ফোন সাইলেন্ট। না ভাইব্রেশন, না নোটিফিকেশন। তবু কাজের ফাঁকে, আড্ডার মাঝখানে হাতটা নিজে থেকেই চলে যায় ফোনের দিকে। লক খুলে স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি; না, কোনো নতুন নোটিফিকেশন নেই। কয়েক মিনিট পর আবারও একই কাজ। পরিচিত লাগছে? আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন এমন হয়?
স্ট্রিম ডেস্ক

পকেটে বা টেবিলে রাখা ফোনটা একদম চুপচাপ। কোনো টুংটাং শব্দ নেই, স্ক্রিনের আলোও জ্বলে ওঠেনি। তবুও কাজের ফাঁকে কিংবা আড্ডার মাঝে আমাদের হাতটা অবচেতনভাবেই ফোনের দিকে চলে যায়। লক খুলে স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি; না, কোনো নতুন নোটিফিকেশন নেই। তবুও কিছুক্ষণ পর আবারও একই কাজ!
আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন এমন হয়? এটা কি নিছকই অভ্যাস? নাকি এর পেছনে কাজ করছে আমাদের মস্তিষ্কের কোনো খেলা? চলুন, এই ‘অকারণ ফোন দেখা’র পেছনের বিজ্ঞানটা একটু জেনে নেওয়া যাক।
গভীরে গেলে দেখা যায়, আমাদের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামে এক ধরনের হরমোন আছে, এটি মূলত প্রত্যাশা ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে কাজ করে। ডোপামিন আমাদের শুধু ভালো অনুভব করায় না, একই অভ্যাস বারবার করতে মস্তিষ্ককে শেখায়।
যখন আমরা ফোনে কোনো লাইক, কমেন্ট বা মেসেজ দেখি, তখন মস্তিষ্কে ডোপামিন নিসৃত হয় এবং আমাদের ভালো লাগে। এই ‘ভালো লাগার’ আশায় আমরা বারবার ফোন চেক করি। অনেক সময় বিষয়টা শুধু ‘ভালো লাগা’য় সীমাবদ্ধ নয়, এটা আসলে আমাদের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম-এর সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।
বিজ্ঞানীরা একে ‘স্লট মেশিন ইফেক্ট’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। জুয়াড়ি যেমন জেতার আশায় বারবার স্লট মেশিনের হ্যান্ডেল টানে, আমরাও তেমনি নতুন কোনো নোটিফিকেশনের আশায় বারবার স্ক্রিন রিফ্রেশ করি।
অন্যদিকে আছে ‘ফোমো’, ফেয়ার অফ মিসিং আউট। আমাদের অবচেতন মনে সবসময় একটা ভয় কাজ করে ‘আমি কি জরুরি কিছু মিস করলাম?’ বন্ধুরা কোথায় আড্ডা দিচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন কী ট্রেন্ড চলছে, কিংবা জরুরি কোনো ইমেইল এল কি না! এই উদ্বেগও কিছুক্ষণ পর পর ফোন চেক করার কারণ হতে পারে।
আমাদের সবাইকে এখন বিভিন্ন কারণে বেশি সময় ধরে ফোন ব্যবহার করতে হয়। এর ফলে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র ক্রনিক অ্যালার্ট মোডে চলে যায়। মানে, মস্তিষ্ক মনে করে, যেকোনো সময় কিছু ঘটতে পারে। এর ফলেই ঘটে ‘ফ্যান্টম ভাইব্রেশন সিনড্রোম’।

আসলে কোনো নোটিফিকেশন নেই, কিন্তু মস্তিষ্ক এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে সংকেতের জন্য অপেক্ষা করতে যে, সামান্য কাপড়ের নড়াচড়া বা পেশির টানকেও সে ফোনের ভাইব্রেশন হিসেবে ব্যাখ্যা করে ফেলে।
লিফটের ভেতর কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা, জ্যামে বসে থাকা, কিংবা অপরিচিত পরিবেশে একা দাঁড়িয়ে থাকার মুহূর্তের মতো ছোট ছোট পরিস্থিতিগুলোতেই মানুষ সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি বোধ করে। কী করব, কোথায় তাকাব, কাউকে চোখে চোখে তাকাতে হবে কি না, এই দ্বিধা থেকে বাঁচতেই ফোনটা অনেকের সামনে আসে।
স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকাটা তখন এক ধরনের সামাজিক ঢাল। এতে আমরা অপ্রস্তুত নীরবতাও এড়িয়ে যেতে পারি। ধীরে ধীরে স্ক্রিনে চোখ রাখা ‘নিরাপদ আচরণ’ হিসেবে গেঁথে যায়, ফোন না দেখলে যেন অস্বস্তিটাই চোখে পড়ে।
এই অভ্যাসটা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়। একসময় আর কোনো বিশেষ কারণ লাগে না ফোন তোলার। হাত নিজে থেকেই পকেট বা ব্যাগে চলে যায়। একে বলা যায় আচরণগত ‘মাসল মেমোরি’। বছরের পর বছর একই নড়াচড়া করতে করতে মস্তিষ্ক আর সিদ্ধান্ত নেয় না। তখন নোটিফিকেশন ন আসলেও ফোন চেক করাই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায়।
দিনশেষে স্মার্টফোন আমাদের জীবন নিঃসন্দেহে সহজ করেছে। কিন্তু এই সুবিধার বিনিময়ে ধীরে ধীরে আমরা কাজ করার মনোযোগ হারাচ্ছি। এই ‘ফ্যান্টম চেকিং’ বা অকারণে ফোন দেখার অভ্যাসটি অজান্তেই অনেক মানুষকে কিছুটা হলেও বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে।
এই অভ্যাস ভাঙা সহজ নয়, কারণ এটা শুধু ইচ্ছার বিষয় নয়; এটা অভ্যাস, অভ্যস্ত মস্তিষ্ক আর আকর্ষণের ফল। তবু অসম্ভবও নয়। পরেরবার যখনই কোনো কারণ ছাড়াই হাতটা ফোনের দিকে যাবে, নিজেকে একবার থামিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে, ‘এখন কি সত্যিই এটা দেখা জরুরি?’
আর সব সময় স্ক্রিনে চোখ রাখার দরকার নেই। ফোনটা পকেটে থাকুক, টেবিলে থাকুক; আমরা থাকি বর্তমানে। চোখের সামনে থাকা মানুষগুলো, ছোট ছোট মুহূর্ত, আর নিজের ভেতরের নীরবতার দিকেই একটু বেশি মন দিই। এই সামান্য বদলই ধীরে ধীরে আমাদের মনোযোগ আর মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।

পকেটে বা টেবিলে রাখা ফোনটা একদম চুপচাপ। কোনো টুংটাং শব্দ নেই, স্ক্রিনের আলোও জ্বলে ওঠেনি। তবুও কাজের ফাঁকে কিংবা আড্ডার মাঝে আমাদের হাতটা অবচেতনভাবেই ফোনের দিকে চলে যায়। লক খুলে স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি; না, কোনো নতুন নোটিফিকেশন নেই। তবুও কিছুক্ষণ পর আবারও একই কাজ!
আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন এমন হয়? এটা কি নিছকই অভ্যাস? নাকি এর পেছনে কাজ করছে আমাদের মস্তিষ্কের কোনো খেলা? চলুন, এই ‘অকারণ ফোন দেখা’র পেছনের বিজ্ঞানটা একটু জেনে নেওয়া যাক।
গভীরে গেলে দেখা যায়, আমাদের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামে এক ধরনের হরমোন আছে, এটি মূলত প্রত্যাশা ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে কাজ করে। ডোপামিন আমাদের শুধু ভালো অনুভব করায় না, একই অভ্যাস বারবার করতে মস্তিষ্ককে শেখায়।
যখন আমরা ফোনে কোনো লাইক, কমেন্ট বা মেসেজ দেখি, তখন মস্তিষ্কে ডোপামিন নিসৃত হয় এবং আমাদের ভালো লাগে। এই ‘ভালো লাগার’ আশায় আমরা বারবার ফোন চেক করি। অনেক সময় বিষয়টা শুধু ‘ভালো লাগা’য় সীমাবদ্ধ নয়, এটা আসলে আমাদের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম-এর সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।
বিজ্ঞানীরা একে ‘স্লট মেশিন ইফেক্ট’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। জুয়াড়ি যেমন জেতার আশায় বারবার স্লট মেশিনের হ্যান্ডেল টানে, আমরাও তেমনি নতুন কোনো নোটিফিকেশনের আশায় বারবার স্ক্রিন রিফ্রেশ করি।
অন্যদিকে আছে ‘ফোমো’, ফেয়ার অফ মিসিং আউট। আমাদের অবচেতন মনে সবসময় একটা ভয় কাজ করে ‘আমি কি জরুরি কিছু মিস করলাম?’ বন্ধুরা কোথায় আড্ডা দিচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন কী ট্রেন্ড চলছে, কিংবা জরুরি কোনো ইমেইল এল কি না! এই উদ্বেগও কিছুক্ষণ পর পর ফোন চেক করার কারণ হতে পারে।
আমাদের সবাইকে এখন বিভিন্ন কারণে বেশি সময় ধরে ফোন ব্যবহার করতে হয়। এর ফলে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র ক্রনিক অ্যালার্ট মোডে চলে যায়। মানে, মস্তিষ্ক মনে করে, যেকোনো সময় কিছু ঘটতে পারে। এর ফলেই ঘটে ‘ফ্যান্টম ভাইব্রেশন সিনড্রোম’।

আসলে কোনো নোটিফিকেশন নেই, কিন্তু মস্তিষ্ক এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে সংকেতের জন্য অপেক্ষা করতে যে, সামান্য কাপড়ের নড়াচড়া বা পেশির টানকেও সে ফোনের ভাইব্রেশন হিসেবে ব্যাখ্যা করে ফেলে।
লিফটের ভেতর কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা, জ্যামে বসে থাকা, কিংবা অপরিচিত পরিবেশে একা দাঁড়িয়ে থাকার মুহূর্তের মতো ছোট ছোট পরিস্থিতিগুলোতেই মানুষ সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি বোধ করে। কী করব, কোথায় তাকাব, কাউকে চোখে চোখে তাকাতে হবে কি না, এই দ্বিধা থেকে বাঁচতেই ফোনটা অনেকের সামনে আসে।
স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকাটা তখন এক ধরনের সামাজিক ঢাল। এতে আমরা অপ্রস্তুত নীরবতাও এড়িয়ে যেতে পারি। ধীরে ধীরে স্ক্রিনে চোখ রাখা ‘নিরাপদ আচরণ’ হিসেবে গেঁথে যায়, ফোন না দেখলে যেন অস্বস্তিটাই চোখে পড়ে।
এই অভ্যাসটা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়। একসময় আর কোনো বিশেষ কারণ লাগে না ফোন তোলার। হাত নিজে থেকেই পকেট বা ব্যাগে চলে যায়। একে বলা যায় আচরণগত ‘মাসল মেমোরি’। বছরের পর বছর একই নড়াচড়া করতে করতে মস্তিষ্ক আর সিদ্ধান্ত নেয় না। তখন নোটিফিকেশন ন আসলেও ফোন চেক করাই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায়।
দিনশেষে স্মার্টফোন আমাদের জীবন নিঃসন্দেহে সহজ করেছে। কিন্তু এই সুবিধার বিনিময়ে ধীরে ধীরে আমরা কাজ করার মনোযোগ হারাচ্ছি। এই ‘ফ্যান্টম চেকিং’ বা অকারণে ফোন দেখার অভ্যাসটি অজান্তেই অনেক মানুষকে কিছুটা হলেও বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে।
এই অভ্যাস ভাঙা সহজ নয়, কারণ এটা শুধু ইচ্ছার বিষয় নয়; এটা অভ্যাস, অভ্যস্ত মস্তিষ্ক আর আকর্ষণের ফল। তবু অসম্ভবও নয়। পরেরবার যখনই কোনো কারণ ছাড়াই হাতটা ফোনের দিকে যাবে, নিজেকে একবার থামিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে, ‘এখন কি সত্যিই এটা দেখা জরুরি?’
আর সব সময় স্ক্রিনে চোখ রাখার দরকার নেই। ফোনটা পকেটে থাকুক, টেবিলে থাকুক; আমরা থাকি বর্তমানে। চোখের সামনে থাকা মানুষগুলো, ছোট ছোট মুহূর্ত, আর নিজের ভেতরের নীরবতার দিকেই একটু বেশি মন দিই। এই সামান্য বদলই ধীরে ধীরে আমাদের মনোযোগ আর মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
৯ ঘণ্টা আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
১০ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
১১ ঘণ্টা আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
১ দিন আগে