রায়হান রাহিম

ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ কিংবা ডিনার—ইকোনমিক ক্লাস বা জেন্ডার নিউট্রাল হিসাবে বাংলাদেশিদের বিগেস্ট কমফোর্ট ফুড কোনটা? যে কয়টা খাবারের নাম এই তালিকায় আসবে, তার মধ্যে যে আলুভর্তা থাকবে, তা প্রায় চোখ বন্ধ কইরাই বইলা দেয়া যায়। এই দেশে কত রকম যে আলু পাওয়া যায়! ছোটবেলায় আব্বাকে দেখতাম ঘরের আলু ভর্তার ইনচার্জ। কি নতুন আলু আর কি বারো মাইস্যা আলু–আব্বার হাতের আলুভর্তা বরাবরই অমৃত!
আলুভর্তা বাংলাদেশে খালি একটা খাবার না, ইমোশনের নাম। গরীবের সারভাইবাল কিট আর বড়লোকের পরম আয়েশের বিষয়। শীত শেষে বসন্তের এই মৌসুমে বাজারে যখন আলুর কেজি ২০ টাকা চলছে, ঠিক তখনই স্ক্রল করতে করতে একটা বোম্বে সুইটসের একটা বিজ্ঞাপনে চোখ আটকায় গেল! বোম্বে সুইটস বাজারে আনছেন 'Alooz Bhorta' নামের এক প্যাকেটেড আলুভর্তা, যার দাম ১৩৫ টাকা!

বিজ্ঞাপন দেইখা যা বুঝলাম, তা হইল এই প্যাকেটেড আলুভর্তার প্যাকেট ছিঁড়লেই আপনি পাবেন আলুর গুঁড়া, ভাজা পেঁয়াজ, শুকনা মরিচ, সরিষার তেল এবং লবণের ছোট ছোট সব মিনি প্যাক। হাইজিন মেন্টেইন কইরা ভর্তা মাখবার জন্য আছে একটা প্লাস্টিক গ্লাভস আর আলুর গুঁড়াতে পরিমাণ মতো পানি ঢাইলা এইটারে সেদ্ধ আলুর ফিল পাইবার জন্য আছে একটা মেজারমেন্ট প্যাকেট। বিজ্ঞাপনের মূল মেসেজ হইতেছে আলু সেদ্ধ আর পেঁয়াজ কাইটা আলু ভর্তা বানায়া জীবনরে ভর্তা বানানোর চেয়ে এক মিনিটে আলু ভর্তার স্বাদ নিতে পারবেন বোম্বে সুইটসের আলুজ ভর্তায়।

এই বিজ্ঞাপন দেখার পর একটু ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করলাম। ইউটিউব আর ফেসবুকে কয়েকজন ফুড ভ্লগাররে দেখলাম এইটারে রেটিং করতেছেন। কিন্তু আমার মাথায় প্রথম যে বিষয়টা বাড়ি দিল, সেইটা হইতেছে আমি তো কাঁচা পেয়াজ, কাঁচা মরিচ আর ধইনা পাতা দিয়া আলুভর্তা খাই। শুধু আমি না, বাংলাদেশের একেক রিজিয়নে একেকভাবে আলুভর্তা বানানো হয়। একেক অঞ্চলের আলুভর্তার স্বাদও একেক রকম। এসব দেখতে দেখতে হঠাৎ খেয়াল করলাম ১ মিনিটের ইজি আলুজ ভর্তা ঠাস কইরা আমার কাছে ক্রিটিক্যাল হয়া উঠল!
মানলাম আর্বান লাইফ বিজি এবং এই বিজিনেস একটা ফ্যাক্ট, কিন্তু ভাই, এই প্যাকেটেড আলুভর্তা কি আসলেই সময়ের দাবি নাকি এইটা স্রেফ আমাদের লেজিনেসরে ট্রিগার কইরা এক ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনের প্যাকেটে টেস্টের কলোনিয়ালিজম?
আমরা কি আসলেই এতোটা রোবোটিক হয়া উঠতেছি যে দুইটা আলু সেদ্ধ কইরা মাখানোর হ্যাসেলটুকু আমাদের কাছে বিলাসিতা হয়া উঠছে? কম্পারেটিভলি চড়া মূল্যের প্রিমিয়াম প্যাকেটে আমরা আসলে কী কিনতেছি? ফুড না অ্যালিনিয়েশন? মার্কেট কি শেষ পর্যন্ত আমাদের রসনারেও ফ্যাক্টরির ফরমায়েশে আটকায় ফেলবে? চলেন এই লেখাটা পড়তে পড়তে উপরের প্রশ্নগুলার উত্তর তালাশ করি।
শুরুতেই একটা জিনিস ক্লিয়ার করা দরকার। সেইটা হইলো কেন এবং কখন একটা করপোরেট জায়ান্ট কোনো ঐতিহ্যবাহী খাবারকে ফ্যাক্টরির মেশিনে ঢুকায়ে প্যাকেটে বন্দী করবার সিদ্ধান্ত নেয়? এর উত্তর লুকায়ে আছে আমাদের বদলায় যাওয়া সোশ্যাল স্ট্রাকচার আর চিকন কিছু পলিটিক্যাল-ইকোনমিক্যাল স্ট্র্যাটেজির ভেতরে।
কুকিং বা রান্নাবান্না একটা সোশ্যাল রিচুয়াল। আলুভর্তার মতো খাবার বানাইতে যে টাইম আর লেবার লাগে, তা আদতে ফ্যামিলি বন্ডিংয়ের ইম্পর্টেন্ট একটা পার্ট। কিন্তু আরবানাইজেশন যখন আমাদের লাইফ থিকা সেই টাইমটুকু কাইড়া নেয়, তখন এক ধরনের কালচারাল ভ্যাকিউম তৈয়ার হয়। করপোরেটগুলো ঠিক এই মুহূর্তেই আমার লাইফে এন্ট্রি নেয় । তারা জানে, মডার্ন মানুষ এখন আর কুকিংয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় নাই, কিন্তু তার মেমোরিতে ওই টেস্টের প্রতি একটা আদিম টান রইয়া গেছে। তারা মূলত আমাদের এই নস্টালজিয়ারে পণ্যে ট্রান্সফর্ম করে। এইভাবে তারা একটা লিভিং কালচাররে প্রসেসড কালচারে ট্রান্সফর্ম কইরা আমাদের কাছেই উচ্চমূল্যে ফেরত পাঠায়।

এই পুরো প্রক্রিয়াটারে বুঝতে পারেন ম্যাকডোনাল্ডাইজেশন নামের একটা থিয়োরি দিয়া। ম্যাকডোনাল্ডাইজেশন দুনিয়ার অন্যতম বৃহত্তম আমেরিকান ফাস্টফুড চেইন। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত ম্যাকডোনাল্ডসের বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে প্রায় ৪১৮০০টি দোকান রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানী জর্জ রিটজার ১৯৯৩ সালে ম্যাকডোনাল্ডাইজেশন থিয়োরির মাধ্যমে দেখাইছিলেন, যখন কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী কোনো বিষয়কে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন তারা চারটি স্তম্ভের ওপর ভর করে আগায়।
১) ইফিশিয়েন্সি : গুণমানের চেয়ে দ্রুততাকে ম্যাকডোনাল্ডাইজেশনে অধিকতর দক্ষতা হিসেবে প্রচার করা হয়। আলু ভর্তার ক্ষেত্রে আলু ধোয়া, সেদ্ধ করা, খোসা ছাড়ানো আর মাখানোকে ঝামেলা রূপে আপনার সামনে হাজির করে কোম্পানিগুলা। এগুলাকে ইনইফিশিয়েন্ট হিসেবে দেখানোর মাধ্যমে তারা আপনার শ্রমকে অপচয় হিসেবে পোর্ট্রে করে এবং ১ মিনিটে আলু ভর্তা বানানোর সলিউশনকে আপনার সামনে ইফিশিয়েন্সি হিসেবে টোপ দেয়।
২) ক্যালকুলেবিলিটি: ম্যাকডোনাল্ডাইজেশনে কোয়ান্টিটিকে কোয়ালিটির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। আলুজ ভর্তার প্যাকেটে লেখা চারজনের উপযোগী। সাধারণত কনজিউমারকে চারজনের হিসেবটা এমনভাবে গেলানো হয় যেন তিনি ২০ টাকা কেজির আলুর সাথে ১৩৫ টাকার এই পাহাড়সমান পার্থক্যের ইকোনমিক রেশিওটা ভুলে যান।
৩) প্রেডিক্টিবিলিটি: আলুভর্তার আসল স্বাদ তার বৈচিত্র্যে। আগেই বলেছি একেক অঞ্চলে, একেক বাড়ির আলু ভর্তার স্বাদ একেক রকম। কিন্তু করপোরেট যখন এর দখল নেয়, তখন তারা কনজিউমারের জিহ্বাটারে কলোনাইজ কইরা ফেলে। আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই ম্যাকডোনাল্ডসের বার্গার খান না কেন, দেখবেন স্বাদ একই রকম। বোম্বে সুইটসও সেটাই করতে চায়। দেশজুড়ে তারা একই স্বাদ মাইপা দেয়। দেশ বা বিদেশ যেইখানে বইসাই এই আলুজ ভর্তা খাইবেন, স্বাদ দেখবেন একই রকম। এই মনোটোনাস প্রেডিক্টিবিলিটি আমাদের রুচির ফ্রিডমরে মাইরা ফেইলা এক ধরনোর স্বাদের একনায়কতন্ত্র কায়েম করে।
৪) কনট্রেোল: আলুজ ভর্তার প্যাকেটের ভেতর দেওয়া প্লাস্টিক গ্লাভস আর মেজারমেন্ট টুলটা খেয়াল করছেন? এগুলা হইতেছে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ। আপনি নিজের মতো কইরা ভর্তা না বানায়ে, যেনোবা তাদের দেওয়া ইনস্ট্রাকশন অনুযায়ী কাজ করতেছেন। কুকিং একটা ক্রিয়েটিভ কাজ। এই কন্ট্রোলগুলা আপনারে ক্রিয়েটিভ না বানায়ে রোবোটিক প্রসেসের পার্ট কইরা তুলে যেন বা আপনে একটা অ্যাসেম্বলি লাইন ওয়ার্কার মাত্র। যিনি কোম্পানির ফরমায়েশ মতন কতটুক পানি দেবেন, কীভাবে মাখাইবেন তা মাইনা চলতেছেন।
যখন আমরা এই প্যাকেজড স্বাদে ইউজ টু হয়ে পড়ি, তখন আমাদের লোকাল বা ঘরোয়া বৈচিত্র্যময় স্বাদগুলা আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হইতে শুরু করে। কর্পোরেটগুলা তখন আমাদের জিহবাটারে তাদের ল্যাবরেটরি টেস্টের ওপর নির্ভরশীল কইরা তোলে।
বাজারের ২০ টাকা কেজির আলুর সঙ্গে প্যাকেটজাত ১৩৫ টাকার আলুজ ভর্তার তুলনা করলে কেবল যে আলুর দামের পার্থক্য চোখে পড়বে তা না; খেয়াল করলে দেখবেন বোম্বে সুইটস আলুজ ভর্তার প্যাকেটে ভাজা পেঁয়াজ, শুকনা মরিচ, লবণ আর সরিষার তেলের আলাদা সব মিনি প্যাক দিয়ে বিষয়টারে কমপ্লিট সলিউশন হিসেবে হাজির করতেছে।
কিন্তু এই বান্ডেলিংটার ভেতরেই লুকায়ে আছে বিশাল মুনাফার অংক। আলাদাভাবে এই সব উপাদানের খুচরা মূল্য আর প্যাকেটের দামের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান, তা খালি খাবারের জন্য নয়। বরং তারা এই চড়া দামটা আপনার কাছ থেকে রাখতেছে জাস্ট বিকজ তারা আপনার রান্নার পরিশ্রমটা আপনার কাছেই উচ্চমূল্যে পুনরায় বিক্রি করতেছে। তারা একটা সাধারণ পণ্যরে এমনভাবে রিব্র্যান্ডিং করতেছে যে, ভোক্তা তার পেছনের আসল শ্রম বা উপকরণের কথা ভুইলা গিয়া কেবল ব্র্যান্ড এবং সুবিধার মোহে পইড়া যাইতেছে। বড় কোম্পানিগুলো তখনই এই পথে হাঁটে, যখন তারা দেখে যে মধ্যবিত্ত এখন রান্নাঘরের ঝক্কি এড়াতে যে কোনো মূল্যে স্বাচ্ছন্দ্য কিনতে আগ্রহী।
এখন হয়তো আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে, প্যাকেটেড ইজি এই সলিউশন থিকা ‘ঝামেলা’র ওই ট্র্যাডিশনাল নিয়ম জরুরি কেন? যান্ত্রিক জীবনের এই এতটুকু আরামরে কেন আমাদের সন্দেহের চোখে দেখা দরকার–চলেন এখন সেইটা নিয়া একটু আলাপ করি।
পেঁয়াজ কাটার সময় যে সিন প্রোপেনথিয়াল এস অক্সাইড গ্যাস বের হয়, তা চোখে জ্বালাপোড়া কইরা চোখ দিয়া পানি বাইর করে। কিন্তু এইটা যে শুধু চোখে জ্বালাপোড়া ঘটায় তা না, এর সাথে চোখের নালি পরিষ্কারের কাজটাও কইরা দেয়। একইভাবে, সরিষার তেলের ঝাঁঝালো ঘ্রাণ সাইনাস পরিষ্কার রাখতে এবং ফুসফুসের বায়ু চলাচলের পথ ইজি হেল্প করে। মরিচ যে ঝাঁঝ হয়, এর কারন মরিচে ক্যাপসাইসিন নামে একটা জিনিস থাকে। এই জিনিসটা আপনার মেটাবলিজম বাড়ায় এবং শরীরের ব্লাড ফ্লো নেক্সট লেভেলে নিয়া যাইতে কাজ করে।

সো, এগুলারে যে বা যারা খালি ঝামেলা হিসাবে দেখাইতে চায়, তাদের কোন ঝামেলা আছে কীনা এই সন্দেহটা অটো চইলা আসা কি অমূলক?
আর আমরা যখন পেঁয়াজ কাটি বা সরিষার তেলের ঝাঁঝ নাকে নিই, তখন আমাদের ব্রেইন ডাইজেস্টিভ এনজাইম নিঃসরণের সিগন্যাল পায়। এই ঘ্রাণ আর অনুভূতিগুলা আমাদের শরীররে খাবার হজম করার জন্য একদম ভেতর থিকা প্রস্তুত করে। কিন্তু প্যাকেটেড আলুভর্তা হইলো একটা ডেড ফুড, যার কোনো ঘ্রাণ নাই, কোনো জৈবিক প্রস্তুতি নাই। শরীর হুট কইরা পাওয়া এই প্রসেসড খাবারগুলারে ঠিকঠাক আপন কইরা নিতে পারে না। ফলে আপনি পেট ভরার তৃপ্তি পাইলেও মেটাবলিজম বা শরীরের সেই আদিম সম্পর্কের জায়গাটা প্যাকেটেড ফুডে তৈরি হয় না।
রান্না হইতেছে কালচারাল পারফরম্যান্সের ঘটনা। যখন আপনি আলু সেদ্ধ করেন বা মরিচ পোড়ান, তখন আপনি আপনার পূর্বপুরুষদের কমিউনাল মেমোরির সাথে কানেক্টেড হয়ে যান। প্যাকেটের গুড়া আলুতে গরম পানি ঢালা সেই হিস্টোরিক্যাল কানেকশনটারে ছিঁড়া ফেলে। যারা একা থাকেন, এমন মানুষের জন্য রান্না করাটা স্রেফ ক্ষুধা মেটানোর জিনিস না, এইটা মাঝে মাঝে নিজের একজিস্টেন্সরে একনোলেজ করারও একটা মিডিয়াম হিসেবে কাজ করে। যা আপনারে অনলি কনজিউমার আইডেন্টিটিতে আটকায় না রাইখা ক্রিয়েটর আইডেন্টিটিতে আপলিফট করে।
কিন্তু এই যে কর্পোরেটগুলা আপনার আমার হাতে একটা প্লাস্টিক গ্লাভস ধরাইয়া দিয়া বলতেছে এক মিনিটে ভর্তা মাখাইয়া ফেলেন, এই যান্ত্রিকতায় আমরা আমাদের খাবারের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাইতেছি। আগে যখন নিজে ভর্তা বানাইতাম, পুরা জিনিসের ওপর আমাদের একটা কর্তৃত্ব ছিল। এখন ল্যাবরেটরি থেকে ঠিক কইরা দেওয়া একটা মণ্ড আপনার সামনে হাজির করা হইছে। আপনি আর এই খাবারের ক্রিয়েটর না, আপনি স্রেফ একজন অ্যাসেম্বলি লাইন ওয়ার্কার, যিনি কোম্পানির ইনস্ট্রাকশন অনুযায়ী কতটুক পানি দিবেন আর কেমনে মাখাইবেন তা মাইনা চলতেছেন। এই প্রসেসটা আপমাদেরকে আমাদের নিজস্ব ক্রিয়েটিভিটি আর লেবারের জয়নেস থিকা এলিনিয়েটেড কইরা দিয়া, স্রেফ একটা ফিডিং মেশিনে ট্রান্সফর্মড করতেছে।

আরেকটা বিষয় খেয়াল করেন! যে সময়টুকুতে আলু সেদ্ধ হইতো বা পেঁয়াজ কাটা হইতো, সেই সময়টুকুতে হয়তো ফ্যামিলি মেম্বার বা পাশের মানুষের সাথে দুইটা কথা হইতো, টুকটাক গল্প হইতো। প্যাকেটেড খাবার সেই সময়টুকু কাইড়া নিয়া আমাদের একটা মেশিনারি লোনলিনেসের দিকে ঠেইলা দিতেছে। যা কিছুরে আমরা ঝামেলা বইলা এড্রেস করতেছি সেই ঝামেলার অভাব আমাদের সোসাইটিরে আরো বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক আর যান্ত্রিক কইরা তুলতেছে। আচ্ছা তবে কি আমরা চড়া মুল্যে আরাম কিনতে গিয়া আমাদের বাঁইচা থাকার স্বাদটারেই একটু একটু হারাইয়া ফেলতেছি?
আমরা এমন একটা সময়ের ভেতর দিয়ে যাইতেছি, যেইখানে টাইম ইজ মানি। কিন্তু এইটাও আপনার আমার স্বীকার করতে হবে যে কর্পোরেটের কাছে স্বাদের বন্ধকী লং রানে দেশি ফুড কালচারকে মনোটোনাস পজিশনে নিয়ে আসতে পারে। আমরা কি এইটার কন্সিকোয়েন্স ট্যাকেল করতে পারবো?
পারবোনা মেবি। তাই বলি করপোরেটের কাছে জিহ্বাটারে সারেন্ডার কইরেন না। একটু প্যারা হইলেও দুইটা আলু সেদ্ধ আর পেঁয়াজ মরিচ কাটার হ্যাসেলটুকু নেন। এটলিস্ট লাইফটারে বোরিং হবার হাত থিকা রক্ষা করেন।

ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ কিংবা ডিনার—ইকোনমিক ক্লাস বা জেন্ডার নিউট্রাল হিসাবে বাংলাদেশিদের বিগেস্ট কমফোর্ট ফুড কোনটা? যে কয়টা খাবারের নাম এই তালিকায় আসবে, তার মধ্যে যে আলুভর্তা থাকবে, তা প্রায় চোখ বন্ধ কইরাই বইলা দেয়া যায়। এই দেশে কত রকম যে আলু পাওয়া যায়! ছোটবেলায় আব্বাকে দেখতাম ঘরের আলু ভর্তার ইনচার্জ। কি নতুন আলু আর কি বারো মাইস্যা আলু–আব্বার হাতের আলুভর্তা বরাবরই অমৃত!
আলুভর্তা বাংলাদেশে খালি একটা খাবার না, ইমোশনের নাম। গরীবের সারভাইবাল কিট আর বড়লোকের পরম আয়েশের বিষয়। শীত শেষে বসন্তের এই মৌসুমে বাজারে যখন আলুর কেজি ২০ টাকা চলছে, ঠিক তখনই স্ক্রল করতে করতে একটা বোম্বে সুইটসের একটা বিজ্ঞাপনে চোখ আটকায় গেল! বোম্বে সুইটস বাজারে আনছেন 'Alooz Bhorta' নামের এক প্যাকেটেড আলুভর্তা, যার দাম ১৩৫ টাকা!

বিজ্ঞাপন দেইখা যা বুঝলাম, তা হইল এই প্যাকেটেড আলুভর্তার প্যাকেট ছিঁড়লেই আপনি পাবেন আলুর গুঁড়া, ভাজা পেঁয়াজ, শুকনা মরিচ, সরিষার তেল এবং লবণের ছোট ছোট সব মিনি প্যাক। হাইজিন মেন্টেইন কইরা ভর্তা মাখবার জন্য আছে একটা প্লাস্টিক গ্লাভস আর আলুর গুঁড়াতে পরিমাণ মতো পানি ঢাইলা এইটারে সেদ্ধ আলুর ফিল পাইবার জন্য আছে একটা মেজারমেন্ট প্যাকেট। বিজ্ঞাপনের মূল মেসেজ হইতেছে আলু সেদ্ধ আর পেঁয়াজ কাইটা আলু ভর্তা বানায়া জীবনরে ভর্তা বানানোর চেয়ে এক মিনিটে আলু ভর্তার স্বাদ নিতে পারবেন বোম্বে সুইটসের আলুজ ভর্তায়।

এই বিজ্ঞাপন দেখার পর একটু ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করলাম। ইউটিউব আর ফেসবুকে কয়েকজন ফুড ভ্লগাররে দেখলাম এইটারে রেটিং করতেছেন। কিন্তু আমার মাথায় প্রথম যে বিষয়টা বাড়ি দিল, সেইটা হইতেছে আমি তো কাঁচা পেয়াজ, কাঁচা মরিচ আর ধইনা পাতা দিয়া আলুভর্তা খাই। শুধু আমি না, বাংলাদেশের একেক রিজিয়নে একেকভাবে আলুভর্তা বানানো হয়। একেক অঞ্চলের আলুভর্তার স্বাদও একেক রকম। এসব দেখতে দেখতে হঠাৎ খেয়াল করলাম ১ মিনিটের ইজি আলুজ ভর্তা ঠাস কইরা আমার কাছে ক্রিটিক্যাল হয়া উঠল!
মানলাম আর্বান লাইফ বিজি এবং এই বিজিনেস একটা ফ্যাক্ট, কিন্তু ভাই, এই প্যাকেটেড আলুভর্তা কি আসলেই সময়ের দাবি নাকি এইটা স্রেফ আমাদের লেজিনেসরে ট্রিগার কইরা এক ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনের প্যাকেটে টেস্টের কলোনিয়ালিজম?
আমরা কি আসলেই এতোটা রোবোটিক হয়া উঠতেছি যে দুইটা আলু সেদ্ধ কইরা মাখানোর হ্যাসেলটুকু আমাদের কাছে বিলাসিতা হয়া উঠছে? কম্পারেটিভলি চড়া মূল্যের প্রিমিয়াম প্যাকেটে আমরা আসলে কী কিনতেছি? ফুড না অ্যালিনিয়েশন? মার্কেট কি শেষ পর্যন্ত আমাদের রসনারেও ফ্যাক্টরির ফরমায়েশে আটকায় ফেলবে? চলেন এই লেখাটা পড়তে পড়তে উপরের প্রশ্নগুলার উত্তর তালাশ করি।
শুরুতেই একটা জিনিস ক্লিয়ার করা দরকার। সেইটা হইলো কেন এবং কখন একটা করপোরেট জায়ান্ট কোনো ঐতিহ্যবাহী খাবারকে ফ্যাক্টরির মেশিনে ঢুকায়ে প্যাকেটে বন্দী করবার সিদ্ধান্ত নেয়? এর উত্তর লুকায়ে আছে আমাদের বদলায় যাওয়া সোশ্যাল স্ট্রাকচার আর চিকন কিছু পলিটিক্যাল-ইকোনমিক্যাল স্ট্র্যাটেজির ভেতরে।
কুকিং বা রান্নাবান্না একটা সোশ্যাল রিচুয়াল। আলুভর্তার মতো খাবার বানাইতে যে টাইম আর লেবার লাগে, তা আদতে ফ্যামিলি বন্ডিংয়ের ইম্পর্টেন্ট একটা পার্ট। কিন্তু আরবানাইজেশন যখন আমাদের লাইফ থিকা সেই টাইমটুকু কাইড়া নেয়, তখন এক ধরনের কালচারাল ভ্যাকিউম তৈয়ার হয়। করপোরেটগুলো ঠিক এই মুহূর্তেই আমার লাইফে এন্ট্রি নেয় । তারা জানে, মডার্ন মানুষ এখন আর কুকিংয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় নাই, কিন্তু তার মেমোরিতে ওই টেস্টের প্রতি একটা আদিম টান রইয়া গেছে। তারা মূলত আমাদের এই নস্টালজিয়ারে পণ্যে ট্রান্সফর্ম করে। এইভাবে তারা একটা লিভিং কালচাররে প্রসেসড কালচারে ট্রান্সফর্ম কইরা আমাদের কাছেই উচ্চমূল্যে ফেরত পাঠায়।

এই পুরো প্রক্রিয়াটারে বুঝতে পারেন ম্যাকডোনাল্ডাইজেশন নামের একটা থিয়োরি দিয়া। ম্যাকডোনাল্ডাইজেশন দুনিয়ার অন্যতম বৃহত্তম আমেরিকান ফাস্টফুড চেইন। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত ম্যাকডোনাল্ডসের বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে প্রায় ৪১৮০০টি দোকান রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানী জর্জ রিটজার ১৯৯৩ সালে ম্যাকডোনাল্ডাইজেশন থিয়োরির মাধ্যমে দেখাইছিলেন, যখন কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী কোনো বিষয়কে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন তারা চারটি স্তম্ভের ওপর ভর করে আগায়।
১) ইফিশিয়েন্সি : গুণমানের চেয়ে দ্রুততাকে ম্যাকডোনাল্ডাইজেশনে অধিকতর দক্ষতা হিসেবে প্রচার করা হয়। আলু ভর্তার ক্ষেত্রে আলু ধোয়া, সেদ্ধ করা, খোসা ছাড়ানো আর মাখানোকে ঝামেলা রূপে আপনার সামনে হাজির করে কোম্পানিগুলা। এগুলাকে ইনইফিশিয়েন্ট হিসেবে দেখানোর মাধ্যমে তারা আপনার শ্রমকে অপচয় হিসেবে পোর্ট্রে করে এবং ১ মিনিটে আলু ভর্তা বানানোর সলিউশনকে আপনার সামনে ইফিশিয়েন্সি হিসেবে টোপ দেয়।
২) ক্যালকুলেবিলিটি: ম্যাকডোনাল্ডাইজেশনে কোয়ান্টিটিকে কোয়ালিটির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। আলুজ ভর্তার প্যাকেটে লেখা চারজনের উপযোগী। সাধারণত কনজিউমারকে চারজনের হিসেবটা এমনভাবে গেলানো হয় যেন তিনি ২০ টাকা কেজির আলুর সাথে ১৩৫ টাকার এই পাহাড়সমান পার্থক্যের ইকোনমিক রেশিওটা ভুলে যান।
৩) প্রেডিক্টিবিলিটি: আলুভর্তার আসল স্বাদ তার বৈচিত্র্যে। আগেই বলেছি একেক অঞ্চলে, একেক বাড়ির আলু ভর্তার স্বাদ একেক রকম। কিন্তু করপোরেট যখন এর দখল নেয়, তখন তারা কনজিউমারের জিহ্বাটারে কলোনাইজ কইরা ফেলে। আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই ম্যাকডোনাল্ডসের বার্গার খান না কেন, দেখবেন স্বাদ একই রকম। বোম্বে সুইটসও সেটাই করতে চায়। দেশজুড়ে তারা একই স্বাদ মাইপা দেয়। দেশ বা বিদেশ যেইখানে বইসাই এই আলুজ ভর্তা খাইবেন, স্বাদ দেখবেন একই রকম। এই মনোটোনাস প্রেডিক্টিবিলিটি আমাদের রুচির ফ্রিডমরে মাইরা ফেইলা এক ধরনোর স্বাদের একনায়কতন্ত্র কায়েম করে।
৪) কনট্রেোল: আলুজ ভর্তার প্যাকেটের ভেতর দেওয়া প্লাস্টিক গ্লাভস আর মেজারমেন্ট টুলটা খেয়াল করছেন? এগুলা হইতেছে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ। আপনি নিজের মতো কইরা ভর্তা না বানায়ে, যেনোবা তাদের দেওয়া ইনস্ট্রাকশন অনুযায়ী কাজ করতেছেন। কুকিং একটা ক্রিয়েটিভ কাজ। এই কন্ট্রোলগুলা আপনারে ক্রিয়েটিভ না বানায়ে রোবোটিক প্রসেসের পার্ট কইরা তুলে যেন বা আপনে একটা অ্যাসেম্বলি লাইন ওয়ার্কার মাত্র। যিনি কোম্পানির ফরমায়েশ মতন কতটুক পানি দেবেন, কীভাবে মাখাইবেন তা মাইনা চলতেছেন।
যখন আমরা এই প্যাকেজড স্বাদে ইউজ টু হয়ে পড়ি, তখন আমাদের লোকাল বা ঘরোয়া বৈচিত্র্যময় স্বাদগুলা আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হইতে শুরু করে। কর্পোরেটগুলা তখন আমাদের জিহবাটারে তাদের ল্যাবরেটরি টেস্টের ওপর নির্ভরশীল কইরা তোলে।
