পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
স্ট্রিম ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংস হামলা চালানো ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কয়েক মাস ধরে হামলার শিকার হওয়া ফিলিস্তিনি-আমেরিকান বাসিন্দাদের দেখতে তুর্মুস আইয়া গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
হাকাবি বলেন, ‘অন্যের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে, গাড়ি পোড়ানো কিংবা মসজিদে আগুন দেয়া, মানুষের ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালানো—এগুলো নিছক অপরাধ নয়, স্পষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’
তুর্মুস আইয়া গ্রামের প্রায় ১০ জন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক করেন হাকাবি। ভুক্তভোগীরা তাঁদের জানমালের ওপর নেমে আসা ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান রাষ্ট্রদূতকে। মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে হাকাবি বলেন, ‘তুর্মুস আইয়াসহ এই অঞ্চলের অনেক আমেরিকান নাগরিক শান্তিপূর্ণ জীবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিছু মানুষের অন্যায্য ও বেআইনি আচরণ তাঁদের স্বাভাবিক জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।’
গত মাসেও পশ্চিম তীরের কুসরা শহরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডবের পর হাকাবি ‘সন্ত্রাসী’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
তিনি জানান, মার্কিন দূতাবাস সরাসরি কোনো তদন্ত করতে না পারলেও স্থানীয় সরকারকে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এড়িয়ে না যাওয়ার দাবি জানাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করতে হবে।
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলাকারীদের ‘মুষ্টিমেয় দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দায় এড়িয়েছিলেন। তবে নেতানিয়াহুর অতি-জাতীয়তাবাদী সরকারের আমলেই পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি নির্মাণের মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীরে নির্মিত প্রায় ১৫০টি বসতিতে ৫ লাখের বেশি ইহুদি বাস করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যা সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় না।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
.png)






