জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সিসিটিভি ফুটেজে মুছাব্বির হত্যার দৃশ্য: বস্তায় পিস্তল রেখে ‘ওত পেতে ছিল’ দুর্বৃত্তরা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া দুই সন্দেহভাজনের ছবি

রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফু‌টে‌জ বিশ্লেষণের পর পুলিশের ধারণা, স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে বস্তা নিয়ে বসে ছিলেন দুই দুর্বৃত্ত। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বিরকে দেখামাত্র বস্তা থেকে পিস্তল বের করে পেছন থেকে গুলি করে তারা। তবে এ ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি।

নিহত মুছাব্বিরের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এসময় ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারী মাসুদও (৫০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জে। মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তেজগাঁও থানায় মামলা করেছেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে তাঁর লিখিত এজাহার মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৈশূন্য মারমা এ তথ্য নিশ্চিত করে স্ট্রিমকে বলেন, ‘নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া পুলিশের কাছে জানিয়েছেন, অনেকদিন ধরেই কেউ তাঁকে ক্ষতি করতে পারে, এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তারা কারা, সে বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি।’

প্রাথমিক তদন্তে এটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে ধারণা করছে পুলিশ। ওসি কৈশূন্য মারমা বলেন, ‘বাদির মামলায় আসামিদের কোনো নাম নেই, অজ্ঞাত তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বিভিন্নভাবে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। আমরা সব বিষয়কে সামনে রেখেই তদন্ত করছি।’

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার কিছু পরে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা মুছাব্বির ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে উদ্দেশ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফুটেজে দেখা যায়, গুলির শব্দ হওয়ার পরপরই অন্ধকার গলি থেকে দুই যুবক স্টার কাবাব-সংলগ্ন কারওয়ান বাজার এলাকার প্রধান সড়ক হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজনের মুখমণ্ডল মাফলার দিয়ে ঢাকা ছিল। আর দুর্বৃত্তরা গুলি করার পর মুছাব্বির মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আবার উঠে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় মুছাব্বিরের হাতে ফ্লাশলাইট জ্বালানো মোবাইল ফোনটি হাত থেকে পড়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় সেই ফোনটিও নিয়ে যায় একজন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘সিসি ফুটেজে সন্দেহভাজন দুজনকে দেখা গেছে। আমরা ধারণা করছি, তারা আগে থেকে ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করছিল।’

মুছাব্বিরের মৃত্যুর খবরে রাতে হাসপাতালের সামনেই বিক্ষোভ করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। পরে বিক্ষোভ হয়েছে কারওয়ান বাজা‌রের সার্ক ফোয়ার মোড়ে। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। হত্যার বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এক পর্যায়ে তারা সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনী এসে তাদের এক পাশে সরিয়ে দেয়।

ঢামেকে নেতাকর্মীদের ভিড়। সংগৃহীত ছবি
ঢামেকে নেতাকর্মীদের ভিড়। সংগৃহীত ছবি

নিহত মুছাব্বিরের মরদেহ রাতেই ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে।

রাত ১০টার দিকে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) আলতাফ হোসেন মোল্লা স্ট্রিমকে বলেন, ‘কারা, কী কারণে গুলি করেছে সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তদন্তকারী পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত