জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

হবিগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয় সকালে উদ্বোধন, দুপুরে আগুন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধরা। সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় পুনরায় উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শহরের টাউন হল এলাকায় অবস্থিত জেলা কার্যালয়ে আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে খোলা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কার্যালয়ের আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্যালয়ের পাশের একাধিক দোকানি বলেন, আজ সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগের নেতারা। এ সময় ১০-১২ জন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে দলীয় স্লোগান দেন। পরে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন তাঁরা।

তবে কার্যালয় চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুপুরে হঠাৎ করে ভবনের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। স্থানীয়রা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করেন। তবে কারা আগুন দিয়েছে তা জানাতে পারেননি আশপাশের দোকানিরা।

অগ্নিকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী কলেজ ছাত্র অনিক চক্রবর্তী বলেন, ‘হঠাৎ দেখলাম, কার্যালয়ের সামনে আগুন জ্বলছে। তারপর কয়েকজন দৌড়ে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেন।’

তবে জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, আগুন লাগার বিষয়টি তাদের কেউ জানায়নি।

আজ কার্যালয় খোলার সময় উপস্থিত উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নোমান আহমেদ বলেন, ‘আমরা সকালে কয়েকজন মিলে কার্যালয়টি উদ্বোধনের ঘোষণা দেই। পরে দুপুরে ফেসবুকে দেখলাম সেখানে কারা আগুন দিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসন নীরব রয়েছে।’ তিনি এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরের দিন ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর থেকে দলের জেলা কার্যালয়টি বন্ধ পড়ে আছে। দলেল নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকায় দীর্ঘদিন সেখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।

পুনরায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় চালু ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এর আগে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচার হওয়ার আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ প্রকাশিত গেজেটে দলটির নিষিদ্ধের বিষয়ে বলা হয়, ‘...আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কর্তৃক যে কোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত