
ইরানের বৃহত্তম কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নতুন করে এই হামলা চালানো।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ দাবি করেছে। একইসঙ্গে তারা জানিয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
বিবিসি বলছে, বিভিন্ন জাহাজ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ছোড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সেন্টকম। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে সেন্টকম।
মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরান আগেও একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হলেও যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।
এদিকে ইরান বলেছে, প্রতিশোধ হিসেবে একটি ‘আঞ্চলিক দেশে’ অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে তারা।
সেন্টকম দাবি করেছে, কুয়েতের দিকে দুটি এবং বাহরাইনের দিকে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল তেহরান, যার সবকটিই মাঝপথে বিধ্বস্ত হয়েছে অথবা প্রতিহত করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) ভোরে এক বিবৃতিতে কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২ জুন) মাঝরাতে কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘শত্রুতাপূর্ণ’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়। তবে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। আকাশ প্রতিরক্ষা সিস্টেমের মাধ্যমে আঘাত হানার আগেই সেগুলো ধ্বংস করা হয়।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিবৃতির পরপরই টেলিগ্রামে পোস্ট করা বার্তায় একে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে আইআরজিসি বলেছে, আমাদের কাছে প্রমাণ আছে কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই গত সপ্তাহান্তে শেষ হয়। যুদ্ধবিরতির এই আলোচনা থমকে থাকার মধ্যেই নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটল।
সেন্টকম বলেছে, কেশম দ্বীপের হামলায় ইরানের একটি সামরিক স্থল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র নিশানা করা হয়েছিল। এ ছাড়া আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে বৈধভাবে চলাচলকারী বেসামরিক নাবিকদের লক্ষ্য করে ইরান তিনটি ড্রোন ছুড়েছিল, যা মার্কিন বাহিনী গুলি করে নামিয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে আগ্রাসী মার্কিন বাহিনীকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
.png)





-7bb02b-256x144.webp)
