
জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাবে সরকার। রোববার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে সরকার অংশ নেবে না। আমাদের চিন্তা টাকা পাওয়া নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করা।’
বিগত সরকারের নেওয়া আইএমএফের কর্মসূচিকে ‘জনস্বার্থবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করে অর্থমন্ত্রী জানান, ওই কর্মসূচিতে এমন অনেক শর্ত ছিল, যা গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এসেছে।
আজ থেকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী বৈঠকে বসেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। বৈঠকের লক্ষ্য বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং নতুন অর্থায়ন প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বসে আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের দল। বৈঠকের পরেই সাংবাদিকদের সরকারের নীতিগত অবস্থানের কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধিদল সদর দপ্তরে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।
২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ২০২৫ সালের জুনে এই ঋণের আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত মোট পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে ষষ্ঠ কিস্তি নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত অর্থ ছাড় হয়নি।
বিনিয়োগ ও পর্যটন বাড়াতে ভিসা নীতি সংস্কার
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে অর্থমন্ত্রী জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে দেশের বিদ্যমান ভিসা নীতি সহজ ও আধুনিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান ভিসা নীতি রিভাইজ বা সংশোধন করা দরকার। এই নীতিকে আরও সহজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করা হবে।’
অর্থমন্ত্রী জানান, ভিসা নীতি আধুনিক হলে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশে আসা সহজ হবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কম জটিলতায় দেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
.png)






