স্ট্রিম প্রতিবেদক

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে জুলাই সনদ সংবিধানের চার মূলনীতি বাতিল হবে— এমন প্রচার ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।
এ সময় ‘গণভোট ও প্রাক্-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। তাই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং এর পক্ষে গণরায় অপরিহার্য। তবে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরে দুর্নীতি প্রত্যাশিত মাত্রায় কমেনি। ৫ আগস্টের পর থেকেই মাঠপর্যায়ে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরেও অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ না করাকে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে অফিস থেকে ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর সাংবাদিকদের সেনা সদস্যদের মাধ্যমে তুলে নেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানান ইফতেখারুজ্জামান। বলেন, ‘সংবাদে কোনো আপত্তি থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা সমাধান করা যেত। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় তুলে নেওয়া হলো, তা পুরো গণমাধ্যমের জন্য অশনিসংকেত। পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও প্রক্রিয়াটি নিন্দনীয়। সেনাবাহিনীর এমন আচরণ মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য হুমকি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, তফসিলের পর সরকারি কর্মচারীরা আইনত ইসির আওতাধীন। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারি কর্মচারীদের প্রচার যৌক্তিক হলেও, সরকার ইসির সম্মতি না নিয়ে নির্দেশনা দিয়ে এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নিষ্প্রয়োজনীয় ও বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে।
এতে বলা হয়, সরকারের প্রচার শুরুর ১৮ দিন পর সরকারি কর্মচারীদের গণভোটের পক্ষে প্রচার সম্পর্কে ইসি যে নির্দেশনা দিয়েছিল, তা সুচিন্তিত ও আইনসম্মত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ২(৭) অনুযায়ী, গণভোটকে নির্বাচনের সমার্থক বিবেচনার সুযোগ নেই। অথচ ইসির নির্দেশনায় তা করা হয়েছে। সরকার ও ইসি— উভয়ে এই গণভোটকে বিতর্কিত করেছে এবং সুষ্ঠু ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদের ওপর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ রায় অর্জনের জন্য সরকারের ভূমিকা পালনে ইসির একমত হওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। এনজিও, ব্যাংকসহ বিভিন্ন অংশীজনের ওপর অযাচিতভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে সরকার নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ফলে গণভোটের অর্থায়ন ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে টিআইবি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ রাষ্ট্র সংস্কারের সুযোগ দেখছে।
নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে আস্থার সংকট ও সক্ষমতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়ম প্রতিরোধে কমিশনের সক্ষমতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অনলাইন ও অফলাইন প্রচারে আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘন হলেও কমিশন তা প্রতিরোধে অনেকটা অপারগ।
উদ্বেগের বিষয় হলো, কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী ১৪ হাজার সংবাদকর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য কিছু সময়ের জন্য ফাঁস হয়ে যায়। ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ পর্যবেক্ষকের মধ্যে নামসর্বস্ব ও দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, নির্বাচনের শুরুতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার লক্ষণ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা পুরোনো রাজনীতির চর্চায় ফিরে গেছে। দল ও জোটের মধ্যে সংঘাত এবং আন্তঃদলীয় কোন্দল বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনে অর্থ, ধর্ম, পেশীশক্তি এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ব্যবহার বেড়েছে। প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের মধ্যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীই কোনো না কোনোভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে মনে করে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যানবাহনসহ মিছিল, মশাল মিছিল এবং শো-ডাউন নিষিদ্ধ থাকলেও কোনো না কোনো প্রার্থী তা করছেন। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার বা ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা বাং নষ্ট করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় পাঁচজনের বেশি সমর্থক নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।
নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে এবং একটি আসনে দুই দলের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। টিআইবি জানায়, যৌথ বাহিনীর অভিযান চললেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতি হয়েছে। ছিনতাই, রাহাজানি এবং মব অব্যাহত রয়েছে। তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মী ও প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় ইসির দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রার্থীদের আয়-ব্যয় এবং সম্পদের তথ্যে ব্যাপক গরমিল থাকা সত্ত্বেও তা সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। অন্তত ৪৫ ঋণগ্রস্ত প্রার্থী আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রার্থীরা ঋণের সামান্য অংশ পরিশোধ করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা আইনি হলেও অনৈতিক এবং ব্যাংক খাতের সুশাসনের পরিপন্থী। তবে নির্বাচিত হওয়ার পরও তথ্য গোপনের প্রমাণ মিললে পদ বাতিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্ব ও বিদেশে সম্পদ থাকার তথ্য গোপন করলেও অনেক প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আদালতের কারণে হয়তো নির্বাচন কমিশনের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং তাদের বিকল্প কিছু করার ছিল না।
নির্বাচনে অর্থের দাপট ও আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রার্থীরা নির্ধারিত ব্যয়সীমা ব্যাপকভাবে অতিক্রম করেছেন। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে টিআইবি জানায়, সীমা অতিক্রমকারী প্রার্থীদের গড়ে ১ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৩১০ টাকা ব্যয় করতে দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ টাকা দিচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং এবং সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের তালিকা সংগ্রহ করছে। সেই দলের হয়ে কাজ করার জন্য কর্মকর্তাদের অর্থ, বিবিধ সুবিধা এবং হুমকির মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক প্রচারে সুপ্ত ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজির তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে টিআইবি। প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বক্তব্য নির্বাচনী পরিবেশকে তিক্ত-উত্তপ্ত করে তুলেছে। এমনকি ‘নির্বাচনের পর দেখে নেওয়া’ এবং এলাকা থেকে বলপূর্বক বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটছে।
টিআইবির পর্যালোচনায় গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের প্রচার-সংক্রান্ত সংবাদ বেশির ভাগ গণমাধ্যমে কম গুরুত্ব পাচ্ছে। কাভারেজে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ছবি ও সংবাদের আধিক্য স্পষ্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি প্রচারমাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ও তাদের দলীয় প্রধানের কার্যক্রমকে অধিক কাভারেজ দিচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রচারে দৃশ্যমান সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারী ও অন্যান্য অংশীজনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষকরা দলীয় রাজনৈতিক প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।
প্রতিবেদনে টিআইবি ‘দুর্নীতিকে না বলুন, গণভোটে হ্যাঁ বলুন’ স্লোগানে জুলাই সনদের পক্ষে সমর্থন এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনবিরোধী অবস্থানে থাকলেও, তাদের অনুসারীরা ভোট দিতে আসবেন বলে ধারণা করছি।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে জুলাই সনদ সংবিধানের চার মূলনীতি বাতিল হবে— এমন প্রচার ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।
এ সময় ‘গণভোট ও প্রাক্-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। তাই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং এর পক্ষে গণরায় অপরিহার্য। তবে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরে দুর্নীতি প্রত্যাশিত মাত্রায় কমেনি। ৫ আগস্টের পর থেকেই মাঠপর্যায়ে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরেও অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ না করাকে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে অফিস থেকে ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর সাংবাদিকদের সেনা সদস্যদের মাধ্যমে তুলে নেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানান ইফতেখারুজ্জামান। বলেন, ‘সংবাদে কোনো আপত্তি থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা সমাধান করা যেত। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় তুলে নেওয়া হলো, তা পুরো গণমাধ্যমের জন্য অশনিসংকেত। পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও প্রক্রিয়াটি নিন্দনীয়। সেনাবাহিনীর এমন আচরণ মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য হুমকি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, তফসিলের পর সরকারি কর্মচারীরা আইনত ইসির আওতাধীন। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারি কর্মচারীদের প্রচার যৌক্তিক হলেও, সরকার ইসির সম্মতি না নিয়ে নির্দেশনা দিয়ে এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নিষ্প্রয়োজনীয় ও বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে।
এতে বলা হয়, সরকারের প্রচার শুরুর ১৮ দিন পর সরকারি কর্মচারীদের গণভোটের পক্ষে প্রচার সম্পর্কে ইসি যে নির্দেশনা দিয়েছিল, তা সুচিন্তিত ও আইনসম্মত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ২(৭) অনুযায়ী, গণভোটকে নির্বাচনের সমার্থক বিবেচনার সুযোগ নেই। অথচ ইসির নির্দেশনায় তা করা হয়েছে। সরকার ও ইসি— উভয়ে এই গণভোটকে বিতর্কিত করেছে এবং সুষ্ঠু ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদের ওপর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ রায় অর্জনের জন্য সরকারের ভূমিকা পালনে ইসির একমত হওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। এনজিও, ব্যাংকসহ বিভিন্ন অংশীজনের ওপর অযাচিতভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে সরকার নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ফলে গণভোটের অর্থায়ন ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে টিআইবি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ রাষ্ট্র সংস্কারের সুযোগ দেখছে।
নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে আস্থার সংকট ও সক্ষমতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়ম প্রতিরোধে কমিশনের সক্ষমতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অনলাইন ও অফলাইন প্রচারে আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘন হলেও কমিশন তা প্রতিরোধে অনেকটা অপারগ।
