন্ধ। দেয়ালগুলোতে আগুনে পোড়ার চিহ্ন। এই ভবন জুড়েই তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন শিল্পকর্ম। এসব শিল্পকর্মে ব্যবহার করা হয়েছে পুড়ে যাওয়া সব আসবাবপত্র।
প্রদর্শনী দেখতে আসা মানুষ এসব শিল্পকর্মের ছবি তুলছেন, নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ডাক্তার জয়। তিনি রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে কাজ করেন। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঢাকা এসেছেন। সুযোগে বন্ধুকে নিয়ে দেখতে এসেছেন পুড়ে যাওয়া প্রথম আলো ভবন।
স্ট্রিমকে জয় বলেন, ‘যে কোনো প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব দর্শন বা চিন্তা থাকে। সেই দর্শনের সঙ্গে সবার দর্শন মিলবে তা কিন্তু না। আর না মিলা মানেই ভেঙে দিতে হবে, এটা উগ্রবাদী চিন্তা। যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দর্শনকে অন্য একটা দর্শন দিয়ে মোকাবিলা করতে হয়। ভেঙে ফেলা কোনো সমাধান না।’
জয় আরও বলেন, ‘এখানে যাঁরা কাজ করতেন, যারা এখান থেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাঁদের বিষয়টাও মাথায় রাখা দরকার। আমি হাসপাতালে কাজ করি, সেই হাসপাতাল পুড়িয়ে দেওয়া মানে আমার জীবিকাকেও পুড়িয়ে দেওয়া।’
রাজধানীর ভাষানটেক থেকে আসা মোহাম্মদ রিয়াজুল হক স্ট্রিমকে বলেন, ‘যে কোনো প্রতিষ্ঠানে হামলা করা, অগ্নিসংযোগ করা ন্যক্কারজনক অপরাধ। এর মধ্যে দেশের প্রধান দৈনিক পত্রিকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে, সারা বিশ্বে এমন ঘটনা বিরল। এই হামলার নিন্দা জানানো ছাড়া আর কিছু করার নেই।’
রিয়াজুল আরও বলেন, ‘তবে এটা ভালো, ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে প্রথম আলো। আজকের এই প্রদর্শনী শুধু প্রদর্শনী না। এটা এক ধরনের নিরব প্রতিবাদ। পুরো ভবন ঘুরে দেখে, তাই মনে হলো।’
শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের সাথে শিল্পীদের একটা গভীর যোগাযোগ আছে। এখানে কাজ করতে গিয়ে পোড়া বইগুলো আমাকে নাড়া দিয়েছে। বইয়ের ওপর আঘাতকে আমি সংস্কৃতির বিলুপ্তির একটা প্রক্রিয়া হিসেবে দেখি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে পুড়ে যাওয়া ভবনের বস্তুগত বাস্তবতাটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। পোড়া গাছ, বই বা অন্যান্য উপকরণের মধ্যেই আমি একটা ভাষা খুঁজেছি। আমার কাজটা ছিল নিজের সাথে একটা ডায়ালগ তৈরি করা। কাউকে কিছু বলা বা বোঝানো নয়। আমি চেয়েছি মানুষ তার নিজের মতো করে উপলব্ধি করুক।’
মাহ্বুবুর রহমান বলেন, ‘এই শিল্পকর্মের অনুপ্রেরণা এসেছে নুরুলদীনের ভাবনা থেকে। যেকোনো বিপদের সময় একটা শক্তি বা ফোর্স আসবে, যা আমাদের আবার সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে- এই বিশ্বাস থেকেই কাজটি করা।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালায় একদল উগ্রবাদী লোক। প্রথম আলো কার্যালয়ের শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁরা ব্যাপক হামলা চালায়। পরে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে ও আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এরপর একই দিনে দ্য ডেইলি স্টার ভবনে হামলা চালানো হয়। ডেইলি স্টার ভবনেও ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এই হামলার ফলে প্রথম আলোর অনলাইন সংবাদ প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। ২৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ১৯ ডিসেম্বর ছাপা পত্রিকা প্রকাশ করেনি প্রথম আলো। প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর আবার অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়। আর ছাপা পত্রিকা প্রকাশ হয় ২০ ডিসেম্বর সকালে।

দৈনিক প্রথম আলোর আগুনে পোড়ানার ভবনে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’। শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান এই শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন।
আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনীটি শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন দেশের সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যমের কর্মীরা।
পরে বিকেল ৪টায় জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ‘আলো’ নামের প্রদর্শনীটি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সব দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।
আজ বিকেল ৪টা প্রথম আলো ভবনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ প্রদর্শনী দেখতে আসছেন। প্রদর্শনী দেখতে আসা জনসাধারণের মাঝে মাস্ক বিতরণ করছে কর্তৃপক্ষ। করোনা না থাকলেও মাস্ক বিতরণের গুরুত্ব বোঝা গেল ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। ভবনজুড়ে এখনও পোড়া গন্ধ। দেয়ালগুলোতে আগুনে পোড়ার চিহ্ন। এই ভবন জুড়েই তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন শিল্পকর্ম। এসব শিল্পকর্মে ব্যবহার করা হয়েছে পুড়ে যাওয়া সব আসবাবপত্র।
প্রদর্শনী দেখতে আসা মানুষ এসব শিল্পকর্মের ছবি তুলছেন, নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ডাক্তার জয়। তিনি রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে কাজ করেন। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঢাকা এসেছেন। সুযোগে বন্ধুকে নিয়ে দেখতে এসেছেন পুড়ে যাওয়া প্রথম আলো ভবন।
স্ট্রিমকে জয় বলেন, ‘যে কোনো প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব দর্শন বা চিন্তা থাকে। সেই দর্শনের সঙ্গে সবার দর্শন মিলবে তা কিন্তু না। আর না মিলা মানেই ভেঙে দিতে হবে, এটা উগ্রবাদী চিন্তা। যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দর্শনকে অন্য একটা দর্শন দিয়ে মোকাবিলা করতে হয়। ভেঙে ফেলা কোনো সমাধান না।’
জয় আরও বলেন, ‘এখানে যাঁরা কাজ করতেন, যারা এখান থেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাঁদের বিষয়টাও মাথায় রাখা দরকার। আমি হাসপাতালে কাজ করি, সেই হাসপাতাল পুড়িয়ে দেওয়া মানে আমার জীবিকাকেও পুড়িয়ে দেওয়া।’
রাজধানীর ভাষানটেক থেকে আসা মোহাম্মদ রিয়াজুল হক স্ট্রিমকে বলেন, ‘যে কোনো প্রতিষ্ঠানে হামলা করা, অগ্নিসংযোগ করা ন্যক্কারজনক অপরাধ। এর মধ্যে দেশের প্রধান দৈনিক পত্রিকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে, সারা বিশ্বে এমন ঘটনা বিরল। এই হামলার নিন্দা জানানো ছাড়া আর কিছু করার নেই।’
রিয়াজুল আরও বলেন, ‘তবে এটা ভালো, ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে প্রথম আলো। আজকের এই প্রদর্শনী শুধু প্রদর্শনী না। এটা এক ধরনের নিরব প্রতিবাদ। পুরো ভবন ঘুরে দেখে, তাই মনে হলো।’
শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের সাথে শিল্পীদের একটা গভীর যোগাযোগ আছে। এখানে কাজ করতে গিয়ে পোড়া বইগুলো আমাকে নাড়া দিয়েছে। বইয়ের ওপর আঘাতকে আমি সংস্কৃতির বিলুপ্তির একটা প্রক্রিয়া হিসেবে দেখি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে পুড়ে যাওয়া ভবনের বস্তুগত বাস্তবতাটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। পোড়া গাছ, বই বা অন্যান্য উপকরণের মধ্যেই আমি একটা ভাষা খুঁজেছি। আমার কাজটা ছিল নিজের সাথে একটা ডায়ালগ তৈরি করা। কাউকে কিছু বলা বা বোঝানো নয়। আমি চেয়েছি মানুষ তার নিজের মতো করে উপলব্ধি করুক।’
মাহ্বুবুর রহমান বলেন, ‘এই শিল্পকর্মের অনুপ্রেরণা এসেছে নুরুলদীনের ভাবনা থেকে। যেকোনো বিপদের সময় একটা শক্তি বা ফোর্স আসবে, যা আমাদের আবার সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে- এই বিশ্বাস থেকেই কাজটি করা।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালায় একদল উগ্রবাদী লোক। প্রথম আলো কার্যালয়ের শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁরা ব্যাপক হামলা চালায়। পরে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে ও আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এরপর একই দিনে দ্য ডেইলি স্টার ভবনে হামলা চালানো হয়। ডেইলি স্টার ভবনেও ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এই হামলার ফলে প্রথম আলোর অনলাইন সংবাদ প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। ২৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ১৯ ডিসেম্বর ছাপা পত্রিকা প্রকাশ করেনি প্রথম আলো। প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর আবার অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়। আর ছাপা পত্রিকা প্রকাশ হয় ২০ ডিসেম্বর সকালে।

ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্র মেরামতের জন্য ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে নতুন সরকার। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান।
১ ঘণ্টা আগে
সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জওয়ান বা কর্মকর্তাদের মন থেকে মানুষ হত্যার মনস্তাত্ত্বিক বাধা দূর করা হয় এবং এই প্রক্রিয়ার বাইরে তিনিও ছিলেন না— আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরার মুখে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
১ ঘণ্টা আগে
নানা জল্পনা-কল্পনা ও প্রকাশকদের একাংশের আপত্তি এবং শর্তের মুখে অবশেষে চূড়ান্ত হলো অমর একুশে বইমেলার দিনক্ষণ। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে এবারের বইমেলা। এদিনই হবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।
২ ঘণ্টা আগে