বাজারের ২০ টাকা কেজির আলুর সঙ্গে প্যাকেটজাত ১৩৫ টাকার আলুজ ভর্তার তুলনা করলে কেবল যে আলুর দামের পার্থক্য চোখে পড়বে তা না; খেয়াল করলে দেখবেন বোম্বে সুইটস আলুজ ভর্তার প্যাকেটে ভাজা পেঁয়াজ, শুকনা মরিচ, লবণ আর সরিষার তেলের আলাদা সব মিনি প্যাক দিয়ে বিষয়টারে কমপ্লিট সলিউশন হিসেবে হাজির করতেছে।
কিন্তু এই বান্ডেলিংটার ভেতরেই লুকায়ে আছে বিশাল মুনাফার অংক। আলাদাভাবে এই সব উপাদানের খুচরা মূল্য আর প্যাকেটের দামের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান, তা খালি খাবারের জন্য নয়। বরং তারা এই চড়া দামটা আপনার কাছ থেকে রাখতেছে জাস্ট বিকজ তারা আপনার রান্নার পরিশ্রমটা আপনার কাছেই উচ্চমূল্যে পুনরায় বিক্রি করতেছে। তারা একটা সাধারণ পণ্যরে এমনভাবে রিব্র্যান্ডিং করতেছে যে, ভোক্তা তার পেছনের আসল শ্রম বা উপকরণের কথা ভুইলা গিয়া কেবল ব্র্যান্ড এবং সুবিধার মোহে পইড়া যাইতেছে। বড় কোম্পানিগুলো তখনই এই পথে হাঁটে, যখন তারা দেখে যে মধ্যবিত্ত এখন রান্নাঘরের ঝক্কি এড়াতে যে কোনো মূল্যে স্বাচ্ছন্দ্য কিনতে আগ্রহী।
এখন হয়তো আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে, প্যাকেটেড ইজি এই সলিউশন থিকা ‘ঝামেলা’র ওই ট্র্যাডিশনাল নিয়ম জরুরি কেন? যান্ত্রিক জীবনের এই এতটুকু আরামরে কেন আমাদের সন্দেহের চোখে দেখা দরকার–চলেন এখন সেইটা নিয়া একটু আলাপ করি।
পেঁয়াজ কাটার সময় যে সিন প্রোপেনথিয়াল এস অক্সাইড গ্যাস বের হয়, তা চোখে জ্বালাপোড়া কইরা চোখ দিয়া পানি বাইর করে। কিন্তু এইটা যে শুধু চোখে জ্বালাপোড়া ঘটায় তা না, এর সাথে চোখের নালি পরিষ্কারের কাজটাও কইরা দেয়। একইভাবে, সরিষার তেলের ঝাঁঝালো ঘ্রাণ সাইনাস পরিষ্কার রাখতে এবং ফুসফুসের বায়ু চলাচলের পথ ইজি হেল্প করে। মরিচ যে ঝাঁঝ হয়, এর কারন মরিচে ক্যাপসাইসিন নামে একটা জিনিস থাকে। এই জিনিসটা আপনার মেটাবলিজম বাড়ায় এবং শরীরের ব্লাড ফ্লো নেক্সট লেভেলে নিয়া যাইতে কাজ করে।

সো, এগুলারে যে বা যারা খালি ঝামেলা হিসাবে দেখাইতে চায়, তাদের কোন ঝামেলা আছে কীনা এই সন্দেহটা অটো চইলা আসা কি অমূলক?
আর আমরা যখন পেঁয়াজ কাটি বা সরিষার তেলের ঝাঁঝ নাকে নিই, তখন আমাদের ব্রেইন ডাইজেস্টিভ এনজাইম নিঃসরণের সিগন্যাল পায়। এই ঘ্রাণ আর অনুভূতিগুলা আমাদের শরীররে খাবার হজম করার জন্য একদম ভেতর থিকা প্রস্তুত করে। কিন্তু প্যাকেটেড আলুভর্তা হইলো একটা ডেড ফুড, যার কোনো ঘ্রাণ নাই, কোনো জৈবিক প্রস্তুতি নাই। শরীর হুট কইরা পাওয়া এই প্রসেসড খাবারগুলারে ঠিকঠাক আপন কইরা নিতে পারে না। ফলে আপনি পেট ভরার তৃপ্তি পাইলেও মেটাবলিজম বা শরীরের সেই আদিম সম্পর্কের জায়গাটা প্যাকেটেড ফুডে তৈরি হয় না।
রান্না হইতেছে কালচারাল পারফরম্যান্সের ঘটনা। যখন আপনি আলু সেদ্ধ করেন বা মরিচ পোড়ান, তখন আপনি আপনার পূর্বপুরুষদের কমিউনাল মেমোরির সাথে কানেক্টেড হয়ে যান। প্যাকেটের গুড়া আলুতে গরম পানি ঢালা সেই হিস্টোরিক্যাল কানেকশনটারে ছিঁড়া ফেলে। যারা একা থাকেন, এমন মানুষের জন্য রান্না করাটা স্রেফ ক্ষুধা মেটানোর জিনিস না, এইটা মাঝে মাঝে নিজের একজিস্টেন্সরে একনোলেজ করারও একটা মিডিয়াম হিসেবে কাজ করে। যা আপনারে অনলি কনজিউমার আইডেন্টিটিতে আটকায় না রাইখা ক্রিয়েটর আইডেন্টিটিতে আপলিফট করে।
কিন্তু এই যে কর্পোরেটগুলা আপনার আমার হাতে একটা প্লাস্টিক গ্লাভস ধরাইয়া দিয়া বলতেছে এক মিনিটে ভর্তা মাখাইয়া ফেলেন, এই যান্ত্রিকতায় আমরা আমাদের খাবারের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাইতেছি। আগে যখন নিজে ভর্তা বানাইতাম, পুরা জিনিসের ওপর আমাদের একটা কর্তৃত্ব ছিল। এখন ল্যাবরেটরি থেকে ঠিক কইরা দেওয়া একটা মণ্ড আপনার সামনে হাজির করা হইছে। আপনি আর এই খাবারের ক্রিয়েটর না, আপনি স্রেফ একজন অ্যাসেম্বলি লাইন ওয়ার্কার, যিনি কোম্পানির ইনস্ট্রাকশন অনুযায়ী কতটুক পানি দিবেন আর কেমনে মাখাইবেন তা মাইনা চলতেছেন। এই প্রসেসটা আপমাদেরকে আমাদের নিজস্ব ক্রিয়েটিভিটি আর লেবারের জয়নেস থিকা এলিনিয়েটেড কইরা দিয়া, স্রেফ একটা ফিডিং মেশিনে ট্রান্সফর্মড করতেছে।

আরেকটা বিষয় খেয়াল করেন! যে সময়টুকুতে আলু সেদ্ধ হইতো বা পেঁয়াজ কাটা হইতো, সেই সময়টুকুতে হয়তো ফ্যামিলি মেম্বার বা পাশের মানুষের সাথে দুইটা কথা হইতো, টুকটাক গল্প হইতো। প্যাকেটেড খাবার সেই সময়টুকু কাইড়া নিয়া আমাদের একটা মেশিনারি লোনলিনেসের দিকে ঠেইলা দিতেছে। যা কিছুরে আমরা ঝামেলা বইলা এড্রেস করতেছি সেই ঝামেলার অভাব আমাদের সোসাইটিরে আরো বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক আর যান্ত্রিক কইরা তুলতেছে। আচ্ছা তবে কি আমরা চড়া মুল্যে আরাম কিনতে গিয়া আমাদের বাঁইচা থাকার স্বাদটারেই একটু একটু হারাইয়া ফেলতেছি?
আমরা এমন একটা সময়ের ভেতর দিয়ে যাইতেছি, যেইখানে টাইম ইজ মানি। কিন্তু এইটাও আপনার আমার স্বীকার করতে হবে যে কর্পোরেটের কাছে স্বাদের বন্ধকী লং রানে দেশি ফুড কালচারকে মনোটোনাস পজিশনে নিয়ে আসতে পারে। আমরা কি এইটার কন্সিকোয়েন্স ট্যাকেল করতে পারবো?
পারবোনা মেবি। তাই বলি করপোরেটের কাছে জিহ্বাটারে সারেন্ডার কইরেন না। একটু প্যারা হইলেও দুইটা আলু সেদ্ধ আর পেঁয়াজ মরিচ কাটার হ্যাসেলটুকু নেন। এটলিস্ট লাইফটারে বোরিং হবার হাত থিকা রক্ষা করেন।
মিউজিয়াম নিয়ে বেশ কুখ্যাত একটা জোক আছে। অনেকেই বলেন, 'আ মিউজিয়াম ইজ আ প্লেস হোয়ার উই পে টু লুক এট আওয়ার অ্যানসেস্টরস ট্র্যাশ।' তবে আপনি যদি আমার মতো মিউজিওফাইল হন, তবে এই জোকে আপনার একটু বাট হার্টেড হবার চান্স আছে।
৪ দিন আগে
শিল্প-সাহিত্যের অলিগলি চিনেন অথচ সালভাদর দালির নাম শোনেন নাই, এমন পাবলিক হয়তো আছেন। তবে দালির তাতে কিচ্ছু যাইত-আসত না। লোকটা এতটাই আত্মপ্রেমে ডুইবা ছিলেন যে তার নাকি ঘুম থিকা উঠলেই আনন্দ লাগতো। কিসের আনন্দ জানেন? দালি হওয়ার আনন্দ!
২৪ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৫ এর পয়লা জানুয়ারি। আপনি, আমি এবং আমাদের মতো একদল অতি উৎসাহী রিডার কসম খাইছিলাম এই বছরটা বই পইড়া একেবারে দুনিয়া উল্টায় ফেলব। গুডরিডসের রিডিং চ্যালেঞ্জে ৬০টা বই পড়ব বইলা যে হম্বিতম্বিটা করছিলাম, বছর শেষে দেখা গেল সেই চ্যালেঞ্জের নিচে চাপা পইড়া ইজ্জত যায় যায় দশা।
২০ জানুয়ারি ২০২৬
ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৭ ৷ বাংলাদেশের বিনোদন জগতের আকাশ-বাতাস ভারী হয়া আছে সেলিব্রেটি কাপল তাহসান-মিথিলার বিচ্ছেদের কালো মেঘে৷ কেউ বিশ্বাসই করতে পারতেছেনা এই রকম একটা পারফেক্ট কাপল আলাদা হয়ে যাইতে পারে ৷
১১ জানুয়ারি ২০২৬