
বগুড়ায় জেলা ডিবির কার্যালয়ে আসাদুজ্জামান আসাদের (৩০) ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাজতখানার বাথরুম থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
আসাদ বগুড়ার সারিয়াকান্দির জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি হাজতখানার বাথরুমে যান। প্রায় ১০ মিনিট পরেও বের না হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা বাথরুমে তাঁকে ঝুলন্ত পান। পরে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
আসাদের বাবা মতি মুন্সি জানান, উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর তাঁর ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন আসাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ ছিল না।
গত ২৯ জুন সারিয়াকান্দির কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট ধরে শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ডিবির ভারপ্রাপ্ত ওসি ইকবাল বাহার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল মান্নান হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন আসাদ। এই হত্যাকাণ্ডে নওগাঁর দুই সহযোগীর নাম জানান তিনি। পরে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালিয়েও, তাদের ধরা যায়নি।
আসাদের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে– নাশতা করার পর আসাদ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাথরুমে যান।’
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
.png)






