ভারতের বিরোধিতায় তিন বছরেও ব্রিকসের সদস্য হতে পারেনি পাকিস্তান
স্ট্রিম ডেস্ক

ব্রিকসে যোগ দিতে ২০২৩ সালে আবেদন করে পাকিস্তান। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জোটটিতে যোগ দিতে চায় দেশটি। তবে ভারতের বিরোধিতার কারণে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সদস্য হতে পারেনি। খবর এনডিটিভি
নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে এবং বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ওপর নির্ভরতা কমাতে পাকিস্তান ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৫৮ কোটি ডলারের শেয়ার কিনেছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আবেদন করার কথা জানান। তখন তিনি ব্রিকসকে ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ব্রিকসের ‘বেশির ভাগ’ সদস্যের সঙ্গে তাদের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সদস্য হতে পারলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
পাকিস্তান আশা প্রকাশ করেছিল, অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি ব্রিকসের অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের আবেদন বিবেচনা করা হবে।
ব্রিকসে যোগ দিতে সদস্যদেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি জানিয়েছিলেন, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো ও বেইজিংয়ের সমর্থনও পেয়েছে। কিন্তু ভারতের বিরোধিতার কারণে সেই সমর্থন এখনো দেশটিকে ব্রিকসের সদস্য করতে পারেনি। কারণ, নতুন সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সব বিদ্যমান সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন। ফলে ভারতের আপত্তি থাকলে পাকিস্তানের আবেদন এগিয়ে নেওয়া কঠিন।
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জোটভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তান ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করা ২৯টি দেশের একটি। দেশটির এই আবেদন এমন সময়ে করা হয়, যখন বৈশ্বিক দক্ষিণের প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট হিসেবে ব্রিকসের গুরুত্ব বাড়ছে। সম্প্রসারিত ব্রিকস এখন বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে জোটভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপি বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ।

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট হিসেবে পরিচিত ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। শুরুতে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনকে নিয়ে জোটটি গঠিত হয়। ২০০৯ সালে রাশিয়ায় ব্রিকসের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা জোটটিতে যোগ দেয়।
পরবর্তী সময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ইথিওপিয়া ও ইরান ব্রিকসে যোগ দেয়। ২০২৫ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়াও জোটটির সদস্য। নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার পর গত বছর ব্রিকস আরও সম্প্রসারিত হয়ে ব্রিকস+ নামে পরিচিত হয়।
.png)






