
সাংবাদিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭—দুটি আসনে জয় পেয়েছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে একমাত্র তিনিই দুটি আসনে জয় পেয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভোটব্যাংকে বড় ধরনের ধস নামিয়েছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। সারা দেশে অন্তত ৭৫টি আসনে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় ছিলেন প্রায় অর্ধশতাধিক।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করছে বিএনপি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করেছেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

কয়েক ঘণ্টা পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট, অমোচনীয় কালিসহ প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে সন্ধ্যার আগেই। রাতে চলছিল শেষ মুহূর্তের ছোটখাটো কাজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৫টি আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত ও সাবেক নেতা এবং তাঁদের পরিবারের অন্তত ৮৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।

দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। সমসাময়িক রাজনীতি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন পথচলা এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

নির্বাচিত হলে দেশের মাঝারি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কাছে সার-বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ডের দেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। ব্যাংক কার্ডের আদলে মাইক্রোচিপ যুক্ত এই কার্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে কৃষকদের জমি, ফসল, ঋণসহ নানা তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।

রাষ্ট্র বিনির্মাণে ১০টি খাতে বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যেই এসব খাতের ২২টি পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিচার-বিশ্লেষণের পর এসব প্রস্তাব আসন্ন নির্বাচনের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায় দলটি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিত্রদের জন্য আসন ছেড়ে দিলেও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপি। শরিকদের জন্য ছাড়া ১৪টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটি বাদে বাকি ১২টিতেই দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর)। ইতিমধ্যে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন বিতরণের কার্যক্রম শেষের পর্যায়ে। তবে শেষ মুহূর্তে বেশ কিছু আসনে পরিবর্তন এনেছে বিএনপি। যদিও এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পর্যন্ত দেয়নি দলটি।

বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করলেও ছয়টি দলের প্রার্থীরা নিজ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। এর বাইরে চার নেতা দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ায়, তাদের ছয়জন লড়বেন ধানের শীষ নিয়ে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে কথা বলছেন বিএনপির নেতারা। ভোটের লড়াই জিততে তাদের দেওয়া হচ্ছে নানা দিকনির্দেশনা। গতকাল বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ১০৭ প্রার্থী ‘জয়ের দাওয়াই’ নিয়ে ফিরে গেছেন সংসদীয় এলাকায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত ২৭২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এখনো ফাঁকা রাখা হয়েছে ২৮টি আসন। এসব আসনের কিছু যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের ছাড় দেবে এবং বাকি আসনগুলো নিজের ঘরেই রাখছে দলটি। বিএনপি সূত্র বলছে, ফাঁকা আসনের অন্তত ১৩টি বিএনপি নিজের ঘরেই রাখতে যাচ্ছে।

মিত্রদের সঙ্গে আসন সমঝোতার পথে রয়েছে বিএনপি। গত নভেম্বর থেকেই যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিএনপির মিত্র দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ও আলাপ-আলোচনা চলছে। মিত্র দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি দলটি।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জিততে পারে এমন প্রার্থী ঠিক করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ বিবেচনায় ফাঁকা রাখা ২৮টির মধ্যে শরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ আসন রাখতে চাইছে।

বিএনপি চেয়াপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দলটির নেতারা তাঁর অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ জানানোর পর হাসপাতালে ভিড় করছেন অনেকে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ছুটে যান হাসপাতালে।

বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল বাম ও প্রগতিশীল ছয় দলের মোর্চা গণতন্ত্র মঞ্চ। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আসন ভাগাভাগিতে সময়ক্ষেপণের কারণে সেই ‘বন্ধুত্বে’ ফাটল ধরছে বলে জানা গেছে।

দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসুর ভোটে শীর্ষ দুই পদের কোনটিতেই জিততে পারেনি বিএনপির ছাত্র সংগঠনটির প্রার্থীরা। নির্বাচনের পর যেখানে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে আরও যেন নিষ্ক্রিয় হয়েছে সংগঠনটি।