জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইরানে ইন্টারনেট ফের চালুর ব্যাপারে মাস্কের সঙ্গে বসবেন ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০০: ০৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে ইরানজুড়ে গত চারদিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইরানের বন্ধ করা ইন্টারনেট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক স্টারলিংকের মালিক ইলন মাস্কের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

গতকাল রোববার ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইলন মাস্কের সঙ্গে ইরানে ইন্টারনেট পুনরায় চালুর বিষয়ে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পেসএক্সের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন—মাস্ক ও তাঁর কোম্পানি এ কাজের জন্য খুবই উপযুক্ত। তবে এই ব্যাপারে বক্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে মাস্ক বা তাঁর কোম্পানি স্পেসএক্স সাড়া দেয়নি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে ইরানে কী ঘটছে তার প্রকৃত তথ্য জানা যাচ্ছে না। তবে চলমান বিক্ষোভকে ২০২২ সালের পর দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এটি সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ট্রাম্পের কর আইনের বিরোধিতা করায় মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্যোক্তা মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক আবার উষ্ণ হয়েছে মনে করা হচ্ছে। চলতি মাসে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-অ্যা-লাগো রিসোর্টে দুইজনকে একসঙ্গে নৈশভোজে দেখা গেছে। এছাড়াও, আজ সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের টেক্সাসে একটি স্পেসএক্স স্থাপনা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

এদিকে, ইরান সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলতে সহায়তার জন্য স্টারলিংক সরবরাহের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন মাস্ক। ২০২২ সালের বিক্ষোভের সময়ও এমনটা হয়েছিল। সে সময় ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন ইরান সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন মাস্কের সঙ্গে আলোচনা করেন ইরানে স্টারলিংক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। স্টারলিংক স্যাটেলাইট পরিষেবা ইউক্রেনসহ অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ বা অস্থিতিশীল অঞ্চলেও ব্যবহৃত হয়।

রয়টার্স জানায়, ২০২২ সালে ইউক্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানের সময় মাস্ক স্টারলিংক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে ধীরে ধীরে তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৮ জন সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করেছে। এছাড়া দুই সপ্তাহব্যাপী চলা বিক্ষোভে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবশ্য ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কতজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন তা প্রকাশ করেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০০ সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত