মাদুরোকে আটক ও সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যাবর্তনভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ‘আটক’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা বিশ্ব উল্লাসে মেতেছে। তাদের দাবি, অত্যাচারী শাসকের পতন ঘটিয়ে ‘গণতন্ত্র’ উদ্ধার করা হয়েছে।
৭০ শতাংশের ম্যান্ডেট: সিসিফাসের পাথর নাকি নেমেসিসের পদধ্বনিমর্ত্যবাসী যখন প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নৈতিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, তখন মানুষকে শাস্তি দিতে সৌভাগ্য ফিরিয়ে আনতে পৃথিবীতে নেমে আসেন ভাগ্যদেবী নেমেসিস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনমতের এই একচেটিয়া ঝুঁকে পড়া কি সেই ‘নেমেসিস’-এরই পদধ্বনি?
হলফনামায় সম্পদ গোপনের প্রবণতা: সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক পাঠমানুষ স্বভাবতই ঝুঁকি নিতে চায় না। বেশি সম্পদের তথ্য প্রকাশ পেলে সামাজিক ঈর্ষা, বিদ্বেষ এবং হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক কর্মী, স্থানীয় প্রভাবশালী বা বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকে আর্থিক চাপ আসার সম্ভাবনাও থাকে।
‘যুদ্ধবিরতি’ আসলে গাজাকে দৃষ্টির আড়ালে ঠেলে দেওয়ার হাতিয়ারগাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চল আল-বুরাইজ ক্যাম্পেবাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি সালাহ আল-মাবহু তাঁর ছোট ছেলে আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে আগুনের পাশে বসে আছেন। তাঁবুর পাশে জবুথবু হয়ে বসে একটু উষ্ণতার খোঁজ করছেন তাঁরা। এই দৃশ্য এখন গাজার প্রতিটি কোণেই দেখা যায়।
ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের অবৈধ অভ্যুত্থানের পর দুটি বিপদমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, তিনি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ শেষ করে বিশ্বজুড়ে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসবেন। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পুনর্গঠনে মনোযোগ দেবেন।
সংস্কার আলোচনায় অভিজ্ঞতা ও অর্জন কম নয়পরবর্তী হাসিনা সরকার আবার চলেছে সংস্কারের সম্পূর্ণ বিপরীতে। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার উচ্ছেদ, প্রকৃত বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে রাখা আর নতুন কালাকানুন করে জনমত নিয়ন্ত্রণ এর প্রমাণ। দীর্ঘ একতরফা শাসনে তারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংস করে দেন। এ অবস্থায় গণঅভ্যুত্থান ছিল অনিবার্য।
এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গ্যাঁড়াকলজাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তাসনিম জারা। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের আইনি মারপ্যাঁচ তথা এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের গ্যাঁড়াকলে পড়ে তার নির্বাচনি লড়াই থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইনবক্সের বাইরে—৩খালেদা জিয়ার মৃত্যু, এনসিপি নেতাদের পদত্যাগ এবং চায়ের দোকানে এক সন্ধ্যাএক মধ্যবিত্ত শহুরে বৃদ্ধ ও এক জেনজি তরুণের কথোপকথন থেকে বুঝলাম, তাঁরা কথা বলছেন খালেদা জিয়াকে নিয়ে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যেন এক মিথের পুনর্জন্ম হয়েছে। তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতি ‘আপসহীন’ উপাধি দিয়েছে, তাঁর মৃত্যু যেন পুরাণ থেকে উঠে আসা এক ট্র্যাজেডির শেষ দৃশ্য।
ছাত্র-সংসদের নেতারা কি নির্বাচিত ‘লাঠিয়াল’ হয়ে উঠছেনধর্মগ্রন্থ বিতরণ থেকে শুরু করে বৃক্ষরোপণ—গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করছিলেন। বইমেলা ও রক্ত-পরীক্ষার আয়োজন করেছিল কোনো কোনো সংগঠন। টানা কয়েক দিনব্যাপী চলেছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রথম ক্রসফায়ার, সিরাজ সিকদার এবং বিচারহীনতার রাষ্ট্রীয় ব্লু-প্রিন্টআজ ২ জানুয়ারি। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও মানবাধিকারের দলিলে এটি একটি রক্তিম ও অস্বস্তিকর অধ্যায়।
বাংলাদেশের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্টজুলাই অভ্যুত্থানে রাস্তার দখল নিয়েছিলেন অপশাসনে ক্লান্ত, দুর্নীতিতে ক্ষুব্ধ, অত্যাচারে রক্তাক্ত মানুষ। তার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল নানা স্বার্থগোষ্ঠী, যা জুলাই আন্দোলনকে কালিমালিপ্তই করেছে, প্রশ্ন তুলেছে আন্দোলনকারীদের অভিসন্ধি নিয়ে। জুলাই আন্দোলন ক্রমে কোণঠাসা করেছে আওয়ামী লীগকে, দায়িত্বে এসেছে অন্তর্বর
২০২৬ সালের বিশ্বরাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবে কতটা বদলে যাবে পৃথিবীযুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সীমাবদ্ধতা বাড়ছে। বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও ডেটা সেন্টারের বিশাল নেটওয়ার্ক সচল রাখতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে পিছিয়ে। এমন অবস্থায় ডেমোক্র্যাট দলের কিছু সদস্য নতুন ডেটা সেন্টার তৈরির ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলছেন।
প্রসঙ্গ যখন জামায়াত জোটে এনসিপিজাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটে যোগদানের ঘটনায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। দলটির পরবর্তী পদক্ষেপ বিষয়ে অনুমান করা কঠিন ছিল অবশ্য। মাঝে তো এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল—এনসিপি যেন বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটেই যোগ দেবে। তবে বিএনপির কাছ থেকে ‘আশানুরূপ’ আসনের প্রতিশ্রুতি নাকি পায়নি দলটি।
খালেদা জিয়া: সহিষ্ণুতা, সংগ্রাম ও নীরবতার প্রতীকবিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এ প্রচ্ছদে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই রাজনীতিক। ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল ছাপা হয়েছিল বিএনপির চেয়ারপার্সন ও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি। আর ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর ছাপা হয়েছিল তিনবারের অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্র
জানাজায় তারেক রহমানের ৫৮ সেকেন্ডের ভাষণ যে বার্তা দিলতারেক রহমান তাঁর মায়ের জানাজায় মাত্র ৫৮ সেকেন্ড কথা বললেন। তাঁর তো অনেক কথা বলার ছিল। বাবা শহীদ হয়েছেন। যে মায়ের জানাজায় দাঁড়িছেন—কে না জানেন, সেই মাকে চিকিৎসা করতে না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে খালেদা জিয়া দক্ষিণ এশিয়ার এক বিরল কূটনৈতিক মুহূর্তের কেন্দ্রে এলেনবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করে। তবে তাঁর জানাজাকে ঘিরে ঢাকায় বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি শোকের গণ্ডি ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক বাস্তবতায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেছে।
২০২৫ সাল: অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জটিল যাত্রা২০২৫ সালকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বিজয়ের বছর বলা যাবে না, আবার একেবারে ভেঙে পড়ার গল্পও নয়। এই বছরটা যেন মাঝনদীতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নৌকা; পেছনে তীব্র স্রোত, সামনে অজানা গন্তব্য।