জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

গণমাধ্যম অধ্যাদেশ সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’: টিআইবি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯: ১১
গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে টিআইবি। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম আরও বেশি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গণমাধ্যম অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যম নিয়ে শেষ মুহূর্তে দেওয়া অধ্যাদেশ—এটি বিদায়ী পরিহাস ছাড়া আর কিছু নয়। সংস্কারের কথা বলে শেষ সময়ে এসে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম একটি অত্যন্ত হতাশাজনক সময় পার করছে। রাষ্ট্রীয় চাপের পাশাপাশি অরাষ্ট্রীয় চাপও বেড়েছে, কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই সরকার কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।’

গণমাধ্যম কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার সেটি পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তার পরিবর্তে সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ ও গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে গণমাধ্যমের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও চাপের ঘটনায় সরকারের নির্লিপ্ততা স্পষ্ট। গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বাধীন সাংবাদিকতা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারী অধিকার ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ইস্যুতে নারী কমিশনের প্রতিবেদন থেকে সরকার নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ায় প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে এসব বিষয়ে রিপোর্টিং করা সাংবাদিকদের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে।’

তার মতে, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা—এই দুই ক্ষেত্রেই অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে।’

এদিন, গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন শাহজাদা এম আকরাম ও মো. জুলকারনাইন।

এ সময় মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও ‘মব’ সহিংসতার মাধ্যমে গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে। সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে হামলায় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে নজিরবিহীনভাবে মব সৃষ্টি করে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ড; এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয় ও অকার্যকর।’

গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে জুলকারনাইন বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৯৭টি সাংবাদিক হয়রানির ঘটনায় প্রায় ১,১০৪ জন গণমাধ্যমকর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় ২০৪ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় ৩০ জন গ্রেপ্তার, অনেককে জামিন থেকেও বঞ্চিত রাখা হয়েছে।’

একই সময়ে আটটি পত্রিকার সম্পাদক ও ১১টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তা প্রধান বরখাস্ত হয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর মোট ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সময়ে ২৯টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল এবং একটি অনলাইন পোর্টালের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে অপব্যবহার করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ও সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিরুদ্ধ মত প্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ ব্যবহার, গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ও লোগো দিয়ে অপতথ্য প্রচার এবং নেতিবাচক প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়লেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত