স্ট্রিম প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে বলে লিখিত অঙ্গীকার করার পরও রাজনৈতিক দলগুলো তা রাখেনি বলে উষ্মা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা স্ট্রিম, নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম (এফডব্লিউপিআর) ও ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
আলোচনায় বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো অনেকটা মাছ বাজারে দরাদরির মতো করে আসন্ন নির্বাচনে ৫ শতাংশ নারী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু সেই অঙ্গীকারও তারা রক্ষা করেনি।’
বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে সংরক্ষণ পদ্ধতি আছে, তা অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়, বরং আলংকারিক। এই পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচিতরা জনগণের কাছে নয়, বরং দলীয় নেতাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। কারণ, এখানে মনোনয়ন অনেকটা অনুগ্রহ হিসেবে দেওয়া হয়, যেখানে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক বা লেনদেন মুখ্য হয়ে ওঠে।’
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন নারীদের জন্য ১০০টি ঘূর্ণায়মান আসনের প্রস্তাব করেছিল, তবে সেটিও দলগুলোর অনাগ্রহে আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ করেন ড. বদিউল আলম।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব করেছিলাম সংসদের আসন ৪০০ করে তার মধ্যে ১০০টি আসন ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে নারীদের জন্য সংরক্ষণ করার। ভারত ২০২৩ সালে পঞ্চায়েতের মতো সংসদেও ১৫ বছরের জন্য এমন ঘূর্ণায়মান পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে একজন নারী আরেক নারীর সঙ্গে যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন এবং নির্বাচিত হয়ে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতেন।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা এমন একটি পদ্ধতি সুপারিশ করেছিলাম, যাতে ভবিষ্যতে সংরক্ষিত আসনের আর প্রয়োজন না হয় এবং নারীরা যোগ্যতার বলে পুরুষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।’
সংস্কার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ রয়েছে জানিয়ে বদিউল আলম বলেন, ‘এখানে একটা বড় ভুল বোঝাবুঝি আছে। আমরা সংস্কার করিনি, বরং সুপারিশ করেছি। আমাদের কোনো ক্ষমতা ছিল না কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। আমরা সহায়ক (ক্যাটালিস্ট) ছিলাম, অথচ এখন আমাদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। আমি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছি, সরকারের অংশ ছিলাম না। ৩০টি দল একত্রিত হয়ে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে, সেগুলো তাদেরই সিদ্ধান্ত ছিল।’
আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন। এফডব্লিউপিআরের প্রতিনিধি মাহরুখ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলি ও জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের সদস্য ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হুসাইন।
রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাহিদুল খান সোহেল, জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের রাজনৈতিকবিষয়ক প্রধান ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি ও সিপিবির কেন্দ্রীয় নারী সেলের সদস্য তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা।
এ ছাড়া ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশের মহাসচিব সাদিক আল আরমান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিব্বির আহমেদ, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির প্রতিনিধি হুমায়রা নূর ও সামান্থা শারমিন, এএপি বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরা, রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী তাজনুভা জাবিন এবং ইলেকশন বিটের সাবেক সভাপতি আকরামুল হক সায়েম আলোচনায় অংশ নেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে বলে লিখিত অঙ্গীকার করার পরও রাজনৈতিক দলগুলো তা রাখেনি বলে উষ্মা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা স্ট্রিম, নারী রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম (এফডব্লিউপিআর) ও ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
আলোচনায় বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো অনেকটা মাছ বাজারে দরাদরির মতো করে আসন্ন নির্বাচনে ৫ শতাংশ নারী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু সেই অঙ্গীকারও তারা রক্ষা করেনি।’
বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে সংরক্ষণ পদ্ধতি আছে, তা অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়, বরং আলংকারিক। এই পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচিতরা জনগণের কাছে নয়, বরং দলীয় নেতাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। কারণ, এখানে মনোনয়ন অনেকটা অনুগ্রহ হিসেবে দেওয়া হয়, যেখানে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক বা লেনদেন মুখ্য হয়ে ওঠে।’
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন নারীদের জন্য ১০০টি ঘূর্ণায়মান আসনের প্রস্তাব করেছিল, তবে সেটিও দলগুলোর অনাগ্রহে আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ করেন ড. বদিউল আলম।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব করেছিলাম সংসদের আসন ৪০০ করে তার মধ্যে ১০০টি আসন ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে নারীদের জন্য সংরক্ষণ করার। ভারত ২০২৩ সালে পঞ্চায়েতের মতো সংসদেও ১৫ বছরের জন্য এমন ঘূর্ণায়মান পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে একজন নারী আরেক নারীর সঙ্গে যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন এবং নির্বাচিত হয়ে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতেন।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা এমন একটি পদ্ধতি সুপারিশ করেছিলাম, যাতে ভবিষ্যতে সংরক্ষিত আসনের আর প্রয়োজন না হয় এবং নারীরা যোগ্যতার বলে পুরুষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।’
সংস্কার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ রয়েছে জানিয়ে বদিউল আলম বলেন, ‘এখানে একটা বড় ভুল বোঝাবুঝি আছে। আমরা সংস্কার করিনি, বরং সুপারিশ করেছি। আমাদের কোনো ক্ষমতা ছিল না কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। আমরা সহায়ক (ক্যাটালিস্ট) ছিলাম, অথচ এখন আমাদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। আমি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছি, সরকারের অংশ ছিলাম না। ৩০টি দল একত্রিত হয়ে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে, সেগুলো তাদেরই সিদ্ধান্ত ছিল।’
আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন। এফডব্লিউপিআরের প্রতিনিধি মাহরুখ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলি ও জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের সদস্য ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হুসাইন।
রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাহিদুল খান সোহেল, জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের রাজনৈতিকবিষয়ক প্রধান ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি ও সিপিবির কেন্দ্রীয় নারী সেলের সদস্য তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা।
এ ছাড়া ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশের মহাসচিব সাদিক আল আরমান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিব্বির আহমেদ, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির প্রতিনিধি হুমায়রা নূর ও সামান্থা শারমিন, এএপি বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরা, রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী তাজনুভা জাবিন এবং ইলেকশন বিটের সাবেক সভাপতি আকরামুল হক সায়েম আলোচনায় অংশ নেন।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান। এ দিন তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
৪ ঘণ্টা আগে
শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারত, ভুটান, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁরা নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৫০ নেতা শপথ নেন। এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পিএস-এপিএস নিয়োগ করা হয়।
৫ ঘণ্টা আগে