জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

তারেক রহমান খুলনায় আসছেন আজ: বন্ধ কলকারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি চান স্থানীয়রা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খুলনা

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ২২
খুলনায় তারেক রহমানের জনসভা মঞ্চ। স্ট্রিম ছবি

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুই শহর যশোর ও খুলনায় নির্বাচনী প্রচারণায় আসছেন। স্থানীয় নেতারা প্রত্যাশা করছেন, দলীয় প্রধান নির্বাচনী জনসভায় বন্ধ হয়ে থাকা কলকারখানা পুনরায় চালু, দক্ষিণাঞ্চলে পাইপলাইনে গ্যাস, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সেক্টরের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ গ্রিন ও ক্লিন শহরের প্রতিশ্রুতি ও রূপরেখা দেবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে করে বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে খুলনায় আসছেন তারেক রহমান। সেখানে সরকারি হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজসংলগ্ন প্রভাতী স্কুল মাঠে দুপুর ১২টায় সমাবেশে যোগ দেবেন। এরপর বেলা ১টায় খুলনা থেকে হেলিকপ্টারে যশোরের উদ্দেশে রওনা হবেন বিএনপি-প্রধান।

বেলা ১টা ৪০ মিনিটে নতুন উপশহরে বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। ২টা ৪০ মিনিটে আবার হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা কলকারখানা পুনরায় চালু, খুলনায় গ্যাস সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং নতুন অর্থনৈতিক জোন নির্মাণসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের নানা পরিকল্পনা দলীয় প্রধানের বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।’

বকুল বলেন, জনসভাকে কেন্দ্র করে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ জনসভায় অংশ নেবে বলে আশা করেন তিনি।

জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। স্ট্রিম ছবি
জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। স্ট্রিম ছবি

তিনি আরো বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। খুলনায় গ্যাস সংযোগ না থাকায় নতুন শিল্প স্থাপন ব্যাহত হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতি বছর মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ছে।’

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের দলীয় প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ‘তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন। আর ২২ বছর পর তিনি খুলনা সফরে আসছেন। তার আগমন ঘিরে খুলনাঞ্চলে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। খুলনা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এ জনসভায় যোগ দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তারেক রহমান ঘোষিত উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং এ অঞ্চলের মানুষ নতুন আশার আলো দেখতে পাবে।

খুলনায় অর্থনৈতিক জোন নির্মাণ এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে দক্ষিণাঞ্চলের অবদান বহুগুণ বাড়বে।’

খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচনী জনসভায় খুলনাঞ্চলের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা চালুসহ বিএনপি ঘোষিত ১০ দফার বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান কথা বলবেন। এ কারণে খুলনার জনসভা শুধু একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়, বরং খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।’

এদিকে যশোরের জনসভা সম্পর্কে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘আমরা দুপুর ১২টা থেকেই জনসভার কার্যক্রম শুরু করব। চেয়ারম্যান মঞ্চে ওঠার আগেই বৃহত্তর কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা এবং বিএনপির প্রার্থীরা বক্তব্য দেবেন।’

প্রায় ২ লাখ মানুষের জনসমাগমের লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন বলেও জানান।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, তারেক রহমানের সমাবেশ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত