রাবিতে মারধরে আহত সেই ২ শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার মামলায় গ্রেপ্তার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাকসু জিএস আম্মারের ওপর হামলার অভিযোগে একাধিক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ফের বাধা দেওয়া হয়। স্ট্রিম ছবি
রাকসু জিএস আম্মারের ওপর হামলার অভিযোগে একাধিক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ফের বাধা দেওয়া হয়। স্ট্রিম ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের ওপর হামলার অভিযোগে মারধরের শিকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ সংক্রান্ত আগের একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন– বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. আনাস ও মাহমুদুল হাসান।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আগের একটি মামলায় ওই দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।

এর আগে সোমবার ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা ও হামলার অভিযোগে আনাস ও তাঁর সহযোগীদের বেধড়ক মারধর করেন রাকসু জিএস আম্মার ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, এই ঘটনার সার্বিক তথ্য উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বের করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস.এম কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে গতকাল সকালে প্রক্টরের কার্যালয়ে বৈঠক চলছিল। রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও এজিএস সালমান সাব্বির সেখানে উপস্থিত হয়ে আগের রাতে প্রক্টরের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে আনাসকে নিজেদের দপ্তরে ডাকেন।

পরে আনাস রাকসু কার্যালয়ে গেলে সেখানে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিএস ও এজিএস আনাসকে চড়-থাপ্পড় দেন। আনাসকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় প্রক্টর পরে আনাসকে ছেড়ে দেন।

তবে জিএস আম্মারের অভিযোগ, আনাস পরে কয়েকজনকে নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে হামলা চালান। এরপর রাকসু ও রাবি ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ধাওয়া করলে আনাস ও তাঁর সঙ্গীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আশ্রয় নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আম্মার-সাব্বিরসহ রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস শাকিব, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ফাহিম রেজা এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পরে গ্রন্থাগারে ঢুকে আনাসদের মারধর করা হয়। বাধা দিতে গেলে সেখানে অবস্থানরত অন্য শিক্ষার্থীদেরও হুমকি দেওয়া হয়।

তারা আরও জানান, গ্রন্থাগারের পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় আম্মারের নেতৃত্বে ফের মারধর করা হয়।

এ বিষয়ে আনাস বলেন, ‘প্রক্টর দপ্তরে আমাকে প্রথমে ছাত্রলীগ কর্মী আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয়। পরে গ্রন্থাগারেও আমার ওপর হামলা চালানো হয়। আমি কখনোই ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম না। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে তাকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।’

এদিকে, গ্রন্থাগারে মারধরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির। সেখান থেকে আনাস ও তাঁর সঙ্গীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

রাবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনার পূর্বাপর তথ্য উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক গোলাম ছাদিক, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আসাদুল হক, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম এবং ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এ নাঈম ফারুকী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্র রাজনীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে। এজন্য তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত