শিশু খেতে চাইছে না? হাতে ফোন। কান্না থামছে না? চালু ইউটিউব। অনেক বাবা–মায়ের কাছে মোবাইল যেন ‘জাদুর কাঠি’। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস ঝুঁকিপূর্ণ। আবার প্রযুক্তির যুগে শিশুকে পুরোপুরি স্ক্রিন থেকে দূরে রাখাও অসম্ভব। তাই প্রশ্ন হলো, শিশুর স্ক্রিনটাইম বা মোবাইল দেখার সীমারেখা ঠিক কোথায় টানা উচিত?
স্ট্রিম ডেস্ক

শিশু খেতে চাইছে না? হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ফোন। কান্না থামছে না? সঙ্গে সঙ্গে চালু ইউটিউব। অনেক বাবা-মায়ের কাছে এই মোবাইল ফোন বা ট্যাবকে ‘জাদুর কাঠি’ মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাসের ভেতরে লুকিয়ে আছে বড় ঝুঁকি।
শিশুদের এই অতিরিক্ত স্ক্রিনে ডুবে থাকাকে কেউ কেউ বলছেন ‘ডিজিটাল আফিম’। আবার প্রযুক্তির এই যুগে শিশুদের পুরোপুরি প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখাও বাস্তবে সম্ভব নয়। তাই প্রশ্ন হলো, আসলে একজন শিশুর স্ক্রিনটাইম বা মোবাইল দেখার সীমারেখা ঠিক কোথায় টানা উচিত?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এবং আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স শিশুদের স্ক্রিনটাইম নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, জন্ম থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই ১৮ মাস বা দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের হাতে কোনোভাবেই মোবাইল বা ট্যাব দেওয়া উচিত নয়। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলাকে তারা ব্যতিক্রম হিসেবে দেখেছেন।
দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা স্ক্রিনটাইম রাখা যেতে পারে। তবে সেই এক ঘণ্টাও যেন শিক্ষামূলক বা ভালো মানের কন্টেন্ট হয়। পাশাপাশি অভিভাবকদের পাশে বসে শিশুর সঙ্গে স্ক্রিন দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ছয় বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া না হলেও খেয়াল রাখতে হবে, স্ক্রিন যেন তাদের ঘুম, খেলাধুলা বা পড়াশোনার সময় নষ্ট না করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম শিশুদের শারীরিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের ওপর চাপ পড়ে। এর কারণে অনেক শিশুর মধ্যে ‘মায়োপিয়া’, অর্থাৎ দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার সমস্যা বাড়ছে।
এছাড়া স্ক্রিন থেকে নিসৃত নীল আলো বা ব্লু-লাইট শিশুদের ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। ফলে শিশুদের ঘুমের ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যায় এবং গভীর ঘুম কমে যায়।

অন্যদিকে, বেশি সময় স্ক্রিনে থাকায় শিশুরা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যায়। এর ফলে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। এমআরআই স্ক্যানভিত্তিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম শিশুদের মস্তিষ্কের ‘হোয়াইট ম্যাটার’-এর গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা ভাষা শেখা ও পড়ার দক্ষতা কমিয়ে দেয়।
মনোবিজ্ঞানীরা স্মার্টফোন আসক্তিকে অনেক সময় মাদকের নেশার সঙ্গে তুলনা করেন। কার্টুন দেখা বা গেম খেলার সময় শিশুর মস্তিষ্ক থেকে ‘ডোপামিন’ নামের এক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সাময়িক আনন্দ দেয়। সেই আনন্দ বারবার পেতে গিয়ে শিশু ধীরে ধীরে স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম শিশুদের মনোযোগের ঘাটতি বা ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট’-এর অন্যতম কারণ। ফলে তারা কোনো একটি কাজে বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। একইসঙ্গে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ডুবে থাকতে থাকতে বাস্তব জীবনের মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও আছে। ফলে সামাজিক দক্ষতা কমে, চোখে চোখ রেখে কথা বলতে সংকোচ হয়, শিশুরা ধীরে ধীরে একা হয়ে পড়ে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা সহিংস বা মারপিটধর্মী গেম বেশি খেলে, তাদের মধ্যে রাগ, অস্থিরতা ও আক্রমণাত্মক আচরণ বেশি দেখা যায়।
ছোটদের জন্য বড়দের দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হলো মনোযোগ। প্রায় একশ বছর আগে ইতালীয় চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ মারিয়া মন্তেসরি বলেছিলেন, শিশুরা যেভাবে পৃথিবীকে আবিষ্কার করে, সেই প্রক্রিয়ায় বড়রা মনোযোগ দিলে সেটাই তাদের শেখার সবচেয়ে বড় শক্তি।
শিশুর সঙ্গে সময় কাটানোর সময় পুরো মনোযোগ দেওয়া জরুরি। শিশুদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখতে হলে আগে বাবা–মাকেই নিজেদের ফোন ব্যবহার কমাতে হবে। কারণ শিশুরা বড়দের দেখেই শেখে। ঘরের মধ্যে ‘নো স্ক্রিন জোন’ তৈরি করা যেতে পারে, যেমন খাওয়ার টেবিলে বা বেডরুমে কোনো ফোন থাকবে না।
স্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে শিশুদের বই পড়া, ছবি আঁকা বা বাইরের মাঠে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তির আলো যেন শিশুর শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ ও বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত না করতে পারে।

শিশু খেতে চাইছে না? হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ফোন। কান্না থামছে না? সঙ্গে সঙ্গে চালু ইউটিউব। অনেক বাবা-মায়ের কাছে এই মোবাইল ফোন বা ট্যাবকে ‘জাদুর কাঠি’ মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাসের ভেতরে লুকিয়ে আছে বড় ঝুঁকি।
শিশুদের এই অতিরিক্ত স্ক্রিনে ডুবে থাকাকে কেউ কেউ বলছেন ‘ডিজিটাল আফিম’। আবার প্রযুক্তির এই যুগে শিশুদের পুরোপুরি প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখাও বাস্তবে সম্ভব নয়। তাই প্রশ্ন হলো, আসলে একজন শিশুর স্ক্রিনটাইম বা মোবাইল দেখার সীমারেখা ঠিক কোথায় টানা উচিত?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এবং আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স শিশুদের স্ক্রিনটাইম নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, জন্ম থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই ১৮ মাস বা দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের হাতে কোনোভাবেই মোবাইল বা ট্যাব দেওয়া উচিত নয়। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলাকে তারা ব্যতিক্রম হিসেবে দেখেছেন।
দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা স্ক্রিনটাইম রাখা যেতে পারে। তবে সেই এক ঘণ্টাও যেন শিক্ষামূলক বা ভালো মানের কন্টেন্ট হয়। পাশাপাশি অভিভাবকদের পাশে বসে শিশুর সঙ্গে স্ক্রিন দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ছয় বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া না হলেও খেয়াল রাখতে হবে, স্ক্রিন যেন তাদের ঘুম, খেলাধুলা বা পড়াশোনার সময় নষ্ট না করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম শিশুদের শারীরিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের ওপর চাপ পড়ে। এর কারণে অনেক শিশুর মধ্যে ‘মায়োপিয়া’, অর্থাৎ দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার সমস্যা বাড়ছে।
এছাড়া স্ক্রিন থেকে নিসৃত নীল আলো বা ব্লু-লাইট শিশুদের ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। ফলে শিশুদের ঘুমের ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যায় এবং গভীর ঘুম কমে যায়।

অন্যদিকে, বেশি সময় স্ক্রিনে থাকায় শিশুরা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যায়। এর ফলে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। এমআরআই স্ক্যানভিত্তিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম শিশুদের মস্তিষ্কের ‘হোয়াইট ম্যাটার’-এর গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা ভাষা শেখা ও পড়ার দক্ষতা কমিয়ে দেয়।
মনোবিজ্ঞানীরা স্মার্টফোন আসক্তিকে অনেক সময় মাদকের নেশার সঙ্গে তুলনা করেন। কার্টুন দেখা বা গেম খেলার সময় শিশুর মস্তিষ্ক থেকে ‘ডোপামিন’ নামের এক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সাময়িক আনন্দ দেয়। সেই আনন্দ বারবার পেতে গিয়ে শিশু ধীরে ধীরে স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম শিশুদের মনোযোগের ঘাটতি বা ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট’-এর অন্যতম কারণ। ফলে তারা কোনো একটি কাজে বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। একইসঙ্গে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ডুবে থাকতে থাকতে বাস্তব জীবনের মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও আছে। ফলে সামাজিক দক্ষতা কমে, চোখে চোখ রেখে কথা বলতে সংকোচ হয়, শিশুরা ধীরে ধীরে একা হয়ে পড়ে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা সহিংস বা মারপিটধর্মী গেম বেশি খেলে, তাদের মধ্যে রাগ, অস্থিরতা ও আক্রমণাত্মক আচরণ বেশি দেখা যায়।
ছোটদের জন্য বড়দের দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হলো মনোযোগ। প্রায় একশ বছর আগে ইতালীয় চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ মারিয়া মন্তেসরি বলেছিলেন, শিশুরা যেভাবে পৃথিবীকে আবিষ্কার করে, সেই প্রক্রিয়ায় বড়রা মনোযোগ দিলে সেটাই তাদের শেখার সবচেয়ে বড় শক্তি।
শিশুর সঙ্গে সময় কাটানোর সময় পুরো মনোযোগ দেওয়া জরুরি। শিশুদের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখতে হলে আগে বাবা–মাকেই নিজেদের ফোন ব্যবহার কমাতে হবে। কারণ শিশুরা বড়দের দেখেই শেখে। ঘরের মধ্যে ‘নো স্ক্রিন জোন’ তৈরি করা যেতে পারে, যেমন খাওয়ার টেবিলে বা বেডরুমে কোনো ফোন থাকবে না।
স্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে শিশুদের বই পড়া, ছবি আঁকা বা বাইরের মাঠে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তির আলো যেন শিশুর শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ ও বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত না করতে পারে।
আজকাল খেলনার দোকানে শুধু ছোট ছেলে-মেয়েদেরই দেখা যায় না, সেখানে পঁচিশ, ত্রিশ এমনকি এর চেয়ে বেশি বয়সীদেরও দেখা মিলছে। এখন তাদেরও দেখা যায় হাসিমুখে বিভিন্ন খেলনা নেড়ে-চেড়ে দেখছেন বা কিনছেন। কোনো শিশুর জন্য নয়, বরং তারা খেলনাটি কিনছেন নিজের জন্যই!
৭ ঘণ্টা আগে
স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম বিতর্কিত ধারণা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই তত্ত্বে বলা হয়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আর কমিউনিজম বনাম পুঁজিবাদের মতো মতাদর্শভিত্তিক থাকবে না।
৯ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা কত টাকা বেতন-ভাতা পান, এ প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বরাবরই কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়। বেতনের বাইরে তাঁরা আর কী কী সুযোগ-সুবিধা পান, রাষ্ট্র তাঁদের পেছনে কী ধরনের খরচ বহন করে, এসব নিয়েও মানুষে
৯ ঘণ্টা আগে
পাঠ্যপুস্তকের ভাষা কোনো নিরীহ বস্তু নয়। এর পেছনে থাকে দৃষ্টিভঙ্গি আর রাষ্ট্রের নীরব উপস্থিতি। আরেকটি সত্য হলো, পাঠ্যবই রচনার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নিরাপত্তা-ভাবনা বড় হয়ে ওঠে: ‘এটা লিখলে বিতর্ক হবে না তো?
১ দিন আগে