উদ্বেগের বিষয় হলো, কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী ১৪ হাজার সংবাদকর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য কিছু সময়ের জন্য ফাঁস হয়ে যায়। ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ পর্যবেক্ষকের মধ্যে নামসর্বস্ব ও দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, নির্বাচনের শুরুতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার লক্ষণ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা পুরোনো রাজনীতির চর্চায় ফিরে গেছে। দল ও জোটের মধ্যে সংঘাত এবং আন্তঃদলীয় কোন্দল বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনে অর্থ, ধর্ম, পেশীশক্তি এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ব্যবহার বেড়েছে। প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের মধ্যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীই কোনো না কোনোভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে মনে করে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যানবাহনসহ মিছিল, মশাল মিছিল এবং শো-ডাউন নিষিদ্ধ থাকলেও কোনো না কোনো প্রার্থী তা করছেন। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার বা ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা বাং নষ্ট করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় পাঁচজনের বেশি সমর্থক নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।
নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে এবং একটি আসনে দুই দলের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। টিআইবি জানায়, যৌথ বাহিনীর অভিযান চললেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতি হয়েছে। ছিনতাই, রাহাজানি এবং মব অব্যাহত রয়েছে। তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মী ও প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় ইসির দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রার্থীদের আয়-ব্যয় এবং সম্পদের তথ্যে ব্যাপক গরমিল থাকা সত্ত্বেও তা সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। অন্তত ৪৫ ঋণগ্রস্ত প্রার্থী আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রার্থীরা ঋণের সামান্য অংশ পরিশোধ করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা আইনি হলেও অনৈতিক এবং ব্যাংক খাতের সুশাসনের পরিপন্থী। তবে নির্বাচিত হওয়ার পরও তথ্য গোপনের প্রমাণ মিললে পদ বাতিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্ব ও বিদেশে সম্পদ থাকার তথ্য গোপন করলেও অনেক প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আদালতের কারণে হয়তো নির্বাচন কমিশনের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং তাদের বিকল্প কিছু করার ছিল না।
নির্বাচনে অর্থের দাপট ও আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রার্থীরা নির্ধারিত ব্যয়সীমা ব্যাপকভাবে অতিক্রম করেছেন। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে টিআইবি জানায়, সীমা অতিক্রমকারী প্রার্থীদের গড়ে ১ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৩১০ টাকা ব্যয় করতে দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ টাকা দিচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং এবং সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের তালিকা সংগ্রহ করছে। সেই দলের হয়ে কাজ করার জন্য কর্মকর্তাদের অর্থ, বিবিধ সুবিধা এবং হুমকির মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক প্রচারে সুপ্ত ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজির তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে টিআইবি। প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বক্তব্য নির্বাচনী পরিবেশকে তিক্ত-উত্তপ্ত করে তুলেছে। এমনকি ‘নির্বাচনের পর দেখে নেওয়া’ এবং এলাকা থেকে বলপূর্বক বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটছে।
টিআইবির পর্যালোচনায় গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের প্রচার-সংক্রান্ত সংবাদ বেশির ভাগ গণমাধ্যমে কম গুরুত্ব পাচ্ছে। কাভারেজে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ছবি ও সংবাদের আধিক্য স্পষ্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি প্রচারমাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ও তাদের দলীয় প্রধানের কার্যক্রমকে অধিক কাভারেজ দিচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রচারে দৃশ্যমান সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারী ও অন্যান্য অংশীজনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষকরা দলীয় রাজনৈতিক প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।
প্রতিবেদনে টিআইবি ‘দুর্নীতিকে না বলুন, গণভোটে হ্যাঁ বলুন’ স্লোগানে জুলাই সনদের পক্ষে সমর্থন এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনবিরোধী অবস্থানে থাকলেও, তাদের অনুসারীরা ভোট দিতে আসবেন বলে ধারণা করছি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ হয়েছে। গত বছরের ৫ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ডিসেম্বরে লিখিত পরীক্ষা হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা শেষে এ নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো।
১ ঘণ্টা আগে
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, র্যাব গঠনের আগে অপারেশন ক্লিন হার্টে অনেক হত্যাকাণ্ড হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদেই হার্ট অ্যাটাকে ১২ জন মারা গেছেন। পরে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
৪ ঘণ্টা আগে
নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলাম, তাঁর স্বামী ও ছেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
৫ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ ১৫ মাস অকার্যকর থাকার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে নতুন চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আরও চারজন।
৬ ঘণ্টা আগে