
বহু বছর পর অং সান সু চির ছবি প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। একইসঙ্গে তাঁকে একজন বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি জান্তার নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার কৌশলের অংশ।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সু চিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
গত ৩ আগস্ট সু চির সঙ্গে দেখা করেন মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দ্য বেক। অভ্যুত্থানের পর কোনো বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে এটিই তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে সু চির চারটি ছবি প্রকাশ করে জান্তা।
সু চির ছেলে কিম অ্যারিস বলেন, এটি ছোট হলেও ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এটি যেন শেষ পদক্ষেপ না হয়।
অস্ট্রেলীয় অর্থনীতিবিদ শন টার্নেল বলেন, শুধু সু চি নন, মিয়ানমারের কারাগারে আটক প্রায় ২০ হাজার রাজনৈতিক বন্দি। তাঁদের বেঁচে থাকার প্রমাণ প্রয়োজন।
অং সান সু চিকে সামরিক অভ্যুত্থানের পর একাধিক মামলায় ৩০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সম্প্রতি তাঁকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি হিসেবে রাখার কথা জানিয়েছে জান্তা সরকার।
তবে তাঁর ছেলে কিম অ্যারিস বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে তাঁর মা আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাননি। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ নেই।

সু চি এর আগেও মিয়ানমারের সামরিক সরকারের অধীনে ১৫ বছরের বেশি সময় গৃহবন্দী ছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতার পর নির্বাচিত সরকারের প্রধান ছিলেন।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির চেষ্টা
দেশটির সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং এখন সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকারের রাষ্ট্রপতি। তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি তিনি ভারত, চীন ও থাইল্যান্ড সফর করেন।
জান্তা সরকার আসিয়ানের সঙ্গেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইছে। আসিয়ান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ দেশের জোট। অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের জান্তাকে আসিয়ানের আনুষ্ঠানিক বৈঠক থেকে দূরে রাখা হয়েছে। গত মাসে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাঁচ বছর পর প্রথমবার আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারলে তা জান্তা সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে দেশটির বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)।
জান্তা সরকারের রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি বলেছেন, তাঁর সরকার ১৩টি সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করেছে।
তবে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সাই কিয়ি জিন সো বলেন, ‘রাজনৈতিক নাটক’ ছাড়া এসব উদ্যোগকে আর কিছু বলা যায় না। মিয়ানমারে শান্তি প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
অস্ট্রেলীয় অর্থনীতিবিদ শন টার্নেল বলেন, দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে সামরিক বাহিনীর পক্ষে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত শান্তির পথেই যেতে হবে মিয়ানমারকে।
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, আল-জাজিরা, দ্য ডিপ্লোম্যাট
.png)






