জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪

মাদক ও চোরাচালানমুক্ত জনপদ চান ভোটাররা, বন্দর ও খাল উদ্ধারের দাবি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৫৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া সীমান্ত। স্ট্রিম ছবি

ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা আখাউড়া ও কসবা উপজেলা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জনপদে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়—সীমান্তবর্তী অপরাধ দমন এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটানো। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই সীমান্ত দিয়ে অবাধে মাদক ও পণ্য চোরাচালান চলেছে। ফলে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান দাবি হলো মাদক কারবার বন্ধ করে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আখাউড়া স্থলবন্দরকে সিন্ডিকেটমুক্ত করে কর্মচঞ্চল করে তোলা।

আখাউড়া স্থলবন্দরটি এ অঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণ হলেও সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য এটি এক প্রকার ‘অবরুদ্ধ’ ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং আখাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র তাকজিল খলিফা কাজলের নিয়ন্ত্রণে ছিল এই বন্দরটি। প্রার্থীরা এবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, নির্বাচিত হলে বন্দরটিকে সব ব্যবসায়ীর জন্য উন্মুক্ত এবং সিন্ডিকেটমুক্ত করবেন।

সীমান্তবর্তী এই আসনে প্রাকৃতিক সংকটও প্রকট। আখাউড়া ও কসবার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদী ও খালগুলো প্রভাবশালীরা দখল করে নেওয়ায় উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি সরতে পারছে না, ফলে প্রতিবছর কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া ত্রিপুরা থেকে কালিন্দী খাল দিয়ে আসা রাসায়নিক মিশ্রিত কালো পানির কারণে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ভোটাররা এবার দখল হওয়া খাল উদ্ধার এবং এই দূষণ রোধে প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখতে চান।

আখাউড়া উপজেলা সদরের কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুবেল আহমেদ বলেন, ‘ত্রিপুরা থেকে আখাউড়া এবং কসবা সীমান্ত দিয়ে ছোট ছোট অনেক নদী-খাল বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। দখল-দূষণের কারণে নদী-খালগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে এই আসনের এমপি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও আখাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র তাকজিল খলিফা কাজলের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালীরা নদী-খাল দখলে মেতে উঠেছিল। এবারের নির্বাচনে যে প্রার্থী বিজয়ী হবেন, তিনি দখল হওয়া খাল-নদী উদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করি।’

কসবা উপজেলার তালতলা এলাকার বাসিন্দা লিয়াকত মিয়া বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের যে আচরণ দেখি, তাতে করে মনে হয় দেশটা হয়তো বদলে যাবে। কিন্তু পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা অনেক সময় নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক বহন করছে, মাদক কারবার করছে। এগুলো থেকে তাদেরকে বিরত রাখতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা এমন প্রার্থী নির্বাচন করব, যিনি আমাদের এসব সমস্যাগুলো নিজের সমস্যা মনে করে সমাধানে উদ্যোগী হবেন।’

কসবার আরেক ভোটার স্বপন মিয়া জানান, কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জটিল কোনো রোগের চিকিৎসা করা যায় না। ফলে স্বাস্থ্য সেবার জন্য জেলা সদরে যেতে হয়। এবার তার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আরও আধুনিকায়ন করে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা প্রার্থীরা এই সমস্যাগুলোকে তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার বলেন, ‘আমার প্রধান কাজ হবে দুর্নীতি বন্ধ করা। কসবা-আখাউড়াকে মাদকের দ্বিতীয় টেকনাফ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক নেতারাই জড়িত। আমি এই মাদক ও বন্দরের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির জনপদ গড়ব।’

বিএনপির প্রার্থী মুশফিকুর রহমান জানান, তাদের ইশতেহারে মাদক ও চোরাচালান বন্ধের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন, অপরাধী যেই হোক ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা আখাউড়া স্থলবন্দরকে সিন্ডিকেটমুক্ত করে চাঙ্গা করব এবং মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করব।’

কসবা ও আখাউড়ার ৪ লাখেরও বেশি ভোটার এখন অপেক্ষায় আছেন ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধের। তারা এমন এক নেতৃত্বকে বেছে নিতে চান, যিনি এই জনপদকে মাদকমুক্ত করে উন্নয়নের নতুন শিখরে নিয়ে যাবেন।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত