জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি মামলার রায়: শেখ হাসিনার ১০, ববি-রূপন্তীর ৭ ও টিউলিপের ৪ বছর কারাদণ্ড

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫: ২৪
শেখ হাসিনা ও তাঁর দুই ভাগনি। স্ট্রিম গ্রাফিক

ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অবৈধভাবে সরকারি প্লট বরাদ্দের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুই মামলায় মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় তার ভাগনি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ৪ বছর এবং ভাগনে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও ভাগনি আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্লট দুর্নীতির ছয়টি মামলারই বিচারকাজ শেষ হলো।

আদালত আজ রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর প্লট বরাদ্দের দুটি পৃথক মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রতিটি মামলায় ৫ বছর করে মোট ১০ বছর এবং টিউলিপ সিদ্দিককে প্রতিটি মামলায় ২ বছর করে মোট ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ববি ও রূপন্তীকে তাদের সংশ্লিষ্ট মামলায় ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই মামলায় সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ ১৪ জন আসামিকে দুই মামলায় ৫ বছর করে মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তারা হলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) শেখ শাহিনুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা, মাজহারুল ইসলাম এবং সাবেক উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ।

কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে দুই মামলায় এক বছর করে মোট দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি ববি ও রূপন্তীর নামে বরাদ্দকৃত পূর্বাচলের দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

দুদকের কৌঁসুলি খান মো. মঈনুল হাসান লিপন রায়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

মামলার নথিপত্র ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঢাকা শহরে নিজস্ব ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার তথ্য গোপন করে এবং রাজউক আইন লঙ্ঘন করে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী পূর্বাচল প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক এলাকায় ১০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ নেন।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাগনে-ভাগনিকে এই অবৈধ বরাদ্দে সহায়তা করেছেন। ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে এবং খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে ভাই-বোনকে প্লট পাইয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া শেখ হাসিনা ও তার তৎকালীন একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপরাধ ঢাকতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট নথি বিনষ্ট বা গায়েব করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

রূপন্তীর মামলায় অভিযোগ করা হয়, গুলশানে মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া একটি ফ্ল্যাট রূপন্তীর নামে থাকলেও তা গোপন করতে টিউলিপ সিদ্দিকের নামে হস্তান্তর দেখানো হয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, ওই হস্তান্তরে ব্যবহৃত নোটারিটি ছিল ভুয়া।

রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানাসহ তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, টিউলিপ সিদ্দিক, ববি, রূপন্তীসহ অন্য সব আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছিল না। আদালত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পূর্বাচলে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়।

এর আগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা পরিবারের তিনটি এবং ১ ডিসেম্বর শেখ রেহানার একটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। আজকের দুটি রায়সহ মোট ছয়টি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো। এছাড়া সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছর করে, শেখ রেহানাকে ৭ বছর এবং টিউলিপ সিদ্দিককে মোট ৬ বছরের (আগের মামলায় ২ বছর ও আজকের ৪ বছর) কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত