জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশ ছেড়ে পলাতকদের মালিকানাধীন বন্ধ কারখানাগুলো আবার কীভাবে চালু করা যায়, সে বিষয়ে ভাবা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর যারা ব্যাংক লুট করেছে, দেশে লুটপাট করেছে, চুরি করেছে— তাদের ধরেন, শাস্তি দেন। কিন্তু তাদের যে শিল্পকারখানা আছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ কাজ করছে। আজকের আলোচনায় উঠে এসেছে ১৪ লাখ মানুষ কর্ম হারিয়েছে, তারা যাবে কোথায়? আমরা এই বেকারত্ব সৃষ্টি করছি কেন? আমি মনে করি বিষয়টি আমাদের ভেবে দেখা উচিত।’
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’- বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের বিষয়ে আমাদের ধারণা পাল্টাতে হবে। চোর ধরার চিন্তা থেকে বেরিয়ে বিশ্বাসের জায়গায় আসতে হবে। তাকে যদি বিশ্বাস না-ই করি তাহলে ব্যবসা করে তারা দেশের জন্য কী করবে?’
পুরোপুরি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে আসা এবং একটা ক্লোজড ইকোনমিকে ওপেন ইকোনমিতে নিয়ে আসার ব্যাপারে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা সবচেয়ে লক্ষণীয় বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষগুলো যেন ভালো থাকে। আমাদের কৃষকেরা যেন ভালো থাকে, আমাদের শ্রমিকেরা তারা যেন তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পায়। অর্থনীতিতে স্থিতিশীল অবস্থা থাকে এবং ম্যাক্রো ইকোনমিক্সটা যেন শক্তভাবে দাঁড়ায়। বিএনপি যতবার সরকারে ছিল কেউ বলতে পারেনি, আমরা অর্থনীতি ধ্বংস করেছি। বরং বলা হয়েছে রাইজিং স্টার। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ভিশন ছিল, কথা কম কাজ বেশি। তিনি অর্থনীতিকে অধিক গুরুত্ব দিতেন। বিএনপিও সেই কাজটিই করছে।’
একই অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে অংশ নিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে না গিয়ে একটি গোষ্ঠীর কাছে চলে গেছে। অর্থনীতি গণতন্ত্রের অংশ হতে হবে এবং এটি জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হতে হবে। যতদিন পর্যন্ত অর্থনীতি শুধু এক একটি গোষ্ঠীর হাতে সীমাবদ্ধ থাকবে, ততদিন পর্যন্ত দেশের সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবে না। অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন করা ছাড়া দেশের আর্থিক পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়।
বক্তব্য দিচ্ছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীতিনি আরও বলেন, ‘এ জন্য আমাদের নতুন একটি অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সকল জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে দেশের গ্রামীণ জনগণও উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারে।’
বিএনপির এই নেতা বাংলাদেশে বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে এবং প্রান্তিক জনগণের জন্য সুস্থ এবং সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গণতন্ত্র ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এ জন্য আমাদের নতুন একটি অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সকল জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে দেশের গ্রামীণ জনগণও উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারে। উদ্যোক্তাদের জন্য গ্লোবাল একসেস নিশ্চিত করতে হবে, যেন তারা আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রি করতে পারে।’
সম্মেলনের ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রকীকরণ’ সেশনে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। সম্মেলনে দেশের আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ, গবেষক, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।